গ্রামীণ ব্যাংকের মালিকানা জনগণের

আপডেট : ১৯ এপ্রিল ২০১৩, ২২:৪৪
দুই বছর আগে গ্রামীণ ব্যাংক, ক্ষুদ্রঋণ এবং আমার বিরুদ্ধে খুবই আগ্রাসী অভিযান শুরু হয়। পরিস্থিতি দেখে মনে হয়েছিল, সরকার গ্রামীণ ব্যাংক দখল করতে চাইছে। কিন্তু গ্রামীণ ব্যাংকের মালিকানা জনগণের। জনগণেরই জয় হবে বলে আমি বিশ্বাস করি। যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বেসামরিক পদক কংগ্রেসনাল গোল্ড মেডেল গ্রহণের পর বুধবার নিউইয়র্ক টাইমসকে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে ড. মুহাম্মদ ইউনূস এ কথা বলেন। নিউইয়র্ক টাইমসের ডেভিড বর্নস্টেইনকে দেয়া সাক্ষাত্কারে তিনি গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে তার সংগ্রাম, সামাজিক ব্যবসার ধারণা, কংগ্রেশনাল গোল্ড মেডেল প্রাপ্তি, দারিদ্র্যমুক্ত বিশ্ব গড়ার স্বপ্নের কথা তুলে ধরেন। গ্রামীণ ব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের এখনকার সম্পর্ক কেমন? এমন প্রশ্নের জবাবে ড. ইউনূস বলেন, দুই বছর আগে গ্রামীণ ব্যাংক ক্ষুদ্রঋণ এবং আমার বিরুদ্ধে খুবই আগ্রাসী অভিযান শুরু করা হয়েছিল। মনে হয়েছিল সরকার গ্রামীণ ব্যাংক দখল করে নিতে চাইছে। একটি কমিশন নিয়োগ করা হয়েছিল। তারা বলেছিলেন ঋণগ্রহীতারা ৯৭ শতাংশের মালিক হলেও এর প্রকৃত মালিকানা সরকারের। এর সঙ্গে বাস্তবতার মিল কোথায় সেটা আমি বুঝতে পারি না। আইনগতভাবে ব্যাংকের জন্য যে কোন সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা ব্যাংক বোর্ডের রয়েছে। সেখানে সরকারের তিনজন প্রতিনিধি রয়েছে আর ৯ জন প্রতিনিধি রয়েছে ঋণগ্রহীতাদের নির্বাচিত। তবে কমিশন বলছে বোর্ডের নির্বাচনে ত্রুটি রয়েছে। অতএব নির্বাচিত ৯ সদস্যকে বরখাস্ত করতে হবে। প্রকৃতপক্ষে কি হবে সেটা আমাদের জানা নেই। কি হতে পারে বলে আপনি মনে করেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গ্রামীণ ব্যাংকের মালিকানা জনগণের। আমি বিশ্বাস করি পরিশেষে জনগণেরই জয় হবে। ৮৫ লাখ ঋণগ্রহীতার সঙ্গে তাদের পরিবারের পাঁচজন করে সদস্য রয়েছেন। সব মিলিয়ে চার কোটি মানুষ এর সাথে জড়িত। তাদের পরাজিত করা সম্ভব বলে আমার মনে হয় না। তারাই টিকে থাকবে। তিনি বলেন, সরকারি কমিশনের দেয়া সুপারিশ এখনও বাস্তবায়ন করা শুরু হয়নি। কিন্তু সরকার এসব পরামর্শ বাস্তবায়ন শুরু করলে প্রতিষ্ঠানটির মৌলিক ক্ষতি হবে। ক্ষুদ্রঋণ নিয়ে আজ অনেক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। কখন এবং কিভাবে এটি শুরু হয়েছিল? আসলেই কি এটা কার্যকর? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ২০০৮ সালে বিশ্বে অর্থনৈতিক মন্দা শুরুর অনেক আগে আমাদের মধ্যে অনেকে বলেছিলেন অর্থ ব্যবস্থাপনাকে (ফিন্যান্সিয়াল সিস্টেম) নতুন করে বিন্যস্ত করা উচিত। প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থা যা করতে পারে না মানুষের কাছে পৌঁছানোর মাধ্যমে ক্ষুদ্রঋণ সেটাই করে দেখিয়েছে। সামাজিক ব্যবসা বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি যার প্রসার ঘটাতে চাইছি সেটি একেবারেই আলাদা। আমি ব্যক্তিগত লাভের বিষয়টিকে নাকচ করে মানুষ ও কাজের ওপর বিশেষ ভাবে জোর দিচ্ছি। একেই আমি সামাজিক ব্যবসা বলে উল্লেখ করছি। এটি একটি লভ্যাংশবিহীন কোম্পানি। এর লক্ষ্য হচ্ছে, মানবিক সমস্যার সমাধান করা। নিজের লাভের কথা চিন্তা না করে এতে একজন ব্যক্তি কেবল সমস্যা সমাধানের দিকেই মনোনিবেশ করবে। কোম্পানি লাভবান হবে। কংগ্রেসনাল গোল্ড মেডেল গ্রহণের অনুভূতি বিষয়ে তিনি বলেন, আমার কাছে বিষয়টি খুবই আবেগের। এটা কেবল একটি স্বীকৃতি নয়। সহকর্মী, বন্ধু, গ্রামীণ ব্যাংকের সব কর্মী এবং ঋণগ্রহীতা, সামাজিক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত সবার জন্যই এটি একটি স্বীকৃতি। মার্কিন কংগ্রেস ক্ষুদ্রঋণের প্রতি মনোযোগ দিয়েছে সেজন্য আমি কংগ্রেসের কাছে কৃতজ্ঞ।