চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ৩০ ফুটেরও বেশি নিচে নেমে গেছে। ১২ হাজারেরও বেশি টিউবওয়েলে পানি উঠছে না। এ সব টিউবওয়েল অকেজো হয়ে পড়ে আছে। এসব এলাকার মানুষ দূর থেকে পানি সংগ্রহ করে আনছে। সংশ্লি¬ষ্টরা বলছেন ব্যাপক হারে গভীর নলকূপ থেকে পানি উত্তোলন করে সেচ দেয়ার কারণে ও পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, দামুড়হুদা উপজেলায় ১৫ বছর আগে ২০/২৫ ফুট নিচে পানির স্থিতিশিল ছিল। যেখানে সেখানে টিউবওয়েল বসালেই পানি পাওয়া যেত পর্যাপ্ত। কিন্তু গত ১০ বছরে পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় টিউবওয়েলে পানি উঠছে না। বিশেষ করে চৈত্র বৈশাখ মাসে একেবারেই পানি ওঠে না। অনেকেই পানি তোলার জন্য বিকল্প ব্যবস্থা হিসাবে ৭/৮ ফুট মাটির নিচে গর্ত করে টিউবওয়েল ও মিনি তারা পাম্প বসিয়ে পানি উত্তোলন করছে। উপজেলার দামুড়হুদা সদর, কার্পসডাঙ্গা, কুড়াল গাছি ও পারকৃষ্ণপুর মদনা ইউনিয়নে টিউবওয়েলে পানি উঠছে না সবচেয়ে বেশি। কয়েকশ’ গভীর নলকূপ রয়েছে এই তিন ইউনিয়নে।
দামুড়হুদা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে জানা যায় উপজেলায় ৪৩ হাজার টিউবওয়েল রয়েছে। এর মধ্যে ১২ হাজার টিউবওয়েলে পানি উঠছে না। জনস্বাস্থ্য অফিস থেকে দেয়া ৩ হাজার ১৯৩টি টিউবওয়েলে পর্যাপ্ত পানি রয়েছে। এ সব টিউবওয়েল বসানোর আগে পানির স্তর মেপে বসানো হয়েছে। এলাকার অনেক গভীর নলকূপেও পানি উঠছে কম। দামুড়হুদা সদরে প্রায় বাড়িতেই পানি তোলার জন্য বিদ্যুত্ চালিত মোটর ব্যবহার করা হচ্ছে এবং ৫/৬ ফুট মাটির নিচে তৈরি করা ট্যাংকে পানি জমা করা হচ্ছে। আগামী ১০ বছরের মধ্যে পানির স্তর আরো নেমে গেলে পানির সংকট চরম আকার ধারণ করবে।
দামুড়হুদা উপজেলা জনস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আব্দুর রশিদ বলেন, এখন থেকে টিউবওয়েল বসাতে হলে পানির স্তর মেপে পাম্প বসাতে হবে। সেই সাথে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন কমাতে বৃষ্টির পানি ব্যবহার করতে হবে।
