টোল আদায়ের নামে ৮ মাসে আড়াই কোটি টাকা হরিলুট

আপডেট : ১৯ এপ্রিল ২০১৩, ২০:৩১
বহুল প্রত্যাশিত তিস্তা সড়ক সেতু উদ্বোধনের দিন থেকে চলছে অনিয়ম ও দুর্নীতি। গত ৮ মাসে টোল আদায়ের নামে প্রায় আড়াই কোটি টাকা হরিলুট হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। যানবাহন পারাপারে টোল আদায়ের রসিদ না দিয়ে এই টাকা আত্মসাত্ করা হচ্ছে । সেতুতে টোল আদায়ের ব্যাপারে টেন্ডার হলেও ঠিকারদার এবং সড়ক ও জনপথের মধ্যে রশি টানাটানিতে এখন পর্যন্ত ঠিকাদার সেতু বুঝে পায়নি। ফলে সরকার প্রতিদিন প্রায় সোয়া লাখ টাকা রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। গত বছরের ২০ সেপ্টেম্বর ১২২ কোটি টাকা ব্যয়ে তিস্তা সড়ক সেতুর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেতুর এক প্রান্ত রংপুরের কাউনিয়া উপজেলা এবং অপর প্রান্ত লালমনিরহাটের তিস্তা। গত বুধবার সরেজমিন তিস্তা সড়ক সেতু এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, প্রায় ২ ঘণ্টায় মোটরসাইকেল পারাপার হয়েছে ২২০টি। বাস, মিনিবাস, ট্রাক, পিকআপ, টেম্পো ও অটো পারাপার হয়েছে ১৮০টি। সেতু পারাপারের সময় মোটরসাইকেল চালকদের কাছ থেকে টোল বাবদ আদায় করা হচ্ছে ১০ টাকা করে। টোল আদায় করা হলেও অধিকাংশ মোটরসাইকেল চালককে রসিদ দেয়া হয়নি। অনেক চালক তাড়াহুড়া করে রসিদ না নিয়েই গন্তব্যে চলে যাচ্ছেন। ঢাকাগামী কোচ, ট্রাক ও বাস প্রতি ১২০ টাকা টোল ধরা হলেও সংশ্লিষ্ট যানের চালকরা টোল আদায়কারীর হাতে ১শ’ টাকা ধরিয়ে দিয়ে রসিদ না নিয়ে যে যার গন্তব্যে চলে যাচ্ছেন। পিকআপের টোলের ক্ষেত্রে ৭০ টাকা নির্ধারণ থাকলেও সেখানে ৫০ টাকার বিনিময়ে পারাপার করা হচ্ছে রসিদ ছাড়াই। সূত্র জানায়, দিন-রাত ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ৪ হাজার যানবাহন চলাচল করে এই সেতু দিয়ে। এর মাত্র ৩ ভাগের এক ভাগ রসিদের মাধ্যমে পারাপার হয়। বাদবাকি ২ ভাগ যানবাহন রসিদ ছাড়াই টোল আদায়কারীর হাতে নগদ টাকা দিয়ে পারাপার হচ্ছে। অনুসন্ধানে দেখা যায়, টোল আদায়ের ৩ ভাগের ২ ভাগ টাকাই আত্মসাত্ করা হচ্ছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের তথ্য মতে, প্রতিদিন তিস্তা সড়ক সেতুতে টোল আদায় হচ্ছে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা। যানবাহন চলাচল করে দেড় থেকে ২ হাজার। এই টাকা প্রতিদিন চালানের মাধ্যমে সোনালী ব্যাংকে জমা হচ্ছে। কিন্তু রসিদ ছাড়া প্রায় প্রতিদিন আদায় হচ্ছে ১ লাখ থেকে সোয়া লাখ টাকা। দিনের বেলা দুই-চারটি যানবাহনকে রসিদ দেয়া হলেও রাতের বেলা রসিদের কোন বালাই নেই। টোল আদায়কারীর নিকট টাকা দিয়ে দ্রুত চলে যাচ্ছে যানবাহনগুলো। অভিযোগ রয়েছে, এই টাকা ভাগবাটোয়ারা হচ্ছে লালমনিরহাটের সড়ক বিভাগের একশ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারী ও দুই পাড়ের স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মধ্যে। সেতুতে টোল আদায়ের দায়িত্ব পালন করছে সড়ক বিভাগের কম্পিউটার বিভাগের অপারেটর, অফিস সহকারী ও গার্ডসহ ২১ জন কর্মচারী। সেতু তদারকির দায়িত্বে রয়েছেন একজন উপ-সহকারী প্রকৌশলী। আর সবকিছু অফিসে বসে নিয়ন্ত্রণ করছেন নির্বাহী প্রকৌশলী। সূত্র মতে, সেতু উদ্বোধনের পর থেকে প্রতি মাসে রসিদ ছাড়া অবৈধভাবে টাকা আদায় হয়েছে ৩৫ থেকে ৪০ লাখ টাকা। সেই হিসেবে গত ৮ মাসে এই সেতু থেকে টোল আদায়ের নামে হরিলুট হয়েছে প্রায় আড়াই কোটি টাকার ওপর। এ ব্যাপারে লালমনিরহাট সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সুরুজ মিয়া রসিদ ছাড়া টোল আদায়ের বিষয়টি অস্বীকার করে জানান, ঠিকাদারকে চিঠি দেয়া হয়েছে সেতু বুঝে নেয়ার জন্য। চলতি মাসের মধ্যেই ঠিকাদারকে সেতু বুঝিয়ে দেয়া হবে। সেতু রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন রসিদ ছাড়া টোল আদায়ের ব্যাপারে যানবাহন চালকদের সচেতনতার অভাবকে দায়ী করে বলেন, চালকরা টাকা দিয়ে রসিদের জন্য অপেক্ষা না করেই দ্রুত চলে যায়। রসিদ ছাড়া যে টাকা আদায় হচ্ছে সে টাকা কোথায় যায় এর কোন সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি। তবে তিনি দাবি করেন, স্বচ্ছতার সাথে টোল আদায় হচ্ছে।