ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা, লাউতলা, ঘিঘাটি ও কোলা গ্রামের অনেক পরিবার পতিত জমিতে বাণিজ্যিকভাবে গাঁদা, রজনীগন্ধা, গোলাপ, কালার ষ্টিক ফুল চাষ করে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়েছেন। চাষ করা ফুলের দৃশ্য দেখলে চোখ জুড়িয়ে যায় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
সরেজমিন সূত্রে জানা যায়, অন্য ফসলের সাথে সাথী ফসল হিসাবে ফুলচাষ করায় লাভ হয় দ্বিগুণ। ফুল লাগানো থেকে শুরু করে বাজারে বিক্রির উপযোগী করতে মহিলা শ্রমিকরাই বেশি কাজ করে থাকেন। এর ফলে গ্রামগুলোতে মেয়েদেরও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়াও গ্রামের দরিদ্র মহিলারা ফুলের ঝোঁপা তৈরি করে তাদের সংসার চালাচ্ছেন। এ অঞ্চলের উত্পাদিত ফুল জাতীয় ও বিশেষ দিনসহ প্রতিদিন ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন জেলা শহরে যায়। তবে ফুল সংরক্ষণের কোন ব্যবস্থা না থাকায় ফুল চাষীরা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে জানা যায়। পৃষ্ঠা ২ কলাম ৭
কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোশারফ হোসেন জানান, এ বছর ৩২০ হেক্টর জমিতে ফুলের চাষ করা হয়েছে। উত্পাদন খরচ কম অথচ লাভ বেশি হওয়ার ফলে দিন দিন ফুল চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ১৯৯০ সালের দিকে বালিয়াডাঙ্গার ৪-৫ জন কৃষক শখ করে ফুল চাষ করেন। এরপর এই ফুল চাষ লাভজনক বুঝতে পেরে ২০০০ সাল থেকে এ অঞ্চলের কৃষকরা বাণিজ্যিকভাবে ফুল চাষ শুরু করেন। কোলা গ্রামের ফুল চাষী আতিয়ার রহমান জানান, এ বছরও তিনি সাড়ে ১২ বিঘা জমিতে বিভিন্ন ধরনের ফুল চাষ করেছেন। বাজার ও আবহাওয়া ভালো থাকলে প্রতি বিঘা ফুল থেকে কমপক্ষে ৮০-৯০ হাজার টাকা লাভ হবে বলে তিনি আশা করছেন। একাধিক ফুল চাষীদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, বছরের সব সময়ে তারা ফুল বিক্রি করে থাকেন। মুঠোফোনের মাধ্যমে তারা বিভাগীয় শহরগুলোতে ফুল বিক্রি করেন। মোবাইল ব্যাংকের মাধ্যমে তাদের টাকা লেনদেন হয়। ফুল বিক্রির জন্য তাদের কোথাও যেতে হয় না।
ফুল চাষীরা অভিযোগ করে বলেন, উপজেলায় বাণিজ্যিকভাবে ফুল চাষ শুরু হলেও সরকারিভাবে তেমন কোন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেই। ২-১টি এনজিও প্রশিক্ষণ দিলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট নয়। সরকার পৃষ্ঠপোষকতা করলে এখানে উত্পাদিত ফুল বিদেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব বলে ফুল চাষীদের নেতা কমরেড তোজাম্মেল হক জানান।
