ইমামকে কটূক্তি করায় দ্বীপকে কোপানো হয়

আপডেট : ১৮ এপ্রিল ২০১৩, ২২:৩০
হেফাজতে ইসলামের লংমার্চের দিন খাবার দিয়ে সাহায্য করায় ক্যাম্পাসের এক ইমামকে কটূক্তি করেন আবু রায়হান দ্বীপ। তাই তাকে মারা আমার ঈমানি দায়িত্ব ছিল। এ কারণে তাকে ৯ এপ্রিল সকালে বুয়েটের নজরুল ইসলাম হলের ১১২ নম্বর কক্ষের বারান্দার সামনে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে পালিয়ে যাই। দ্বীপকে কোপানোর ব্যাপারে আমার বিন্দু মাত্র অনুশোচনা নেই। এ কথাগুলো বলছিলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৪র্থ বর্ষের ছাত্র মেজবাহ উদ্দিন মেজবাহ। গত বুধবার বিকালে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ বুয়েটের এমএ রশিদ হল থেকে তাকে গ্রেফতার করে। মেজবাহ’র চাপাতির কোপে গুরুতর আহত যন্ত্রকৌশল বিভাগের ৩য় বর্ষের ছাত্র ও বুয়েট ছাত্রলীগ আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আরিফ রহমান দ্বীপ বর্তমানে স্কয়ার হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে রয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে এক সাংবাদিক সম্মেলনে মেজবাহকে উপস্থিত করা হয়। সম্মেলনে গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার জাহাঙ্গীর হোসেন মতুব্বর জানান, ৯ এপ্রিল বেলা সাড়ে ১১টায় বুয়েটের নজরুল ইসলাম হলের ১১২ নম্বর কক্ষের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা দ্বীপকে মেজবাহ চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে শরিয়তপুরের নড়িয়ায় পালিয়ে যান। মেজবাহ ক্যাম্পাসে ফিরেছেন এমন তথ্যের ভিত্তিতে বুধবার বিকালে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। ঐ পুলিশ কর্মকর্তা আরো জানান, প্রত্যক্ষদর্শীদের মাধ্যমে পুলিশ জানতে পারে, হামলাকারী যুবক দাড়িওয়ালা ও তার পরনে পাঞ্জাবি ছিল। এছাড়া ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা একটি চাপাতি ও চাপাতি কেনার রশিদসহ কিছু আলামত উদ্ধার করে পুলিশ। এসব আলামতের সূত্র ধরে মেজবাহকে শনাক্ত করে গ্রেফতার করা হয়। তাকে বিকালে আদালতে হাজির করা হয় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়ার জন্য। আদালত সূত্র জানায়, মেজবাহ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। সম্মেলনে গ্রেফতারকৃত মেজবাহ জানান, তিনি ফরিদাবাদের হুজুর মুফতি মাওলানা আবু সাঈদের অনুসারী। দুই-তিন বছর আগে তিনি বলেছিলেন, ইসলামের ওপর আঘাত হেনে কেউ কথা বললে তার প্রতিবাদ করা মুসলমানদের ঈমানি দায়িত্ব। দ্বীপ হেফাজতে ইসলামের লংমার্চে অংশগ্রহণকারীদের পানি খাওয়ানোর জন্য একজন ইমামের কটূক্তি করেন। এ কারণে দ্বীপকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে ফেলতে তার ওপর ঈমানি দায়িত্ব নাজিল হয়। নিজেই পরিকল্পনা নেন দ্বীপকে হত্যা করার। এদিকে, মেজবাহ’র বোন আসমা খাতুনের স্বামী প্রকৌশলী আশরাফুজ্জামান সাংবাদিকদের জানান, সাবেক সরকারি কর্মকর্তা মফিজুর রহমানের ১৩ সন্তানের মধ্যে মেজবাহ নবম। চাঁদপুরের উত্তর মতলব থানার নয়ানগর গ্রামে তাদের বাড়ি। মফিজুর রহমানের সাত ছেলের মধ্যে চারজন প্রকৌশলী। তাদের দুজন এখন যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি করছেন। দুজন চিকিত্সাবিদ্যায় পড়ছেন। এ ছাড়া মেজবাহর ছয় বোনই স্নাতকোত্তর। ২০০৭ সালে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে মেজবাহ ভর্তি হয়। এরপর থেকে মেজবাহ নিয়মিত তাবলীগ জামায়াতে অংশ নিত। মাঝে মধ্যেই মেজবাহ ফরিদাবাদ মাদ্রাসার মাওলানা আবু সাইদের কাছে যেতো। এ বিষয়টি জানার পর তারা তাকে ঐ পথ থেকে সরানোর চেষ্টা করেন। মেজবাহ সেখানে না যাওয়ার কথাও দিয়েছিল। কিন্তু তাকে দিয়ে এ ধরনের জঘন্য কাজ কেউ ইন্ধন দিয়ে করিয়েছে বলে আশরাফুজ্জামান সাংবাদিকদের জানান।