প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপি-জামায়াত জোট যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষায় ফটিকছড়ির মতো নারকীয় ঘটনা আবারো ঘটাতে পারে। এজন্য তিনি দলীয় নেতাকর্মীসহ দেশবাসীকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য উন্মাদ হয়ে গেছে। তারা ক্ষমতার মোহে দেশব্যাপী গণবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত।
বৃহস্পতিবার দুপুরে গণভবনে পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় সূচনা বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী একথা বলেন। বিরোধী দলের নেতার উদ্দেশে তিনি বলেন, যতই ষড়যন্ত্র ও মানুষ হত্যা করেন না কেন যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে পারবেন না। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু হয়েছে। এ বিচার শেষ করে আমরা বাংলাদেশকে কলুষমুক্ত করবোই ইনশাল্লাহ।
মাদ্রাসার ছাত্র ও মসজিদকে কেউ যেন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে আর ব্যবহার করতে না পারে সেজন্য দেশবাসীকে সজাগ ও সচেতন হওয়ার অনুরোধ জানানোর পাশাপাশি দলের নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেক এলাকায় এলাকায় মসজিদ-মাদ্রাসার সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে হবে। মসজিদের মাইক, মাদ্রাসার ছাত্র ও ইমামদের কেউ যেন ব্যবহার করে ধ্বংসাত্মক কাজ করতে না পারে সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি বলেন, মসজিদের মাইক ব্যবহার করে আজান দিয়ে নামাজে যাওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়। সেই মসজিদের মাইককে বিএনপি-জামায়াত ব্যবহার করছে খুন-খারাবির কাজে।
দলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা যদি ঐক্যবদ্ধ থাকে, ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করে তাহলে কেউ আমাদের পরাজিত করতে পারবে না। নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে আগামী নির্বাচনেও বিজয়ী হয়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসবে।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, কাজী জাফর উল্লাহ, আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, মৃনাল কান্তি দাস, আফজাল হোসেন প্রমুখ।
প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা বক্তব্যের পর জেলার সাংগঠনিক রিপোর্ট পেশ করেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খান মোশারফ হোসেন। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ধর্মপ্রতিমন্ত্রী শাহজাহান মিয়াসহ জেলার অন্য নেতারা বক্তব্য রাখেন। সূত্র জানায়, মতবিনিময় সভায় পটুয়াখালি-৩ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম মওলা রনি কিছুদিন ধরে দলবিরোধী কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করে বক্তব্য দেন গলাচিপা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হারুনুর রশিদ। তিনি বলেন, তার (রনি) সঙ্গে দলীয় নেতাকর্মীদের কোনো সর্ম্পক নেই। সে একজন জনবিচ্ছিন্ন ব্যক্তি। এলাকায় যান না, নেতাকর্মীর কথা শোনেন না। এছাড়া তিনি দলের কোনো লোকও নন। আগামীতে তাকে দলীয় মনোনয়ন দিলে দলের ভরাডুবি হবে। এ আসনে প্রয়োজনে দলীয় সভানেত্রীকে নির্বাচন করারও দাবি জানান তিনি। জানা গেছে, তৃণমূল নেতাদের বক্তব্য মনোযোগ সহকারে শুনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সবার আমলনামা আমার কাছে রয়েছে। আগামী নির্বাচনে এসব আমলনামা দেখেই মনোনয়ন দেয়া হবে। এ সময় তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দলের কাজ করার অনুরোধ জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ জনগণের সেবা করে। আর বিএনপি জনগণের অর্থ লুটপাট করে। বিরোধী দলীয় নেত্রী ক্ষমতায় থাকতে জরিমানা দিয়ে কালো টাকা সাদা করেন। তার ছেলেরা অর্থ লুটপাট করে বিদেশে পাচার করে। নিজেরা ক্ষমতায় থাকতে জনগণের টাকা চুরি করে খায়, দামি গাড়ি কেনে ঘুরে বেড়ায়। প্রশ্ন রেখে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিরোধী দলের নেত্রীর ছেলেরা যে দামি দামি গাড়ি কিনেছিলেন, টাকা পেলো কোথায়? ভাঙ্গা সুটকেস কি জাদুর বাক্স হয়ে গেছে?
শেখ হাসিনা বলেন, দেশের গরীব মানুষ ভাল থাকলে অনেকের ভাল লাগে না। আমাদের বিরোধী দলীয় নেত্রীরও ভাল লাগছে না। উনি ক্ষমতায় থাকলে তার পরিবার লুটপাট করবে- এটাই তিনি চান। দেশের গরীব মানুষ খাক, আর না খাক, তাতে বিরোধী দলীয় নেত্রীর কোনো সমস্যা নেই। ক্ষমতার জন্যই ওনার (খালেদা জিয়া) রাজনীতি। আর আমরা গরীব মানুষের জন্য রাজনীতি করি। দেশের মানুষ ভাল থাকবে, শান্তিতে থাকবে এটাই আমাদের রাজনীতি।
তিনি বলেন, ফটিকছড়িতে আওয়ামী লীগের মিছিলে যেভাবে হামলা করে কুপিয়ে-পিটিয়ে মানুষ হত্যা করা হলো- এটাকে শুধু পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরতার সঙ্গেই তুলনা করা যায়। এ ধরনের ঘটনা তারা আবারও ঘটাতে পারে। যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতেই বিএনপি-জামায়াত সারাদেশে এমন গণবিরোধী কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ক্ষমতায় আসার আগে সারাদেশে বিদ্যুতের হাহাকার ছিল। আমরা ক্ষমতায় এসে এ সমস্যার সমাধান করেছি।
এছাড়া মতবিনিময় সভায় দক্ষিণাঞ্চলে জাহাজ নির্মাণ ও জাহাজ ভাঙ্গা শিল্প, একটি নৌ ঘাঁটি, একটি নৌবন্দর নির্মাণ করাসহ আবারো এ অঞ্চলকে দেশের শস্য ভাণ্ডারে রূপ দিতে পটুয়াখালীবাসীসহ দেশের জনগণের ধারাবাহিক উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে আগামী নির্বাচনে দেশবাসীর আবরও সমর্থন চান আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।
