দক্ষিণ এশিয়ার অর্ধকোটি লোকের দৈনিক আয় একশ’ টাকার নিচে

আপডেট : ১৯ এপ্রিল ২০১৩, ২২:৫৭
দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় ৫০ কোটি লোক দৈনিক গড়ে একশ’ টাকার কম বা সোয়া এক মার্কিন ডলার আয় করে। ২০১৫ সালে এ অঞ্চলে একশ’ টাকার কম আয় উপার্জনকারী লোকের সংখ্যা দাঁড়াবে ৪১ কোটির কাছাকাছি। এছাড়া বর্তমানে সারাবিশ্বে সোয়া এক ডলারের নীচে উপার্জনকারী লোকের সংখ্যা ১২০ কোটির বেশি। শহরের চেয়ে গ্রামেই এদের অধিকাংশের বাস। সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) বাস্তবায়ন নিয়ে বিশ্বব্যাংক গতকাল যে রিপোর্ট প্রকাশ করেছে তাতে বলা হয়েছে, বিপুল সংখ্যক লোককে দারিদ্র্যসীমার নীচে রেখে ২০১৫ সালের মধ্যে এমডিজি লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব নয়। ওই রিপোর্টে বলা হয়, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থাগুলো ২০১৫ সালের মধ্যে এমডিজির ২১টি লক্ষ্যমাত্রা পূরণের ঘোষণা দিলেও এখনো পর্যন্ত মাত্র চারটি পূরণ হয়েছে। ‘গ্লোবাল মনিটরিং রিপোর্ট’ শিরোনামে প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের রিপোর্ট এমডিজির লক্ষ্যমাত্রা পূরণের লক্ষ্যে দারিদ্র্য বিমোচনকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। রিপোর্টে পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলকে ভাগ করে দারিদ্র্য বিমোচনের হার দেখানো হয়। এতে দেখা যায়, পূর্ব এশিয়া ও প্যাসিফিক এবং ইউরোপ অঞ্চলের দারিদ্র্য বিমোচন দ্রুত হলে দক্ষিণ এশিয়া, আফ্রিকা এবং মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের দেশগুলোতে দরিদ্রতার হার উল্লেখযোগ্য হারে কমছে না। দক্ষিণ এশিয়ায় দরিদ্রতার হার উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৯৯০ সালে এ অঞ্চলে দরিদ্র মানুষের সংখ্যা ছিলো ৬১ কোটি ৭০ লাখ। ২০০৫ সালে ৫৯ কোটি ৮৩ লাখ এবং ২০০৮ সালে তা ৫৭ কোটি ৭ লাখে দাঁড়ায়। পূর্ব এশিয়া এবং প্যাসিফিক অঞ্চলের দেশগুলোতে ১৯৯০ সালে অতি দারিদ্র্যসীমার নীচে বসবাসকারী জনসংখ্যা ছিলো ৯২ কোটি ৬৪ লাখ। ২০১০ সালে এসে তা দাঁড়ায় ২৫ কোটি ৯ লাখে। ২০১৫ সালে এ সংখ্যা দাঁড়াবে সাড়ে ১১ কোটিতে। ইউরোপে ১৯৯০ সালে অতি দারিদ্র্যসীমার নীচে লোকের সংখ্যা ছিলো ৮৯ লাখ। ২০০৮ সালে এ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২২ লাখে। কিন্তু ২০১০ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩১ লাখে। ২০১৫ সালে এ সংখ্যা কমে ১৯ লাখে দাঁড়াবে বলে বিশ্বব্যাংক উল্লেখ করেছে। তবে দারিদ্র্য বিমোচনের ক্ষেত্রে ল্যাটিন আমেরিকা এবং ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের দেশগুলো অনেক পিছিয়ে আছে। গত দুই দশকে এ দুটি অঞ্চলে অতি দারিদ্র্যসীমার নীচে বসবাসকারী লোকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য কমেনি। ১৯৯০ সালে এ দুই অঞ্চলে সাড়ে ৫ কোটি লোক অতি দারিদ্র্যসীমার নীচে বাস করতো। ২০১৫ সালে তা তিন কোটিতে দাঁড়াবে বলে রিপোর্টে বলা হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের রিপোর্টে ২০১৫ সালের মধ্যে এমডিজির লক্ষ্যমাত্রা পূরণে নগরায়নের প্রতি বিশেষ জোর দেয়া হয়েছে। বিশ্বব্যাংক মনে করে, দেশগুলোর উন্নয়নে আগামী বছরগুলোতে নগরায়ন বিশেষ ভূমিকা রাখবে। ২০৩০ সালের মধ্যে উন্নয়নশীল দেশের ৯০ শতাংশের ওপরে লোক শহরে বাস করবে বলে রিপোর্টে আভাস দেয়া হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, ১৯৯০ সালে পৃথিবীর প্রায় দেড়শ’ কোটি লোক শহরে বাস করতো। ২০১১ সালে এসে তা ৩৬০ কোটিতে দাঁড়িয়েছে। জনস্রোত ঠেকানো না গেলে শহরে বস্তির সংখ্যা বাড়বে উল্লেখ করে রিপোর্টে বলা হয়, এর ফলে এমডিজি‘র লক্ষ্যপূরণ একেবারেই অসম্ভব হবে। এজন্য একটি সুষ্ঠু নগরনীতি তৈরি করার জন্যও সরকারগুলোকে পরামর্শ দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। শহরমুখী না হয়ে লোকজন যাতে গ্রামে থাকে সেজন্য কিছু নীতি গ্রহণের কথাও বলেছে বিশ্বব্যাংক। এক্ষেত্রে কৃষিকে অধিক গুরুত্ব দেয়ার কথা বলা হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের রিপোর্টে কিছু দেশের দারিদ্র্য দূরীকরণের প্রশংসা করা হয়। দেশগুলোর মোট দেশজ উত্পাদন বৃদ্ধির সাথে সাথে দারিদ্র্য বিমোচনও হয়েছে। এক্ষেত্রে ব্রাজিল এবং চীনের উদাহরণ দেয়া হয়েছে।