মোরেলগঞ্জে খাবার পানির তীব্র সংকট

আপডেট : ১৮ এপ্রিল ২০১৩, ২১:১৪
সিডর ও আইলায় ক্ষতিগ্রস্ত মোরেলগঞ্জ উপজেলার সর্বত্র এখন খাবার পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। প্রতিবছর শুষ্ক মৌসুমের শুরুতেই দেখা দেয় এ সংকট। উপজেলার ১৬টি ইউনিয়নসহ পৌর এলাকায় খাবার পানির এ সংকট বর্তমানে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। পাণীয় জলের জন্য সর্বত্র হাহাকার বিরাজ করছে। অপরদিকে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে নলকূপে আর্সেনিক, অকেজো নলকূপ, পিএসএফ পেন্ড স্যান্ড ফিল্টার এর কারণে এ সংকট আরো প্রকট হচ্ছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলা বিভিন্ন ইউনিয়নের অধিকাংশ সরকারি নলকূপ ও পিএসএফ অকেজো। পাশাপশি বেসরকারি সংস্থা ও ব্যক্তিগত পর্যায়ে নির্মিত শত শত নলকূপও অকেজো হয়ে পড়ে আছে। মোরেলগঞ্জ পৌর সদরে পানি সরবরাহের ব্যবস্থা না থাকায় পৌরবাসী বিশুদ্ধ পানির অভাবে দারুণ দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। উপজেলার ৩০৪ টি সরকারি-বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অধিকাংশতেই কোন টিউবওয়েল নাই। আর যেগুলোতে আছে তাও অকেজো অবস্থায় রয়েছে। খুচরা যন্ত্রাংশ ও তত্ত্বাবধানের অভাবে এসব নলকূপ অকেজো হয়ে পড়ে আছে। শত শত নলকূপের যন্ত্রাংশ ইতিপূর্বে চুরি হয়ে গেছে। একটি চোরাকারবারী চক্র এসব নলকূপের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ রাতের আঁধারে চুরি করে বিক্রি করছে। উপজেলার ১৬ টি ইউনিয়নে প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জিউধরা, নিশানবাড়ীয়া, খাউলিয়া, বলইবুনিয়াসহ অধিকাংশ ইউনিয়নে এ মৌসুমে পানিতে অতিরিক্ত লবণাক্তার কারণে পুকুরের পাণীয় জল পান করতে পারছে না এলাকাবাসী। অপরদিকে পুকুরের পানি শুকিয়ে যাবার কারণে প্রতিটি গ্রামের বাসিন্দারা দূর-দূরান্ত থেকে মাইলের পর মাইল পায়ে হেঁটে, নৌকায় চড়ে খাবার পানি সংগ্রহ করছে। অনেকে খোলা পুকুর, খাল ও নদী-নালার পানি পান করছে। সদর ইউনিয়ন ও পৌরবাসীকে খাবার পানির জন্য একমাত্র থানা পুকুরের পানির উপর নির্ভর করতে হচ্ছে। সেটিও বৃষ্টির অভাবে প্রায় শুকিয়ে গেছে।সকাল থেকে রাতভর এ পুকুর থেকে পানি নেয়া হচ্ছে। এছাড়াও পৌর সদরের কুঠিবাড়ি, এসএম কলেজ পুকুর থেকে ময়লাযুক্ত পানি হোটেল ও রেস্টুরেন্টে ব্যবহার করা হচ্ছে। এ কারণে পেটেরপীড়াসহ পানিবাহিত বিভিন্ন রোগে ভুগছে শিশুসহ লোকজন। বিশুদ্ধ পানির অভাবে মোরেলগঞ্জ সদর হাসপাতালের রোগীদের মধ্যে হাহাকার চলছে। হাসপাতালের একটি পুকুর শুকনো, পিএসএফ নষ্ট। রোগীদের একমাত্র ভরসা নদীর পানি। নদীর দুষিত পানি পান করে তারা আরো রোগাগ্রস্ত হচ্ছেন বলে রোগীরা জানান। উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী অমল কান্তি রায় জানান, উপজেলার ১৬ ইউনিয়নের সরকারিভাবে ৪৮ টি ও বেসরকারিভাবে ১৬ শ’ পাণীয় জলের পুকুর রয়েছে। পিএসএফ রয়েছে ৭৬০। এর মধ্যে ২৬০ টি চালু রয়েছে । অকেজো রয়েছে ৫ শতাধিক। ১০টি গভীর নলকূপের মধ্যে জিউধরা ইউনিয়নে একটি চালু রয়েছে। রেইন ওয়াটার হারবেস্ট্রিং প¬ান রয়েছে ৮০ টি। সদর ইউনিয়নের ভাইজোড়া গ্রামে চালু রয়েছে একটি রিংওয়েল (পাত কূয়া)। স্যালো টিউবওয়েল রয়েছে ৩ হাজার ৬শ’ ৭০ টি। ১০ বছর পূর্বের জরিপ অনুযায়ী স্যালো টিউবওয়েল অকেজো রয়েছে ২ হাজার। পঞ্চকরণ ইউনিয়নে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল¬ান্ট স্থাপনের কথা থাকলেও তার কোন হদিস নাই। উপজেলার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী আরো জানান, ১৬ ইউনিয়নে আর্সেনিক জরিপ কার্যক্রম চলছে। এ জরিপ শেষ হতে মে মাস পর্যন্ত সময় লাগবে। ২০০৩ সালের আর্সেনিক জরিপ অনুযায়ী উপজেলার সব ইউনিয়নে কম বেশি আর্সেনিক চিহূিত টিউবওয়েলও রয়েছে। তবে বনগ্রাম ,হোগলাবুনিয়া, হোগলাপাশা ইউনিয়নের আর্সেনিক চিহ্নিত টিউবওয়েল রয়েছে সবচেয়ে বেশি ফলে ভয়ানক আর্সেনিক ঝুঁকিতে রয়েছে এ অঞ্চল। তবে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী দপ্তরের হিসাবের সাথে বাস্তবতার কোন মিল নাই। উপজেলার ইউনিয়নগুলোতে মাইলের পর মাইল হাটলেও দু’একটি ছাড়া কোন সচল টিউবওয়েল দেখা যাবে না। পৌর সদরের চিত্র একই। যেসব টিউবওয়েল সচল রয়েছে থালা বাসন ধোয়া ছাড়া সেগুলোর পানি পানের একেবারে অযোগ্য।