হঠাত্ আলোর খেলায় মেতে উঠলো গোটা বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম। রং-বেরংয়ের আলোর ঝলকানিতে মুগ্ধ দর্শক। এভাবে আলোর মায়াবী যাদুতে দর্শকদের মুহুর্মুহু রোমাঞ্চিত করার মধ্য দিয়ে গতকাল শনিবার উদ্বোধন হল অষ্টম বাংলাদেশ গেমস। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিজিটাল প্যাডে স্বাক্ষর দিয়ে নয় দিনের এই গেমসের উদ্বোধন করেন।
প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে আসেন সন্ধ্যা সাতটায়। আসন গ্রহণ করার পর সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয়ে যায় জাতীয় সঙ্গীত। জনপ্রিয় শিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরি বন্যা ও তার সুরের ধারা’র একশ শিল্পী এবং স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পীরা যখন জাতীয় সঙ্গীত পরিবশেন করছিলেন তখন স্টেডিয়ামের সব দর্শক দাঁড়িয়ে সম্মান জানান। এরপর প্রধানমন্ত্রী পাঁচ হাজার ক্রীড়াবিদের মার্চপাষ্ট দেখেন। মার্চপাষ্ট শেষে উপস্থিত ক্রীড়াবিদদের শপথ পড়ান দেশের দ্রুততম মানব মোহন খান ও দ্রুততম মানবী নাজমুন নাহার বিউটি। মার্চপাষ্টে অংশগ্রণকারী সকল ক্রীড়াবিদ হাতের ছোট ছোট পতাকা উঁচিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সম্মান জানান। এরপর স্টেডিয়ামের পাশের উঁচু ভবনগুলোর গায়ে ভিডিও ডিসপ্লের মাধ্যমে ভেসে উঠে বিভিন্ন খেলার লোগো। আর এর পর পরই আনুষ্ঠানিকভাবে গেমসের উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধনের সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয়ে যায় লেজার শো। আলোর প্রেক্ষাপণে স্টেডিয়ামের গা ঘেঁষা ভবনে ধারাবাহিকভাবে ভেসে উঠে বাংলাদেশের মানচিত্র, বিভিন্ন আঙ্গিকে বঙ্গবন্ধুর চারটি প্রতিকৃতি। আরো ছিল স্মৃতিসৌধ, শহীদ মিনার, নৌকা, রাজু ভাস্কর্য ও জাতীয় ফুল শাপলা। এরপর একের পর এক বড় পর্দায় ভেসে উঠে ক্রীড়া ইতিহাসের নানা স্মরণীয় ঘটনা। খেলাধুলার নানা সাফল্যের খবর। ফুটবল, ক্রিকেট, হকি, বাস্কেটবল, শ্যুটিং, আরচারিসহ নানা খেলা বিষয়ক তথ্যচিত্র। আর্জেন্টাইন ফুটবল তারকা মেসিকে পর্দায় দেখে করতালি দিয়ে উঠেন দর্শকের আসনে বসা স্কুল ছাত্র-ছাত্রীরা। এছাড়া গ্রামবাংলার খেলাধুলার দৃশ্যগুলোর মধ্যে লাঠি খেলা, বাঁশের উপর হাঁটা আর ছোট ছোট শিশু, কিশোর-কিশোরীদের দুরন্তপনা ছিল উপভোগ্য।
এরপর গেমসের মাসকট কাঠবিড়ালী মাঠে প্রবেশ করে। মাঠ প্রদক্ষিণ শেষে যাওয়ার সময় কাঠবিড়ালী কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে তিন তলায় ভিভিআইপি গ্যালারিতে বসা প্রধানমন্ত্রীকে অভিনব কায়দায় সম্মান জানায়।
এর আগে উদ্বোধনী পর্বে শব্দ ও ছবির মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস স্টেডিয়ামে আসা ২২ হাজার দর্শকের সামনে তুলে ধরা হয়। এসময় মুক্তিযুদ্ধের ত্যাগের ঘটনাগুলো দাগ কেটে যায় ছোট ছোট শিশু-কিশোরদের মনে। এক সময় শব্দ তরঙ্গে ভেসে উঠে ৭ মার্চের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সেই ঐতিহাসিক ভাষণ। এরপর বিশাল আকারের জাতীয় পতাকা নিয়ে মাঠে প্রবেশ করে একটি পাল তোলা নৌকার রেপ্লিকা।
এবারের বাংলাদেশ গেমসের থিমসং হলো:‘একই বিশ্বাসে আজ জেগেছে দুর্জয় প্রাণ’। আট ফুট উঁচু এবং ৬০ ফুট প্রশস্ত সাদা রংয়ের মঞ্চে গানটি পরিবেশন করেন দেশের খ্যাতনামা শিল্পী সুবীর নন্দী, শাকিলা জাফর, ফাহমিদা নবী, বাপ্পা মজুমদার ও কণা। সব শেষে আতশবাজির মধ্য দিয়ে শেষ হয় গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। প্রসঙ্গত, এবার গেমসের বাজেট ধরা হয়েছে ২১ কোটি ৭০ লাখ টাকা।
