ব্রিটিশ পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সাইয়িদা ওয়ার্সি বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রক্রিয়া ন্যায়সঙ্গত হবার ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন, এই বিচার উপযুক্ত মান ও প্রক্রিয়া মেনে হওয়া দরকার। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ঘটনা প্রবাহের উপর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে প্রশ্নোত্তর পর্বে যোগ দেন ব্রিটিশ প্রতিমন্ত্রী সাইয়েদা ওয়ার্সি। তিনি বিভিন্ন ইস্যুতে অসংখ্য প্রশ্নের জবাব দেন।
প্রশ্নোত্তরে প্রতিমন্ত্রী ওয়ার্সি বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্য একে অপরের ঘনিষ্ঠ অংশীদার। যুক্তরাজ্য বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় বিনিয়োগকারী দেশ। দু’দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কও বেশ শক্তিশালী। সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ বা প্রতিবাদকে আমরা সমর্থন করি। আইনানুগ প্রতিবাদে সহিংসতা ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের কোন স্থান নেই। হরতাল অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলে। ইন্টারনেটের মাধ্যমে মত প্রকাশের স্বাধীনতা গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের মূল কথা। কিন্তু সহিংসতা, বিদ্বেষ বা ঘৃণা উস্কে দেয়ার জন্য তা কখনোই ব্যবহার করা উচিত নয়। যুক্তরাজ্যের মানবাধিকার নীতি কখনোই নির্যাতন বা নিপীড়নকে সমর্থন করে না। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশে কার্যকর সংসদ এবং সেই সঙ্গে স্বাধীন ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান দরকার। কার্যকর সংসদই সব বিতর্কের কেন্দ্র হতে পারে। যুক্তরাজ্য বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনকে আর্থিক ও কারিগরিভাবে সহায়তা করছে। এখন বাংলাদেশে যা দরকার তা হল সহিংসতা বন্ধ করে গঠনমূলক রাজনৈতিক সংলাপের জন্য পরিবেশ সৃষ্টি করা। আইনের শাসনের প্রতি সবাইকে শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। গণতন্ত্রের জন্য অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অপরিহার্য। সম্প্রতি গণমাধ্যমের কর্মীদের গ্রেফতারের ঘটনায় নীরব নই, আমরা ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। গ্রেফতারকৃতদের আইন অনুযায়ী সুযোগ গ্রহণের ব্যবস্থা দিতে হবে। কারণ গণমাধ্যমের স্বাধীনতা গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের মূল উপাদান।
প্রশ্নোত্তরে ব্রিটিশ প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, যুক্তরাজ্যে আর্থিক সাহায্য বাংলাদেশের দরিদ্রতম জনগোষ্ঠীর জন্যই দেয়া হয়। আগামী ২০১৫ সালের মধ্যে ১৫ লাখ লোককে চরম দারিদ্র্য সীমা থেকে মুক্ত করা হবে।
