‘হে মহাভাগ ব্রহ্মপুত্র, হে লৌহিত্য আমার পাপ হরণ কর’ এ মন্ত্র উচ্চারণের মধ্যদিয়ে জগতের যাবতীয় সংকীর্ণতা ও পঙ্কিলতার আবরণে ঘেরা জীবন থেকে পাপমুক্তির বাসনায় লাখ লাখ হিন্দু পুণ্যার্থী ব্রহ্মপুত্র নদে অষ্টমী স্নান করেছেন। বুধবার দিনগত রাত ২টা ৭ মিনিট ২ সেকেন্ড থেকে তিথি শুরু হওয়া মাত্র পুণ্যার্থী এ মন্ত্র পাঠ করে স্নান শুরু করেন। হিন্দুদের বিশ্বাস, এ মন্ত্র পাঠ করে ব্রহ্মপুত্র নদে স্নান করলে সব পাপ মুক্ত হয়ে আশাতীত পুণ্য সঞ্চয় হয়। মন্দিরগুলোতে ভক্তিমূলক গান, বাধ্য বাজনা আর আনন্দ-উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে অষ্টমী স্নানে অংশ নেন পুণ্যার্থীরা। চৈত্র মাসের অষ্টম তিথিতে পবিত্র নদ ব্রহ্মপুত্রে মন্ত্র পাঠপূর্বক নিজ নিজ ইচ্ছা অনুযায়ী ফুল, বেলপাতা, ধান, দুর্বা, হরিতকী, ডাব ইত্যাদি দিয়ে পিতৃকূলের তর্পণ করা হয়।
স্নান উপলক্ষে বুধবার রাত থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে হাজার হাজার পুণ্যার্থী ব্রহ্মপুত্র নদ এলাকায় ভিড় করতে থাকেন। রাত ২টার আগেই বিভিন্ন বয়সী হাজার হাজার নারী-পুরুষ বন্দর উপজেলার লাঙ্গলবন্ধ থেকে সাবদি পর্যন্ত প্রায় কয়েক কিলোমিটার জুড়ে ব্রহ্মপুত্র নদের ১৪টি ঘাটে জড়ো হন। লগ্ন শুরুর পরেই শুরু হয় স্নান। কে কার আগে স্নান করবেন তা নিয়ে রীতিমত প্রতিযোগিতায় নামেন পুণ্যার্থীরা। তবে বৃহস্পতিবার সকালে মানুষের ঢল নামে। লগ্ন শেষ হয় বৃহস্পতিবার রাত ৩টায়। এ সময়ের মধ্যে পুণ্যার্থীরা স্নান শেষ করেন। তিথি শুরুর আগে থেকেই দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পুণ্যার্থীরা লাঙ্গলবন্দে এসে জড়ো হন। অষ্টমীর স্নানে লাঙ্গলবন্দে আগত পুণ্যার্থীদের জন্য তৈরি করা হয়েছিল বিশেষ ক্যাম্প। সেখানে পুণ্যার্থীদের বিশ্রামের ব্যবস্থা, প্রসাদ বিতরণ, শিশুদের জন্য বিনামূল্যে দুগ্ধ বিতরণ, স্নান শেষে তীর্থস্থানে আগত নারীদের পোশাক পরিবর্তনের ব্যবস্থা করা হয়। এছাড়া রাখা হয় বিশুদ্ধ খাবার পানির ব্যবস্থা। নারায়ণগঞ্জ সিভিল সার্জনের পক্ষ থেকে আগত পুণ্যার্থীদের জন্য ফ্রি চিকিত্সা প্রদানে বসানো হয় দু’টি মেডিক্যাল টিম।
নারায়ণগঞ্জস্থ প্রবাসী কুমিল্লা বাড়ৈজীবী বহুমুখী সমবায় লিমিটেড, সাধু নাগ মহাশয় যুব সেবা সংঘ, শ্রী শ্রী পরেশ মহাত্মা স্বদেশব্যাপী জনকল্যাণ সংস্থা, লাঙ্গলবন্দ অষ্টমী স্নান জনকল্যাণ সমিতি, সাবদী দীঘলদী যোগমায়া সেবাশ্রম, ১ নং ঢাকেশ্বরী টিন লাইন ও বনগুন মিলন সংঘ, নারায়ণগঞ্জ সেবক সম্মেলন, আনন্দ আশ্রম নবীনগর বি বাড়িয়া, শ্রী গুরু সেবা সংঘ, বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু সমাজ সংস্কার সমিতি, নারায়ণগঞ্জ সেবক সমিতি, ইসদাইর সার্বজনীন পূজা উদযাপন কমিটি, শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকুল চন্দ্র সত্সঙ্গ, শ্রী শ্রী গৌর বিষ্ণু প্রিয়া সেবা সংঘ, শ্রী শ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারী আশ্রম স্বামীবাগ ও লাঙ্গলবন্দ স্নান উত্সব উদযাপন কমিটি এসব ক্যাম্প পরিচালনা করেন। সরকারিভাবে গঠিত স্নানোত্সব ব্যবস্থাপনা কমিটির আহ্বায়ক জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মেরাজ হোসেন জানান, গত বছর লাঙ্গলবন্দে প্রায় ২৫ লাখ মানুষের সমাগম ঘটেছিল। এবছর সে রকমই বা তার বেশি সমাগম হবে।
