সাগরে ডুবে গেছে ১৩ মাছ ধরার ট্রলার

আপডেট : ১৮ এপ্রিল ২০১৩, ২২:২৮
কক্সবাজার উপকূলের কাছাকাছি সাগরের বিভিন্ন স্থানে ঝড়ো হাওয়ার কবলে পড়ে মঙ্গলবার সকাল থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত অন্তত ১৩টি মাছ ধরার ট্রলার মাঝি-মাল্লাসহ ডুবে গেছে। এ ঘটনায় গতকাল বিকাল পর্যন্ত ৭৬ জেলেকে সাগর থেকে ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনও নিখোঁজ রয়েছে শতাধিক জেলে। নিখোঁজদের সন্ধানে সাগরে চারটি উদ্ধারকারী ট্রলার পাঠানো হয়েছে। এদিকে জেলা আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, সাগরে আরো ঝড়ো হাওয়ার আশঙ্কায় কক্সবাজার, চট্টগ্রাম ও মংলা সমুদ্র বন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত জারি রয়েছে। এরই মাঝে বৃহস্পতিবার ভোরে নাজিরারটেক ও সোনাদিয়ার মাঝামাঝি এলাকায় দু’টি ট্রলারে ডাকাতির খবর পাওয়া গেছে। কক্সবাজার জেলা ফিশিং বোট মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মাস্টার মোস্তাক আহমদ ট্রলার ডুবির ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, ডুবে যাওয়া ট্রলারগুলোতে ৮ থেকে ১৭ জন পর্যন্ত মাঝি-মাল্লা ছিল। উদ্ধারকৃত জেলেদের মধ্যে রয়েছেন কক্সবাজার শহরের টেকপাড়ার আবদুল মাবুদের মালিকানাধীন এফবি কোহিনূরের ১৫ জন, পেশকার পাড়ার শওকতুল ইসলামের মালিকানাধীন এফবি শানিনের ৮ জন, একই এলাকার আবুবকর ছিদ্দিকের মালিকানাধীন এফবি ইসমার ৪ জন, শহরের বড় বাজারের মোহাম্মদ ইউনুছের মালিকানাধীন এফবি জন্নাতুল ফেরদৌসের ৫ জন, কুতুবদিয়ার উত্তর ধুরং-এর ছলিমউল্লাহ মেম্বারের মালিকানাধীন এফবি আল্লারদানের ৮ জন, এফবি গোল হায়দারের ১১ জন এবং এফবি শাহজাহানের ৮ জেলে। তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া ট্রলার ডুবির ঘটনায় জেলা সদরের বড় বাজারের মোহাম্মদ ইউনুছের মালিকানাধীন এফবি জন্নাতুল ফেরদৌসের ১০ জন, পেশকার পাড়ার শওকতুল ইসলামের মালিকানাধীন এফবি শানিনের ৬ জন, একই এলাকার আবুবকর ছিদ্দিকের মালিকানাধীন এফবি ইসমার ১০ জন, কুতুবদিয়ার ছলিমুল্লাহ মেম্বারের মালিকানাধীন এফবি আল্লাহর দানের ১ জন, মহেশখালীর কুতুবজোমের এফবি আল্লারদানের ১৬ জন এবং এফবি জারিনের ১৫ জেলেসহ শতাধিক মাঝি-মাল্লার গতকাল পর্যন্ত কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি। তবে তাদের সন্ধানে ব্যক্তিগত ব্যবস্থাপনায় সাগরে অন্তত চারটি উদ্ধারকারী ট্রলার পাঠানো হয়েছে বলে মোস্তাক আহমদ জানান। এদিকে বিরূপ আবহাওয়ার কারণে সাগর থেকে কুলে ফেরার পথে কক্সবাজার শহরের নাজিরারটেক ও সোনাদিয়া দ্বীপের মাঝামাঝি চরে আটকা পড়া এফবি হাসান ও এফবি মোবারকা নামের দু’টি ট্রলারে জলদস্যুরা হানা দিয়েছে বলে জানা গেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ভোর ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এফবি হাসানের মালিক পেশকারপাড়ার ফজল করিম সওদাগর জানান, সশস্ত্র ডাকাতরা ট্রলারের মাছ, জাল, ইঞ্জিনসহ প্রায় ১৫ লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে। পরে খবর পেয়ে কক্সবাজার থেকে ৫টি স্পীডবোটযোগে লোকজন গিয়ে সোনাদিয়া এলাকা থেকে ডাকাতদের একটি বোট আটক করে।