একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় চূড়ান্ত রায়ের অপেক্ষায় থাকা জামায়াতে ইসলামের সাবেক আমির অধ্যাপক গোলাম আযম বিচার নিয়ে সন্তুষ্ট নন। কারও সাহায্য ছাড়া ভালোভাবে চলাফেরা করতে পারেন না তিনি। তবে সব মিলিয়ে ভালো আছেন।
গতকাল শুক্রবার অধ্যাপক গোলাম আযমের বড় ছেলে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আব্দুল্লাহিল আমান আযমী সাংবাদিকদের এসব কথা জানিয়েছেন। তিনি রবিবার তার পিতার সঙ্গে সাক্ষাত্ করেন। ৯১ বছর বয়সী গোলাম আযম বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) প্রিজন ওয়ার্ডে রয়েছেন। আব্দুল্লাহিল আমান আযমী জানান, বাবা বার্ধক্যজনিত অসুস্থতা, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিসসহ নানা ধরনের অসুস্থতায় ভুগছেন। বেশিরভাগ সময় পড়ালেখার মধ্যে সময় কাটাচ্ছেন। পত্রিকা পড়েন। বর্তমানে দৈনিক ইত্তেফাক পড়ছেন। রায় নিয়ে অধ্যাপক গোলাম আযমের ভাবনা সম্পর্কে আব্দুল্লাহিল আমান আযমী বলেন, বাবা বিচার নিয়ে সন্তুষ্ট নন। আর এ কথা তিনি গ্রেপ্তার হওয়ার আগেই টিভি সাক্ষাত্কারে বলেছেন। বাবা তো বলেছেন - রায় লেখা হয়েই আছে, এখানে শুধু নাটক হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বাবার সঙ্গে দেখা করতে গেলে পারিবারিক কথা ছাড়া মামলার বিষয়ে কোনো কথা হয় না। তবে তিনি দেশ নিয়ে খুবই চিন্তিত। সকল মতের লোকদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের ভালো হয় এমন কাজে আত্মনিয়োগ করতে বলেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, রায় যাই হোক সেটি নিয়ে আমরা ভাবছি না। আমরা মহাপরাক্রমশালী আল্লাহর রায়ের অপেক্ষায় আছি। যারা ’৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার জন্য আমার বাবার পদধূলি নিয়েছিল, তারা আজ অন্যায়ভাবে আমার বাবাকে যুদ্ধাপরাধী সাজানোর নাটক করছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘আজ আমার বাবা নৈতিক অবস্থানে থেকে সরকারের ইসলাম বিরোধী কার্যকলাপের বিরোধিতা করেছেন। আর এজন্য তাকে এই বয়সে অপদস্ত করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, সব ধরনের শুনানি ও যুক্তিতর্ক শেষে রায়ের জন্য অপেক্ষামাণ তালিকায় রাখা হয়েছে অধ্যাপক গোলাম আযমের মামলাটি। গত বছরের ১১ জানুয়ারি গ্রেপ্তারের পর এখন পর্যন্ত অধ্যাপক গোলাম আযম একবার প্যারোলে মুক্তি পেয়েছেন। ছোট বোন জান্নাত আরা মারা গেলে তার জানাযায় অংশ নিতে গত বছরের ১ ডিসেম্বর তাকে প্যারোলো মুক্তি দেয়া হয়।
