দেশের অভ্যন্তরে চাহিদা বাড়ার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চায়ের উত্পাদন না বাড়ায় চা রফতানি ব্যাপকভাবে কমে গেছে। তবে দেশে চা উত্পাদন এবং রফতানিতে বড় ধরনের সম্ভাবনা রয়েছে। এ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হলে এ খাতে বড় ধরনের বিনিয়োগ প্রয়োজন। চা শিল্পের সমস্যা ও করণীয় শীর্ষক এক সেমিনারে চা বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. আবদুস সালাম খান এসব কথা বলেন। গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) আয়োজিত সেমিনারে সংস্থাটির গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান মুন্সি ফায়েজ আহমেদের সভাপতিত্বে এ সময় উপস্থিত ছিলেন টি অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি শাহ আলম, সদস্য নূরুল আলম এবং কাজী অ্যান্ড কাজী ইন্ডাস্ট্রির সিইও শোয়েব আহমেদ প্রমুখ।
সেমিনারে বিআইআইএসএস’র সিনিয়র রিসার্চ ফেলো এম জসিমউদ্দিন প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে বলেন, দেশের অভ্যন্তরে চায়ের চাহিদা বাড়ছে ৫ দশমিক ৬০ শতাংশ হারে। অথচ উত্পাদন বাড়ছে খুবই কম হারে। তাই অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর পর রফতানির পরিমাণ খুব কমে গেছে। ২০০০ সালে যেখানে চা রফতানি হয়েছে ১৮ দশমিক ১০ মিলিয়ন কেজি, সেখানে ২০১১ সালে রফতানি হয়েছে মাত্র ১ দশমিক ৪৭ মিলিয়ন কেজি।
চা বোর্ডের চেয়ারম্যান আবদুস সালাম প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশের বেশিরভাগ চা বাগানই ৫০-৬০ বছরের পুরোনো। তাছাড়া আবাদকৃত জমির প্রায় ১৬ শতাংশ অনুর্বর হয়ে পড়েছে। ফলে এসব বাগানে উত্পাদন কম হচ্ছে। তাছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেও উত্পাদনের পরিমাণ কিছুটা কমেছে। এ অবস্থায় নতুন চারা রোপণ ও সেচ সুবিধা বাড়ানোর জন্য বড় ধরনের বিনিয়োগ প্রয়োজন। তিনি বলেন, দেশের চা শিল্পের উন্নয়নে ৫ বছর মেয়াদি একটি পরিকল্পনা করা হয়েছে। যেখানে ২০৫ কোটি টাকার একটি তহবিল সরকারের কাছে চাওয়া হয়েছে। এটি পাওয়া গেলে চা শিল্পে বড় ধরনের উন্নয়ন সম্ভব। প্রকল্পের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অর্থ মন্ত্রণালয় বর্তমানে এ প্রকল্পগুলো বিবেচনা করছে।
