বালাপরা হাত দুটি স্বপ্নে জ্বলে
স্বপ্নে তবে তুমি এসেছিলে?
ওহে ভদ্রে, তোমার মৃণালবাহু
দূর থেকে, মর্মরিত, স্পর্শ দিয়েছিল!
বাসনা-সুন্দর কত অপ্সরার প্রেমের মতন তুমি
ফুটে থাকো সীমান্তের ওপারে-এপারে
অন্য কোনো দেশ থেকে, অন্য নদীর তীরে বসে
ঈষত্-বাঁকানো এক জাফরান-গ্রীবা নেড়ে ধীরে
কামনা রাঙিয়ে তোলো; আর
কত-কত প্রেমিকের নিদমহলের জানালায়
ক্রমাগত পাঠাও নিশ্বাস, ঘ্রাণ, ছদ্মরতি, গোপন চুম্বন;
আন্তর্জাল ঘুঘুদের পায়ে বেঁধে ইউনিকোডে পাঠাও অক্ষর!
সভেঁপু জাহাজগুলি অনেক সমুদ্র-ঢেউ, ফিসফাস,
সিমেন্ট ক্লিংকারসহ নানাবিধ পণ্যসহ
তোমার ইশারা নিয়ে চলাচল করে
যেনবা গর্ভিনী তারা—ফোলা—ভারী রাত্রে এসে
পোতাশ্রয়ে খানিক জিরায়
জাহাজের বিটুমিন-মাখা তলপেট
নোনা ঢেউয়ে দোলনার মতো দুলে ওঠে
তুমি আর তোমার প্রেমিক শুধু শান্ত হয়ে দ্যাখো অপলক;
অযুত সীমান্তরক্ষী, কাঁটাতার, রক্তঝরা, গুলিটুলি, পতাকা-বৈঠক
রাষ্ট্রের বিকারে কত ছিন্নভিন্ন শান্ত ঘুঘুবন;
তোমাকে রয়েছে ঘিরে মেঘ-স্বপ্ন-হাওয়ারোধী
নিষেধ, প্রাকার, কারাগার!
মন তবু উড়ে চলে সপ্ত অশ্বে, অসীম ডানায়!
পুরুষের-রমণীর আশ্চর্য দেহের ভাঁপ
হয়ে ওঠে ক্রমে শক্তিমান;
সীমান্তরক্ষীর চোখ ফাঁকি দিয়ে
দূরত্ব জ্বালিয়ে দিয়ে তারা
কাঁটাতার একে একে পার হয়ে যায়।
তাদের কামনা তাই সারারাত দুই পাড়ে
চুমুর গোলাপ আর আশ্চর্য বৃষ্টি ঝরায়
তুমি তাকে পাও, আর, গান্ধর্ব নিয়মে
কাচের চুড়ির শব্দে তোমাকে ঠিকই পায়
ভিনদেশি পাগল প্রেমিক।
