রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ

আপডেট : ২০ এপ্রিল ২০১৩, ২৩:১০
৪ শিক্ষক ও ২ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্তের ঘটনাকে কেন্দ্র করে গতকাল শনিবার রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে দুর্নীতি বিরোধী মঞ্চ ও ভিসির পক্ষের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের ঘন্টাব্যাপী ত্রিমুখী সংঘর্ষে কমপক্ষে ১শ’ জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে ২০ জনকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। সহিংস ঘটনার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া ৬ শিক্ষক কর্মকর্তার বরখাস্তের আদেশ ৭ দিনের জন্য স্থগিত এবং সহিংস ঘটনা তদন্তে ৪ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ৪ শিক্ষক ও ২ কর্মকর্তাকে ৭ দিনের মধ্যে তাদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের জবাব দিতে বলা হয়েছে। জবাব সন্তোষজনক হলে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ বাতিল করা হবে। অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী স্থায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সিন্ডিকেট সদস্য প্রফেসর ড. কে মওদুদ এলাহীকে আহ্বায়ক, প্রক্টরকে সদস্য সচিব এবং সিন্ডিকেট সদস্য আলাউদ্দিন মিয়া ও ট্রেজারার প্রফেসর মোজাম্মেল হককে সদস্য করে গঠিত কমিটিকে আগামী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। গতকাল বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. আব্দুল জলিল মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের ৩১তম জরুরী সভায় ঘটনার তীব্র নিন্দাসহ উল্লেখিত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পুলিশ, বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, গতকাল সকালে দুর্নীতি বিরোধী মঞ্চের ব্যানারে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীরা ভিসি’র বাসভবন ঘেরাও করতে গেলে পুলিশ বাধা দেয়। পরে ভিসি’র পক্ষের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংঘর্ষ বেধে গেলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যাপক লাঠিচার্জ ও ৫০ রাউন্ড টিয়ার সেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এক পর্যায়ে দুর্নীতি বিরোধী মঞ্চের আন্দোলনকারীরা ভিসি’র বাসভবনের সীমানা প্রাচীর ভাংচুর করে। আন্দোলনকারীরা ভিসির বাসার দেয়াল ভেঙে বাসভবনের ভেতরে ঢুকে পড়েন। দুর্নীতি বিরোধী মঞ্চের আন্দোলনকারীরা প্রশাসনিক ভবন, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসিক ভবনে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি বিভাগের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেয়। ৬ শিক্ষক-কর্মকর্তার বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে সকাল ৯টা থেকে আন্দোলন শুরু করে দুর্নীতি বিরোধী মঞ্চের আন্দোলনকারীরা। একাডেমিক ভবনগুলোতে তালা লাগিয়ে সব বিভাগের ক্লাস বন্ধ করে দিয়ে তিন নম্বর একাডেমিক ভবনের সামনে সমাবেশ শুরু করে তারা। একই দাবিতে সাধারণ শিক্ষক ও প্রতিবাদী শিক্ষকদের ব্যানারে পৃথক দু’টি মানববন্ধন শুরু করেন কিছু শিক্ষক। বেলা ১১টার দিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে গিয়ে উপাচার্যের বাসভবন ঘেরাও করে। এ সময় সেখানে ভিসি প্রফেসর ড. মু. আব্দুল জলিল মিয়ার সভাপতিত্বে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের ৩১তম সভা চলছিল। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা এক পর্যায়ে উপাচার্যের বাসভবনের নিরাপত্তা প্রাচীর ভেঙে ফেলে। এ সময় সেখানে কে বা কারা একাধিক ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটালে লাঠিচার্জ শুরু করে পুলিশ। এতে সংঘর্ষ বেধে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ অর্ধ-শতাধিক রাউন্ড টিয়ার শেল ও রাবার বুলেট ছুঁড়লে অন্তত ১শ’ জন আহত হয়।