আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান তিন দফা দাবিতে অনশনে অনড় রয়েছেন। টানা ৫ দিন ধরে তিনি কোন প্রকার খাবার, এমনকি পানিও গ্রহণ করছেন না। এতে তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হচ্ছে। কারাকর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে মাহমুদুর রহমানের মা মাহমুদা বেগম, স্ত্রী ফিরোজা মাহমুদ, সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিকুল হক ও কবি ফরহাদ মজহার গতকাল শুক্রবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে তাকে দেখতে যান। এ সময় তারা অনশন ভাঙতে অনুরোধ করলেও তিনি রাজি হননি।
মাহমুদুর রহমানের দাবি তিনটি হলো:মা মাহমুদা বেগমের নামে দায়ের করা হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার, আমার দেশ-এর ছাপাখানা খুলে দিয়ে সব ধরনের হয়রানি বন্ধ করে পত্রিকা প্রকাশের সুযোগ দেয়া এবং প্রেসের ১৯ কর্মচারীকে অবিলম্বে মুক্তি প্রদান। এসব দাবি মেনে না নেয়া পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। হাসপাতালের দ্বিতীয় তলার ডি ব্লকের সিসিইউতে রাখা হয়েছে তাকে। কারা কর্তৃপক্ষ এবং চিকিত্সকরা কেউই তার অনশন ভাঙাতে পারছেন না। গতকাল সকালে বিপুল সংখ্যক তরুণ তার মুক্তির দাবিতে হাসপাতালের সামনে অনশন করতে গেলে পুলিশ তাদের সেখানে বসতে দেয়নি।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, বেলা আড়াইটার দিকে মাহমুদুর রহমানের মা মাহমুদা বেগম ছেলেকে দেখতে যান। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন মাহমুদুর রহমানের স্ত্রী ফিরোজা মাহমুদ। তারা দুজনই মাহমুদুর রহমানের মুখে খাবার তুলে দেয়ার চেষ্টা করেন। অনশন ভাঙতে অনুরোধ করেন। কিন্তু মাহমুদুর রহমান রাজি হননি।
সন্ধ্যার দিকে ব্যারিস্টার রফিকুল হক মাহমুদুর রহমানকে দেখতে যান। সেখান থেকে বেরিয়ে তিনি সাংবাদিকদের কাছে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, তার অবস্থার গুরুতর অবনতি হয়েছে। তিনি কোনক্রমেই অনশন ভাঙতে রাজি নন। তার জীবন বিপন্ন। তার তিন দফা দাবির কোনটিই অন্যায্য নয়। তিনি নিজের জন্য কোন দাবি জানাননি। নিজের মুক্তিও চাননি, জামিনও চাননি। সরকারের কাছে আমার সর্বোচ্চ আবেদন—তার তিন দফা মেনে নিন।
এদিকে অনশনে অসুস্থ মাহমুদুর রহমানের তিন দফা দাবি মেনে নিয়ে তার জীবন বাঁচাতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দেশের ৭ বিশিষ্ট নাগরিক। গতকাল এক বিবৃতিতে তারা মাহমুদুর রহমানকে অবিলম্বে জামিনে মুক্তি ও তার সুচিকিত্সার ব্যবস্থা করার এবং দৈনিক আমার দেশ পত্রিকা প্রকাশে সব ধরনের বাধা প্রত্যাহারের দাবি জানান।
বিবৃতিদাতারা হলেন প্রবীণ আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক-উল হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দীন আহমদ, জাতীয় অধ্যাপক ড. তালুকদার মনিরুজ্জামান, নাগরিক অধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক কবি ফরহাদ মজহার, বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট এ জে মোহাম্মদ আলী ও জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি কামাল উদ্দিন সবুজ।
রিমান্ডে নির্যাতনের অভিযোগ
গতকাল আমার দেশ-এর পক্ষ থেকে আয়োজিত জরুরি সাংবাদিক সম্মেলনে বলা হয়, মাহমুদুর রহমানের জীবন নিয়ে আমরা উত্কণ্ঠিত। তাকে অমানুষিক নির্যাতনের মাধ্যমে বর্তমান সরকার মৃত্যুর পথে ঠেলে দিয়েছে। রিমান্ডে নিয়ে বিভিন্নভাবে তার ওপর নির্যাতন চালানো হচ্ছে। তার অবস্থার মারাত্মক অবনতি হলে তাকে রিমাণ্ড শেষ হবার আগেই তড়িঘড়ি আদালতে হাজির করে কারাগারে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি বন্দী অবস্থায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে রয়েছেন। মাহমুদুর রহমানের শারীরিক অবস্থার এমন চরম অবনতিতে তার জীবন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছে আমার দেশ পরিবার। শারীরিক নির্যাতন ও অনশনের কারণে তিনি এ পর্যন্ত ছয়টি রোগে আক্রান্ত হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছে।
লিখিত বক্তব্যে আরো বলা হয়, ‘আমার দেশ’ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের ওপর বর্বর নির্যাতনের যে ভয়াবহ দৃষ্টান্ত শেখ হাসিনা সরকার স্থাপন করলো তাতে বাংলাদেশের গণমাধ্যম যে দীর্ঘদিনের জন্য অত্যাচার নির্যাতনের শিকারে পরিণত হবে সে বিষয়ে আর কোন সংশয় নেই। তাই এটা প্রতিরোধে এখনই সংবাদ মাধ্যম ঐক্যবদ্ধভাবে সোচ্চার না হলে কেউই এই বিপদ থেকে মুক্ত থাকবেন না।
এদিকে মাহমুদুর রহমানের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘মাহমুদুর রহমান ভাল আছেন। তার নিরাপত্তা ও চিকিত্সার কোনো কমতি নেই।
তবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপতালের উপাচার্য প্রাণ গোপাল দত্ত সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, সব পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিত্সকরা দেখেছেন মাহমুদুর রহমান সুস্থ রয়েছেন। তার হূদযন্ত্রেও কোনো ধরনের সমস্যা নেই। তিনি করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) ভর্তি আছেন।
