এলিফ্যান্ট রোডে বহুতল মার্কেটে ভয়াবহ আগুন

আপডেট : ২০ এপ্রিল ২০১৩, ২৩:০৯
রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডের বহুতল মার্কেট মাল্টিপ্ল্যান সেন্টারে গতকাল শনিবার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সকাল সাড়ে ১০টায় আগুন লাগার পর দুই ঘণ্টা চেষ্টা করে ফায়ার সার্ভিসের ১৪টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ধোঁয়া সরাতে ফায়ার সার্ভিসের ৬ ঘণ্টা সময় লেগেছে। ধোঁয়ায় চারজন আহত হলেও তা গুরুতর নয় বলে জানিয়েছেন ফায়ার কর্মীরা। আগুনে দুইটি দোকান ভস্মীভূত হলেও ক্ষতি কয়েক কোটি টাকা বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ফায়ার কর্মীরা ধারণা করছেন, তৃতীয় তলায় একটি খাবারের দোকানের এলপি গ্যাস সিলিন্ডার অথবা বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকে আগুন লাগতে পারে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, মুহূর্তেই ১৪তলা ভবনটির প্রতিটি ফ্লোরেই আগুন ছড়িয়ে পড়ায় বিভিন্ন ফ্লোর থেকে লোকজন দৌড়ে ভবনের ছাদে আশ্রয় নেন। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ক্রেনের মাধ্যমে তাদের নিচে নামিয়ে আনেন। এই ভবনে প্রায় সাড়ে ৭শ দোকানের মধ্যে প্রথম দুই তলায় পোশাক ও সিডিসহ বিভিন্ন পণ্যের দোকান, তৃতীয় তলা থেকে ১২তলা পর্যন্ত কম্পিউটার ও এর বিভিন্ন সরঞ্জামের দোকান ও উপরের দুইটি তলায় বিভিন্ন ধরনের অফিস রয়েছে। এর মধ্যেই রয়েছে কয়েকটি ফাস্টফুডের দোকান। প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন কর্মী জানান, তারা মার্কেটে ঢুকে ধোঁয়া দেখতে পান। তখনো মার্কেটের লিফট চালু ছিল। ধীরেধীরে ধোঁয়ায় পুরো মার্কেট অন্ধকার হয়ে ঙ গেলে তারা সিঁড়ি বেয়ে নেমে মালিক সমিতিকে বিষয়টি জানিয়ে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক (ঢাকা অঞ্চল) জহিরুল ইসলাম জানান, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের ১৪টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণ কাজ শুরু করে। সাড়ে ১২টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হলেও প্লাস্টিক পণ্য থাকায় পুরো ভবন ধোঁয়াচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। বিকাল ৩টা পর্যন্ত ভবনের জানালা ও সামনের অংশের কাঁচ ভেঙে ধোঁয়া সরানোর কাজ করা হয়। আগুনে তৃতীয়, চতুর্থ ও সপ্তম তলার কয়েকটি দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর মধ্যে তিন তলায় একটি খাবারের দোকান ও পাঁচ তলায় একটি কম্পিউটারের দোকান পুড়ে গেছে। আর দোকানের বাইরে থাকা আসবাপত্রও পুড়ে গেছে। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা জানান, মার্কেটের ভেতরে প্রাথমিকভাবে আগুন নেভানোর কিছু সরাঞ্জম থাকলেও তা ব্যবহার করা হয়নি। মার্কেটের ব্যবসায়ী ও দোকান কর্মীরা তা ব্যবহার করতেও জানেন না। তা ছাড়া মার্কেটের ভেতর পর্যাপ্ত আলো-বাতাস প্রবেশের সুযোগ না থাকায় ভেতরে ব্যাপক ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়। মার্কেটের কয়েকজন দোকান মালিক তা স্বীকার করে বলেন, বহুতল ভবন হলেও এ পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিস কোনো দিন ভবনটিতে ফায়ার মহড়া করেনি। এমনকি অগ্নিকাণ্ডের ব্যাপারেও মার্কেটের লোকজনের কোনো প্রশিক্ষণ নেই। ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের পরিচালক (অপারেশন) মেজর মাহবুব হোসেন জানান, ধোঁয়ার কারণে ১৫/২০ জন লোক ভবনটির বিভিন্ন ফ্লোরে আটকা পড়ে। তবে ফায়ারের উদ্ধার কর্মীরা তাদের নিরাপদে নিচে নামাতে সক্ষম হন। তাদের মধ্যে ৪ জন সামান্য আহত হলেও একজনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে দোকান মালিকদের অভিযোগ, মালিক পক্ষ প্রতিমাসে দোকান প্রতি ৭ হাজার টাকা থেকে শুরু করে সাড়ে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সার্ভিস চার্জ নেয়। অথচ মাল্টিপ্ল্যান সেন্টারে অগ্নিনির্বাপণে সুষ্ঠু কোনো ব্যবস্থা নেই। আগুন নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা থাকলে তৃতীয় তলার আগুন উপরে উঠতে পারতো না। এছাড়াও গত দুই দিন ধরে ভবনটিতে পানির লাইন বন্ধ রয়েছে। আগুন লাগার কিছুক্ষণ পর থেকেই সায়েন্স ল্যাবরেটরি থেকে শাহবাগ পর্যন্ত রাজপথে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে করে ওই এলাকায় যানজট ভয়াবহ আকার ধারণ করে। পরে দুপুর একটার দিকে যান চলাচল শুরু হলে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়। আগুনের খবরে আশপাশের ভবনের লোকজন আতঙ্কিত হয়ে রাস্তায় নেমে আসে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হাসান মাহমুদ খন্দকার ও ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার (ডিএমপি) বেনজীর আহমেদ। এ সময় আইজিপি সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটি নাশকতা না দুর্ঘটনা তা তদন্তে বেরিয়ে আসবে। তবে প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে এটা দুর্ঘটনা। দোকান মালিক সমিতি ও পুলিশ সদস্যরা মিলে অগ্নিকাণ্ডের ক্ষয়ক্ষতি নির্ধারণ করবেন।’ মাল্টিপ্ল্যান সেন্টারের দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, দোকানগুলোর বেশি ক্ষতি না হলেও ১০তলা পর্যন্ত বাইরের ডেকরেশনসহ আসবাবপত্র প্রায় সবই পুড়ে গেছে। এছাড়া বৈদ্যুতিক লাইনও পুরোপুরি পুড়ে গেছে। তিনি বলেন, কম্পিউটারের প্রায় সব সরাঞ্জম প্লাষ্টিক জাতীয়। ফলে আগুনের তাপে দোকানগুলোতে এসব সরাঞ্জমে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সব মিলিয়ে কয়েক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে কমিটি গঠন করা হবে বলে জানান তিনি।