জেলার সদর উপজেলার বশিকপুর ইউনিয়নে স্থানীয় জেহাদী বাহিনীর সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে পাঁচ পুলিশসহ কমপক্ষে ১০ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। গত শুক্রবার বিকেলে ইউনিয়নের মদনপুরে এ ঘটনা ঘটে। গুলিবিদ্ধ পুলিশ কনস্টেবল মিজানুর রহমান, ইসমাইল হোসেন, শরিফুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম, মো হানিফ ও সিএনজি চালক আবদুল বারেককে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে এই ঘটনায় নিজের সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করেছেন বশিকপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাশেম জেহাদী।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানান, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিকালে কাশেম জেহাদী বাহিনীর সদস্যরা প্রতিপক্ষ লাদেন মাসুমের বাড়িতে হামলা করে। এসময় হামলাকারীরা বেশ কয়েকটি হাত বোমার বিষ্ফোরণ ঘটিয়ে এলাকায় আতংক সৃষ্টি করে। পরে ওই বাড়ীর কয়েকটি ঘরে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। সন্ত্রাসীরা এসময় ওই বাড়ি থেকে নগদ ৫০ হাজার টাকাসহ কয়েক লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এদিকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ার পথে মদনপুর এলাকায় পৌঁছলে জেহাদী বাহিনীর সদস্যরা পুলিশকে লক্ষ্য করে বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি ছুঁড়ে। পুলিশও পাল্টা গুলি ছুঁড়ে। এতে ৫ কনস্টেবলসহ ১০ জন গুলিবিদ্ধ হন। এসময় শতাধিক রাউন্ড গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছে।
হামলার সত্যতা স্বীকার করে লাদেন মাসুম জানান, সন্ত্রাসীরা যাবার সময় তার ভাগিনা সামীরকে (৬) অপহরণ করে নিয়ে গেছে। এ ব্যাপারে মামলা করা হবে বলে তিনি জানান।
দত্তপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ নুরনবী জানান, জেহাদী বাহিনীর সদস্যরা পুলিশের উপর অতর্কিতে হামলা চালায়। এসময় পুলিশ আত্মরক্ষার্থে ৫০ রাউন্ড গুলি ছুঁড়ে। ঘটনাস্থল থেকে ২০ রাউন্ড তাজা গুলি ও একটি মোবাইল সেট উদ্ধার করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
তবে হামলা ও শিশু অপহরণে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান কাশেম জেহাদী। তিনি বলেন, কাল আমি সারাদিন বাড়িতে ছিলাম। পুলিশের সাথে গোলাগুলির কথা শুনেছি। তার কোন নিজস্ব বাহিনী নেই বলেও তিনি দাবি করেন।
