যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন বস্টন ম্যারাথনে বোমা হামলার জন্য সন্দেহভাজন একজনকে গ্রেফতার করতে গতকাল শুক্রবার বোস্টনজুড়ে পুলিশ ব্যাপক তল্লাশি অভিযান চালায়। একে সশস্ত্র অভিযান বর্ণনা করে এসময় বাসিন্দাদের বাড়ির ভেতর অবস্থান করতে নির্দেশ দেয়। গত সোমবারের বোস্টন ম্যারাথনে বোমা হামলার জন্য দায়ী বলে কেন্দ্রীয় মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআইয়ের সন্দেহভাজন দুই ব্যক্তিকে ধরতে পুলিশ অভিযান চালালে একজন সন্দেহভাজন নিহত হয়। খবর বিবিসি ও রয়টার্সের।
সন্দেহভাজনদের ধরার জন্য পুলিশের গাড়ি ধাওয়ায় এবং গুলি বিনিময়ের ঘটনায় ওই ব্যক্তি মারা গেছে বলে পুলিশ বলছে। চিকিত্সকরা জানান, নিহত ব্যক্তির দেহে একাধিক গুলির আঘাত ছিল এবং সম্ভবত কোনো বিস্ফোরণ থেকে তার শরীরে আঘাত লেগেছিল। অন্য সন্দেহভাজন ব্যক্তি পালিয়ে যায় এবং তাকে ধরার জন্য ব্যাপক পুলিশি অভিযান শুরু করে। এসময় ম্যাসাচুসেটসের উপকূল এলাকায় সবরকম গণপরিবহন ব্যবস্থা বন্ধ করে দেয়া হয় এবং এলাকার বাসিন্দাদের ঘরের মধ্যে থাকার নির্দেশ দেয়। তারা পলাতক ব্যক্তিকে বিপজ্জনক সন্ত্রাসী হিসেবে বর্ণনা করে। অভিযানের সময় এলাকার দোকানপাট, স্কুল-কলেজ সব বন্ধ করে দেয়া হয় এবং ওয়াটারটাউন এলাকায় কোনো গাড়ি ঢুকতে বা বেরুতে দেয়া হয় না।
বোস্টনের পুলিশ কমিশনার এড ডেভিস বলেন, ঘটনা ঘটছে খুব দ্রুত। আমাদের কাছে প্রচুর তথ্য আসছে। ওয়াশিংটনে কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রেখে আমরা কাজ করছি , সবরকম সূত্র থেকে আসা তথ্য ও সবরকম তথ্যভান্ডার পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। শহরের বিভিন্ন জায়গায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
পুলিশ জানায়, ম্যাসাচুসেটস্? ইন্সটিটিউট অফ টেকনোলজির ক্যাম্পাসে একজন পুলিশ অফিসার গুলিতে নিহত হবার পর পুলিশ বৃহস্পতিবার তারা অভিযান শুরু করে। সন্দেহভাজন দুজন বন্দুক দেখিয়ে একটি গাড়ি চুরি করে এবং তাদের ধাওয়া করা পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে বোমা এবং গুলি ছোঁড়ে। দ্বিতীয় একজন পুলিশ কর্মকর্তা ধাওয়ার সময়ে আহত হয়েছে। এফবিআই সন্দেহভাজন দুই ব্যক্তির বেশ কয়েকটি ছবি প্রকাশ করেছে। এদের মধ্যে বোমা হামলার দিন একজনের মাথায় কালো টুপি পরা ছিল এবং অন্যজনের মাথায় ছিল সাদা রঙের টুপি। তারা চেচনীয় এবং দুই ভাই। পালিয়ে যাওয়া ১৯ বছরের তরুণের নাম যোখার যারনায়েফ এবং অন্তত গত এক বছর সে আমেরিকায় বসবাস করছে। তার ভাইয়ের নাম তামেরলান। সে অভিযানে নিহত হয়েছে।
গত সোমবার বোস্টনে ম্যারাথন দৌড় প্রতিযোগিতার ফিনিশিং লাইনের কাছে পরপর দুটি বিস্ফোরণে তিন জন নিহত হয়। আহত হয় অন্তত ১৭৬ জন।
ডেইলি মেইল জানায়, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশি আবদুল্লাহ ফারুক জানিয়েছেন, বোস্টন বোমা হামলার ‘প্রতিশোধ’ নেয়ার জন্য তার ওপর হামলা করা হয়। তিনি এ ঘটনার বিষয়ে কিছুই না জানলেও হিস্পানিকরা তাকে পিটিয়ে প্রায় সংজ্ঞাহীন করে।
