প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মানুষ হত্যা করাই বিএনপির চরিত্র। ফটিকছড়িতে হরতালবিরোধী শান্তিপূর্ণ মিছিলে তারা হামলা করে ৪ থেকে ৫ জনকে হত্যা করেছে। সেখানে এখনো অনেকে নিখোঁজ রয়েছে। তারা আরো মানুষ হত্যার হুমকি দিচ্ছে। সবাই জানে, তাদের চরিত্রটাই মানুষ হত্যা করা। আজ শনিবার থেকে শুরু হওয়া জাতীয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা বিডি গেমস ও চলমান এইচএসসি পরীক্ষার সময় আন্দোলনের নামে ধ্বংসাত্মক হরতাল কর্মসূচি না দিতে তিনি বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানান।
গতকাল শুক্রবার বিকালে গণভবনে কৃষক লীগের ৪১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজ থেকে বিডি গেমস শুরু হবে। বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় দেশের ছেলেমেয়েরা অংশ নেবে। আশা করব এ গেমস চলাকালে হরতাল দিবেন না। পরীক্ষার সময় হরতাল দিয়ে বিএনপি ছেলে-মেয়েদের ভবিষ্যত্ নষ্ট করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ক্ষমতায় এসে শিক্ষায় যে গুণগত পরিবর্তন এনেছি বিরোধী নেত্রীর তা সহ্য হচ্ছে না। তিনি নিজের ছেলেদের শিক্ষার জন্য সরকারি টাকা নিয়ে কী শিক্ষা দিয়েছেন? এখন পরীক্ষার সময় হরতাল দিয়ে বিএনপি দেশের লাখ লাখ এইচএসসি পরীক্ষার্থীর ভবিষ্যত্ নষ্ট করে দিচ্ছেন।
বিএনপির প্রতি প্রশ্ন রেখে শেখ হাসিনা বলেন, কার স্বার্থে এসব হরতাল। ওই যুদ্ধাপরাধী-যারা পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর সঙ্গে হাত মিলিয়ে এ দেশের নিরস্ত্র মানুষের ওপর নির্যাতন-নিপীড়ন চালিয়েছে। মা-বোনদের ইজ্জত নিয়েছে, তাদের বাঁচানোই কি এই হরতালের লক্ষ্য। তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু হবার পর তারা বাসের ভেতর যাত্রী পুড়িয়ে মারছে। বাস ড্রাইভার মূসা, ট্যাক্সিচালক ফারুক, নিরীহ শিক্ষার্থী ও যাত্রীদের কী অপরাধ। পুলিশ মারছেন। ইট দিয়ে মাথা থেঁতলে দিচ্ছেন। মসজিদে আগুন দিচ্ছেন। কোরআন শরীফ পুড়িয়ে দিচ্ছেন এগুলোই কী আপনাদের ধর্ম-কর্ম। যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে একটার পর একটা ঘটনা ঘটিয়ে যাচ্ছেন। বিরোধী দলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া দুঃসময় টেনে আনছেন এমন অভিযোগ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্দোলনের নামে কি করে যাচ্ছেন? বাসে আগুন, মানুষ হত্যা, পুলিশ বাহিনীর ওপর হামলা, দিনের পর দিন হরতাল দিচ্ছেন। এতে আপনার স্বার্থটা কি? কি কারণে হরতাল দিচ্ছেন? যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু হয়েছে এজন্যই কী হরতালের নামে ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড করছেন? তিনি বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা আমাদের নির্বাচনী ওয়াদা। যতই ষড়যন্ত্র করা হোক না কেন যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হবেই।
কৃষকদের উন্নয়নে বর্তমান সরকারের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে- এ প্রত্যয়ে সরকার এগিয়ে যাচ্ছে। আমাদের সঙ্গে বিএনপির এখানেই পার্থক্য। আমরা ব্যবসা করতে ক্ষমতায় আসিনি। জনগণের ভাগ্য গড়তে ক্ষমতায় এসেছি। সে কারণেই আমরা গুরুত্ব দেই কীভাবে ফসল উত্পাদন বৃদ্ধি করা যায়। আমরা চাই দেশের এক ইঞ্চি জমিও যেন অনাবাদী না থাকে।
কৃষক লীগের সভাপতি মোতাহার হোসেন মোল্লার সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ, ফজিলাতুন্নেছা ইন্দিরা, কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক রেজা। পবিত্র কোরআন ও গীতা পাঠের মাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়।
