৫ মে’র ঢাকা অবরোধ নিয়ে কঠোর অবস্থানে হেফাজত

আপডেট : ১৮ এপ্রিল ২০১৩, ২২:৩৯
৫ মে ঢাকা ঘেরাও কর্মসূচির ব্যাপারে অনড় অবস্থানে থেকে প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছে হেফাজতে ইসলাম। সংগঠনটির শীর্ষ নেতারা জানান, সরকারের কথার সাথে কাজের সমন্বয় নেই। সরকার সময়ক্ষেপণের পথ বেছে নিয়েছে। কিন্তু সরকারের ফাঁদে তারা পা দেবেন না। হেফাজতের ঢাকা ঘেরাও কর্মসূচি নিয়ে প্রশাসনেও এক ধরনের উদ্বেগ শুরু হয়েছে। তিনদিন আগে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কয়েক কর্মকর্তা হেফাজতে ইসলামের আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফির সঙ্গে হাটহাজারী দারুল উলুম মাদ্রাসায় দেখা করেন। কিন্তু হেফাজতে ইসলাম তা স্বাভাবিকভাবে নেয়নি। বরং কয়েকজন শীর্ষ আলেম এটাকে এক প্রকার বেয়াদবি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তারা বলেছেন, যেখানে কয়েক সপ্তাহ আগে লংমার্চ নিয়ে সরকারের মন্ত্রী আলোচনা করেছেন। সেখানে পুলিশ কর্মকর্তাকে শাহ আহমদ শফি হুজুরের কাছে পাঠানো ঠিক হয়নি। হেফাজতে ইসলামের সূত্রে জানা যায়, তারা গত লংমার্চের পূর্বাপর অভিজ্ঞতার আলোকে এবার ঢাকা কর্মসূচি নিয়ে আরো সতর্ক পদক্ষেপ নিচ্ছেন। তাদের মূল টার্গেট ঢাকা কর্মসূচি থাকলেও ঢাকায় পৌঁছানোসহ কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে আরো কৌশলী হবেন। পূর্ববর্তী অভিজ্ঞতার আলোকে তাদের প্রতিটি পদক্ষেপ গ্রহণে অনেক ক্ষেত্রে গোপনীয়তা রক্ষা করা হবে। হেফাজতে ইসলামের মতে, তাদের কর্মসূচি হবে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ। কারণ সরকারকে হটাও কিংবা অন্যকে ক্ষমতায় নিয়ে আসার এজেন্ডা তাদের নেই। শুধু নাগরিক ও জনগণের অধিকার এবং সর্বোপরি ইসলামের ক্ষতি হয় এমন কোন পদক্ষেপ কর্মসূচি তারা দেবে না। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানানো হয়, সরকারের ও প্রশাসনের ভূমিকার ওপর ৫ মে’র ঘেরাও কর্মসূচির ধরন ঠিক করা হবে। হেফাজতে ইসলাম মনে করে, এখনও সময় আছে। তাই সার্বিক বিষয় চিন্তা করে সরকার তার অবস্থান পরিষ্কার করবে বলে হেফাজতে ইসলামের কর্মকর্তাদের অভিমত। তবে এ নিয়ে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে আলোচনার তেমন একটা দরকার নেই। কারণ তাদের ১৩ দফা পত্র-পত্রিকায় প্রকাশ করা হয়েছে। সরকারের কাছে স্মারকলিপি দেয়া হয়েছে। তাছাড়া ১৩ দফার সঠিক ব্যাখ্যাও ইতিমধ্যে দেয়া হয়েছে। তাই সরকার তৌহিদী জনতার প্রাণের আকুতি অনুধাবন করলে তা বাস্তবায়ন করতে পারে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে কোন আলোচনার এখনও কোন প্রস্তাব দেয়া হয়নি বলে জানা যায়। এদিকে হেফাজতে ইসলামের নেতৃবৃন্দ প্রায় প্রতিদিনই তাদের কর্মসূচির ব্যাপারে বৈঠক করছেন। ইতিমধ্যে ৫ মে’র ঘেরাও কর্মসূচির ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ঢাকায় লোকজনের নিরাপদে পৌঁছানো, ওলামা-মাশায়েখের থাকা ও খাওয়া এবং আবার নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছানোর ব্যাপারে স্বেচ্ছাসেবক দলের ভূমিকা ও কর্মতত্পরতাসহ সার্বিক অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দু’দিন আগে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তাছাড়া প্রতিদিন কোন না কোন বিষয়ে বৈঠক হচ্ছে। গতকাল বৃহস্পতিবারও চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির উদ্যোগে আলোচনা অনুষ্ঠান প্রস্তুতি সভা হয়েছে বলে জানা যায়। হেফাজতে ইসলামের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী ইত্তেফাককে বলেন, সরকার এখনও টের পায়নি। আন্দোলন কত প্রকার ও কি কি তা এবার বুঝিয়ে দেয়া হবে। তিনি বলেন, নাস্তিক ব্লগারসহ আল্লাহ ও রসুলের (স.) অবমাননাকারীদের বিরুদ্ধে সরকার এখনও কোন ব্যবস্থা নেয়নি।