হারারেতে ছেলেটি যখন ব্যাট করছে, বাবা তখন কলম্বো সফর করছেন ইংল্যান্ডের একটা যুব দলের হয়ে। ছেলের খেলা দেখছিলেন তিনি? দেখুন আর নাই দেখুন, ছেলে যখন টেস্ট ফিফটি করে ব্যাট উঁচু করল; বাবা নিশ্চয়ই আরেকবার উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠেছিলেন।
যে কোনো বাবাই তার ছেলের সাফল্যে উচ্ছ্বসিত হবেন। আর বাবা নিজেও যদি সাবেক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার হন; তার আনন্দটা একটু বেশি হবে ছেলের কীর্তি দেখে। কিন্তু এই বাবার জন্য ব্যাপারটা শুধু আনন্দ বা উচ্ছ্বাসের নয়; স্বস্তিরও। কারণ, ছেলে তার হারারের এই টেস্ট ফিফটি দিয়ে জাতীয় দলে নিজের জায়গাটা আরও পাকা করল। আর ছেলেটির জায়গা পাকা হওয়াতে ক্রিকেটপ্রেমীরাও একটু আনন্দ পেতে পারেন।
কারণ, এই বাবা-ছেলের ভেতর দিয়ে ক্রিকেট দুনিয়াও পেতে যাচ্ছে এক ‘মালদিনি’ পরিবার। ক্রিকেটে আসছেন ওয়ালার-জুটি; বাবা অ্যান্ডি ওয়ালার ও ছেলে ম্যালকম ওয়ালার।
হারারে টেস্টের প্রথম দিনেই ফিফটি করেছেন ছেলে ম্যালকম। অবশ্য জিম্বাবুয়ের কাউকে নিয়ে আলোচনা করতে গেলে সেটা ব্রেন্ডন টেলরকে নিয়ে করতে হয়। তার ক্যারিয়ার সেরা অসীম ধৈর্য্যশীল ১৭১ রানের ইনিংসে ভর করেই না জিম্বাবুয়ে ৩৮৯ রান করল প্রথম ইনিংসে। বাংলাদেশের হয়ে রবিউল ও এনামুল ৩টি করে এবং রুবেল ও সোহাগ ২টি করে উইকেট নিয়েও বাংলাদেশকে চালকের আসনে রাখতে পারেননি।
ম্যাচের ফলাফল শেষ পর্যন্ত কী হবে; সেটা সময় বলবে। তবে এই ম্যাচের ভেতর দিয়ে জিম্বাবুয়ে ওই পিতা-পুত্রের জুটি দেখার সম্ভাবনা অন্তত আরও পাকা করল।
টেস্ট খেলা বাবা-ছেলের সংখ্যা গুণে শেষ করা যাবে না। বিশ্বের প্রায় প্রতিটি টেস্ট খেলুড়ে দেশে পিতা-পুত্র টেস্ট ক্রিকেটার পাওয়া যাবে। তিন প্রজন্মের টেস্ট খেলারও নজির আছে ক্রিকেটে। কিন্তু ক্রিকেটে বিরল একটা ব্যাপার হল জাতীয় দলে বাবা কোচ, ছেলে ক্রিকেটার।
যতোদূর জানা যায়, এ পর্যন্ত ক্রিকেট ইতিহাসে কোচ ও খেলোয়াড় ভূমিকায় একই সময়ে জাতীয় দলে থাকা একমাত্র পিতা-পুত্র জুটি হলেন মিকি স্টুয়ার্ট ও অ্যালেক স্টুয়ার্ট। অ্যালেকের অভিষেক টেস্টেই তার বাবা ছিলেন জাতীয় দলের কোচ। এর আগে পরে অনেক জুটির সম্ভাবনা তৈরি হলেও বাবা-ছেলের জাতীয় দলে দেখা হয়নি। কোনো বড় ধরনের দৈব দুর্বিপাক না ঘটলে আগামী ৩ মে থেকে শুরু হতে যাওয়া বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে ওয়ানডে সিরিজেই ক্রিকেট বিশ্ব দ্বিতীয়বারের মতো এই ঘটনা দেখবে। ওয়ানডে সিরিজ থেকে জিম্বাবুয়ে দলের দায়িত্ব নেবেন দেশটির সাবেক ওপেনার ও তারকা ব্যাটসম্যান অ্যান্ডি ওয়ালার। আর হারারেতেই টেস্ট ফিফটি করা এবং অভিষেকের পর থেকে দারুণ ধারাবাহিক পারফরম করা ম্যালকম ওয়ালারও দলে থাকছেন, এটা বলাই যায়। এখন নিশ্চয়ই বলে দিতে হবে না যে, ম্যালকম হলেন অ্যান্ডির ছেলে!
আশি ও নব্বইয়ের দশকে জিম্বাবুয়ে দলের নিয়মিত সদস্য অ্যান্ডি ২টি টেস্ট ও ৩৯টি ওয়ানডে খেলেছেন। ক্রিকইনফো লিখেছে, অ্যান্ডি তার প্রতিভা অনুযায়ী ক্যারিয়ারটা যথেষ্ট বড় করতে পারেননি ইনজুরির ধকলে। ছেলে ম্যালকম শুরুতে অন্তত বাবার দুঃখ ঘোচানোর পথে আছেন। এখন পর্যন্ত ২৭টি ওয়ানডে খেলে ৪টি ফিফটি তার হারারে পর্যন্ত পঞ্চম টেস্ট খেলে করে ফেলেছেন ২ ফিফটি।
এবার অপেক্ষা বাবা-ছেলের জুটি বাধার।
এই জুটি বাধার আগে বাবা অ্যান্ডি কী ভাবছেন, বোঝা যায়নি। তবে ছেলে ম্যালকম বলছেন, তিনি একটু মানসিক চাপে আছেন। ভারতীয় একটি পত্রিকাকে ম্যালকম এই টেস্ট শুরুর আগে বলছিলেন, আর দশ জনের চেয়ে তাকে বেশি ভালো খেলতে হবে। কারণ, খারাপ পারফরম্যান্স করে বাবাকে সমালোচনার পাত্র বানাতে চান না তিনি, ‘বাবা জাতীয় দলের কোচ হচ্ছেন, ওনাকে নিয়মিত কাছে পাবো; এটা বড় ব্যাপার। কিন্তু এর ফলে আমার ভালো করার চাপ বেড়ে যাবে। আমি ভালো না করলেই লোকে বলবে, কোচের ছেলে হিসেবে দলে খেলছে! বাবাও সে সুযোগ দেবেন না। উনি অল্পতেই আমাকে বাদ দিয়ে দেবেন বলে মনে হয়। ফলে আমাকে নিয়মিত পারফরম করতে হবে। জাতীয় দলে তো আমি তার ছেলে নই, খেলোয়াড় মাত্র।’
