দেখা হয় নাই

আপডেট : ১৮ এপ্রিল ২০১৩, ২০:২২
হার্ডিঞ্জ ব্রিজ শুধুমাত্র বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রেলসেতু হিসেবেই নয় বরং ইতিহাসের নানা সময়ের সাক্ষী হওয়ার কারণেও ভ্রমণপিয়াসী অনেক মানুষের কাছে আলাদা একটি কদর রয়েছে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী ইউনিয়নে অবস্থিত হার্ডিঞ্জ ব্রিজের। ঈশ্বরদী উপজেলা থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার দক্ষিণে পদ্মা নদীর উপর অবস্থিত এই রেলসেতুটি নির্মিত হয় ১৯০৯ থেকে ১৯১৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে। এ ছাড়া বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে এটি একবার সংস্কার করা হয়। নির্মাণকালীন সময়ে ভারত উপমহাদেশের ভাইসরয় লর্ড হার্ডিঞ্জের নাম অনুসারেই এই ব্রিজের নাম রাখা হয় হার্ডিঞ্জ ব্রিজ। এই ব্রিজটির দৈর্ঘ্য ১,৭৯৮.৩২ মিটার বা ৫৯০০ ফুট এবং এই সেতুটির উপর দুটি ব্রডগেজ রেললাইন রয়েছে। ১৮৮৯ সালে তত্কালীন অবিভক্ত ভারত সরকার আসাম, ত্রিপুরা, নাগাল্যান্ড ও উত্তরবঙ্গের সাথে কলকাতার যোগাযোগ সহজতর করার লক্ষ্যে পদ্মা নদীর উপর ব্রিজ নির্মাণের প্রস্তাব করেন। পরবর্তীতে ১৯০৮ সালে ব্রিজ নির্মাণের মঞ্জুরী লাভের পর ব্রিটিশ প্রকৌশলী স্যার রবার্ট গেইল্স এই রেলসেতুটি নির্মাণের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সে অনুযায়ী ১৯০৯ সালে ব্রিজ নির্মাণের সার্ভে শুরু হয়। ১৯১০-১১ সালে পদ্মার দুই তীরে ব্রিজ রক্ষার বাঁধ নির্মাণ হয় এবং ১৯১২ সালে ব্রিজটির গাইড ব্যাংক নির্মাণের কাজ শুরু হয়। এর পাশাপাশি ব্রিজটির গার্ডার নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়। এরপর ব্রিজটির গার্ডার নির্মাণের জন্য কূপ খনন করা হয়। ২৪ হাজার শ্রমিক দীর্ঘ ৫ বছর অক্লান্ত পরিশ্রম করে ১৯১৫ সালে ব্রিজটির নির্মাণ কাজ শেষ করেন। সেতুটি নির্মাণে ব্যয় হয় তখনকার হিসেবে ৩ কোটি ৫১ লক্ষ ৩২ হাজার ১ শত ৬৪ টাকা। প্রায় ৫,৯০০ ফুট দীর্ঘ এই ব্রিজটিতে ১৫টি স্প্যান আছে এবং এটি ঈশ্বরদী ভেড়ামার সীমানায় পদ্মানদীর উপর অবস্থিত। ব্রিজটি দিয়ে শুধু ট্রেন চলাচল করে বলে বাংলাদেশ রেলওয়েই এই ব্রিজটির রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করে।