চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার মাদার্শা ইউনিয়নের ১৩৪তম মক্কার বলী খেলার চ্যাম্পিয়ান হয়েছেন রামুর দিদার বলী। অপরদিকে চকরিয়ার দুলাহাজারার হাসান বলী হয়েছেন রানার্স আপ। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল হতে আসা বলীদের শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ের পাশাপাশি জমে উঠেছিল হস্তশিল্প আর গ্রামীণ খাবার-দাবারের বিকিকিনি। এরকম উত্সব উপভোগ করার সুযোগ উপজেলার আশপাশের কয়েক গ্রামের মানুষের জন্য বছরে দু’-একবারই আসে। সাতকানিয়া মাদার্শা ইউনিয়নের পাহাড়ঘেরা সমতল ভূমিতে জমজমাট মক্কার বলী খেলা দেখতে গতকাল শনিবার জড়ো হয়েছিল হাজার হাজার মানুষ। সাতকানিয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী মক্কার বাড়ির পাহাড়ঘেরা মাঠে এ বলী খেলার ১৩৪তম আসর বসেছিল এবার। টেকনাফ, কক্সবাজার, রামু, চকরিয়া, মহেশখালী, লোহাগাড়া ও বাঁশখালী থেকে বলীরা যোগ দিয়েছিল এবারের বলী খেলায়। খেলার মূল আকর্ষণ ছিল রামুর দিদার বলী, টেকনাফের কলিমুল্লাহ বলী, বোবা বলী ও চকরিয়ার হাসান বলী। বলীদের মাঝে আধঘন্টাব্যাপী লড়াইয়ে রামুর দিদার বলী চ্যাম্পিয়ান ও চকরিয়া দুলহাজারার হাসান বলী রানার্স আপ হয়েছেন।
শনিবার বিকাল ৩টায় আয়োজকরা ঢোল বাজনার তালে তালে বলীদের সঙ্গে নিয়ে মাঠে প্রবেশ করেন। মুহূর্তের মধ্যে মক্কার বাড়ির পাহাড়ঘেরা মাঠ লোকে লোকারণ্য হয়ে উঠে। জায়গা সংকুলান না হওয়ায় পাশের উঁচু টিলা ও গাছের ডালে উঠে অনেকে বলী খেলা উপভোগ করেছেন। খেলায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন মির্জাখীলের লালু বলী, টেকনাফের ছিদ্দিক বলী, আবদুল বলী, বোবা বলী, রামুর দিদার বলী, সৈয়দ নূর বলী, মহেশখালীর মোহাম্মদ হোসেন বলী, কক্সবাজারের হাকিম বলী, সোনাকানিয়া সৈয়দ বলী, চকরিয়ার হাসান বলী, বাঁশখালীর নুরুল আমিন বলী প্রমুখ। খেলার আয়োজক মাদার্শা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান নাজমুল আলম চৌধুরী নাজু বলেন, ১৩৩ বছর আগে তার দাদা মরহুম মোহাম্মদ আবদুল কাদের বক্স চৌধুরী বাঙালি ঐতিহ্য আর কৃষ্টি ধরে রাখার জন্য এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিলেন। তারই ধারাবাহিকতায় প্রতি বছর বাংলার ৭ বৈশাখ এ বলী খেলা অনুষ্ঠিত হয়।
