ইসলামের অবমাননাকারীদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তির আইন পাস করুন

আপডেট : ১৯ এপ্রিল ২০১৩, ২২:৪৫
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম পীর সাহেব চরমোনাই বলেছেন, স্বাধীনতার পর বিগত সরকারগুলো দেশকে তলাবিহীন রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। জনগণকে নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও অসত্ উদ্দেশ্যে রাজনৈতিক হীনস্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে। দেশের সব সেক্টরকে দুর্নীতির স্বর্গরাজ্য বানানো হয়েছে। মানবসেবার খাতগুলোতে দুর্নীতি মহামারী আকার ধারণ করেছে। শেয়ারবাজার, হলমার্ক, পদ্মাসেতু কেলেঙ্কারি দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড ভেঙ্গে দিয়েছে। বিদেশিরা বিনিয়োগে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। তারা এ দেশ থেকে বিনিয়োগ গুটিয়ে নিচ্ছে। এছাড়া রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড এবং দেশব্যাপী চরম নৈরাজ্য প্রমাণ করে, বাংলাদেশে গণতন্ত্রের নামে প্রচলিত রাজনীতি কলুষিত, নোংরা ও বিষাক্ত। এই কলুষিত, নোংরা রাজনীতির মূলোত্পাটন করতে না পারলে দেশ ধ্বংস হয়ে যাবে। বিশ্বের দরবারে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসাবে পরিচিতি লাভ করবে। এ ভয়াবহ অবস্থা থেকে জাতিকে মুক্ত করার জন্য দলমত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও নৈরাজ্য বিরোধী জিহাদে অংশগ্রহণ করতে হবে। তিনি গতকাল শুক্রবার বিকালে নগরীর ডাকবাংলো চত্বরে খুলনা বিভাগীয় মহাসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন। চরমোনাই পীরসাহেব সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, অবিলম্বে সরকার যদি নাস্তিকদের বিচার ও আল্লাহ, রাসুল (সা.) ও ইসলামের অবমাননাকারীদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তির আইন পাস না করে তাহলে আমরা ওলামায়েকেরাম ও তৌহিদী জনতাকে সাথে নিয়ে কঠোর কর্মসূচি দিয়ে সরকারকে দাবি মানাতে বাধ্য করবো। পীর সাহেব চরমোনাই সরকারের প্রতি আহবান জানিয়ে বলেন, অবিলম্বে সংবিধানের মূলনীতিতে আল্লাহর উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস পুনঃস্থাপন করুন, আল্লাহ, রসুল (সা.) এর দুশমন নাস্তিক মুরতাদদের সর্বোচ্চ শাস্তির আইন পাস করুন, মিথ্যা হামলা-মামলা, নির্যাতন বন্ধ করুন, গ্রেফতারকৃত আলেম-ওলামা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে মুক্তি দিন। সমাবেশে তিনি সুশাসন, ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা, সন্ত্রাস-দুর্নীতির মূলোত্পাটন, দেশের স্থায়ী শান্তি, মানবতার সার্বিক মুক্তি, সমৃদ্ধশালী কল্যাণ রাষ্ট্র গঠন ও ইসলামী শাসনতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাদের দলীয় প্রার্থীদেরকে নির্বাচিত করার আহবান জানান। মহাসমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর খুলনা মহানগর সভাপতি ও সমাবেশ বাস্তবায়ন কমিটির আহবায়ক আলহাজ্ব মাওলানা মুজাম্মেল হক। বক্তৃতা করেন ইসলামী আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য প্রিন্সিপ্যাল মাওলানা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী, মুফতী সৈয়দ ফয়জুল করীম, মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা ইসনুস আহম্মাদ, যুগ্মমহাসচিব অধ্যক্ষ মাহবুবুর রহমান, মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, অধ্যাপক মাওলানা এটিএম হেমায়েত উদ্দিন, অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, মাওলানা নেছার উদ্দিন, মাওলানা গাজী নূর আহম্মাদ, মাওলানা রুহুল আমিন, মাওলানা রেজাউল করীম, অধ্যক্ষ আব্দুল হালিম, ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ ীয় সভাপতি মো. আরিফুল ইসলাম প্রমুখ।