দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য স্বাস্থ্যখাতে বরাদ্দ বাড়াতে হবে

আপডেট : ১৯ এপ্রিল ২০১৩, ১৮:০৭
সুশাসনের জন্য প্রচারাভিযানের এক আলোচনা সভা সমপ্রতি রাজাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাজিবুল ইসলাম খান রাজু’র সভাপতিত্বে ইউনিয়ন পরিষদ সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। সুপ্র সম্পাদক কে জি এম ফারুকের সঞ্চালনায় আলোচনাপত্র উপস্থাপন করেন পেভ’র সমন্বয়ক জি এম পারভেজ ড্যারিন। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সিভিল সার্জন অফিসের প্রতিনিধি ডা. গাজী সাইফুল ইসলাম চৌধুরী, বিএমএ’র জেলা সহ-সভাপতি ডা. জাহাঙ্গীর আলম, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)’র জেলা সভাপতি এড. আল মাহমুদ, রাজাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল মান্নান, ৪নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু তাহের, ইউপি সদস্য আনোয়ারা বেগম, আকতারা বানু ও রওশন আরা বেগম, সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রেজাউল করিম, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক আজমল হোসেন, পরিবার-পরিকল্পনা পরিদর্শক সুনয়ন রায়, এলজিইডি’র ফ্যাসিলিটেটর কাজী ইসরাফিল তুহিন, কৃষক প্রতিনিধি পরেশ চন্দ্র, সায়েদ প্রমুখ। সভায় বলা হয়, দরিদ্র মানুষের অভিগম্যতা বাড়ানোর জন্য স্বাস্থ্যখাতে আসন্ন বাজেটে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী স্বাস্থ্যখাতে জিডিপি’র ৩% বরাদ্দ বৃদ্ধি করে স্বাস্থ্যখাতের বাণিজ্যিকীকরণ বন্ধ করতে হবে। এজন্য স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে জনবল, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, যন্ত্রপাতি, উপকরণ এবং অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের সংকট নিরসনের পাশাপাশি সেবাদানে কার্যকর ব্যবস্থাপনা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার আহবান জানানো হয়। বক্তাগণ বলেন, সকল সরকারি স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে চিকিত্সক ও চিকিত্সা কর্মীর শূন্যপদে নিয়োগ ও তাদের কর্মস্থলে উপস্থিতি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। স্থানীয় স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবস্থাপনা স্থানীয় সরকারের উপর অর্পণ করা হলে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এছাড়া স্বাস্থ্যসেবার মনিটরিং জোরদার করার জন্য বিভিন্ন স্তরের স্বাস্থ্যকমিটিগুলো কার্যকর করার উপর সভায় গুরুত্বারোপ করা হয়। জেলা ও উপজেলা হাসপাতালে তথ্য কেন্দ্র খোলা ও তথ্য অধিকার আইন অনুযায়ী সিটিজেন চার্টারে সেবা সংক্রান্ত তথ্য নিয়মিত প্রদর্শন ও হালনাগাদের ব্যবস্থা করা হলে স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বাড়বে। গৃহিণী ও জনপ্রতিনিধিগণের পক্ষ থেকে কৃমিনাশক ও ভিটামিন ট্যাবলেট বিতরণের পূর্বে ব্যাপক প্রচারের দাবি জানানো হয়, যাতে অপ্রীতিকর ঘটনা ও জনমনে ভীতি সৃষ্টি না হয়। সভায় আলোচকগণ বলেন, ভেজাল ও বিষমুক্ত খাদ্য-দ্রব্য, শাক-সব্জী, ফলমূল যাতে বাজারজাত করা হয় তা দেখভালের জন্য হাটেবাজারে সরকারি তেমন কোন দেখা যায় না। কীটনাশকযুক্ত শাক-সব্জী, ভেজাল দুধ, ফরমালিনযুক্ত মাছ, পিরানহা মাছের মত জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর দ্রব্য প্রকাশ্য কেনা-বেচা হতে দেখা যায়। এ বিষয়ে গণসচেতনতা সৃষ্টিসহ প্রতিরোধে উদ্যোগ গ্রহণের আহবান জানানো হয়। এছাড়া বৈদেশিক ঋণদানকারি ও দাতা সংস্থার নির্দেশনা ছাড়া দরিদ্র জনবান্ধব সার্বভৌম সমন্বিত স্বাস্থ্যনীতি প্রণয়নের জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানানো হয়। বিশ্বস্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার অর্ধশতাধিক প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন।