দেশে অনুশীলন নেই, জিম্বাবুয়েতে গিয়েও ছিল না কোনো ম্যাচ। এই প্রশ্ন বারবার যখন উঠেছে, বাংলাদেশের কর্মকর্তারা তৃপ্তির ঢেকুর তুলে বলেছেন, অনুশীলন ম্যাচ খুব জরুরি না। ভাবটা এমন যে, জিম্বাবুয়ে একটা ‘পুচকে দল’। সেই পুচকে দল আরো একবার লজ্জায় ডোবালো বাংলাদেশকে। ২০১১ সালের মতোই এবার ‘আন্ডারডগ’ বলে অবিহিত জিম্বাবুয়ে হারালো বাংলাদেশকে। আর কী সেই হারের ব্যবধান? চার দিনেই বাংলাদেশ ৩৩৫ রানের বিশাল ব্যবধানে হেরে গেল জিম্বাবুয়ের কাছে। বাংলাদেশ দুই ইনিংস মিলিয়ে জিম্বাবুয়ে অধিনায়ক টেলরের একার মোট রানের চেয়ে মাত্র ৮ রান বেশি করতে পারল!
এই হারের লজ্জা তো কোনোভাবেই মুছে ফেলা সম্ভব না। তারপরও ম্যাচশেষে অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম ব্যাখ্যা দেয়ার চেষ্টা করলেন, ‘টসে জেতার পর ভেবেছি আমরা ভালো বল করতে পারবো। কিন্তু অনেকগুলো ক্যাচ আমরা মিস করেছি। আমাদের ক্যাচগুলো ধরা উচিত ছিল। তৃতীয় সিমার নেয়া হয়নি, এটা আমাদের বড় ভুল। তবে আমাদের বড় রান করার ক্ষমতা রয়েছে। আশা করছি, দ্বিতীয় টেস্টে আমরা দারুণভাবে ফিরে আসবো’।
অবশ্য মাঠে মুশফিকের দলের পারফরম্যান্স দেখে বোঝা কঠিন যে, তারা পরের টেস্টে ভালো কিছু করতে পারবেন। বোঝা কঠিন যে, এই দলটি ক’দিন আগে শ্রীলংকার বিরুদ্ধে অসাধারণ ক্রিকেট খেলে ড্র করেছে। প্রায় চার বছর পর টেস্ট স্ট্যাটাস পেয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে যে দলটি, তাদের কাছে ৩৩৫ রান হারের লজ্জা পেতে হল বাংলাদেশকে।
গতকাল শনিবার টেস্টে চতুর্থদিনের শুরুতে অধিনায়ক ব্রেন্ডন টেইলরের ব্যাক টু ব্যাক সেঞ্চুরির পর ৭ উইকেটে ২২৭ রান করে ৪৮২ রানের লিড নিয়ে ইনিংস, ঘোষণা করে স্বাগতিক জিম্বাবুয়ে। প্রথম ইনিংসের পর ফের সেঞ্চুরি করা টেইলরই মূলত দুই দলের ব্যবধান গড়ে দিয়েছেন। ম্যাচ সেরা টেইলরকে থামাতে না পারার মাশুল দিতে হয়েছে বাংলাদেশকে। মাথার উপরে তাদের নিতে হয়েছে ৪৮৩ রানের বোঝা।
জিততে হলে বিশ্বরেকর্ড করে জিততে হবে—এমন হিসাব নিয়ে মাঠে নামে মুশফিকরা। কিন্তু বিশ্বরেকর্ড তো দূরের কথা, নিজেদের গড়া প্রথম ইনিংসে ১৩৪ রান টপকে যাওয়ার চিন্তাও যেন তাদের কাছে অনেক দূর মনে হচ্ছিল। ইনিংসের সপ্তম ওভারে শাহরিয়ার নাফীসকে (১১) দিয়ে শুরু, ব্যক্তিগত ২২ রানে জহুরুল ইসলামও দুর্বল শট মারতে গিয়ে ড্রেসিংরুমে ফিরেন। দুই উইকেটে ৪২ রান নিয়ে লাঞ্চে বাংলাদেশ। লাঞ্চের পর যে ঝড়টা বইয়ে গেছে মুশফিকদের ব্যাটিং লাইনআপে তা অনেকদিন মনে থাকবে তাদের।
দ্বিতীয় সেশনে বাংলাদেশ আরো চার উইকেট খুইয়ে স্কোরবোর্ডে তোলে ১৩৬ রান। তাতেই বাংলাদেশের পরাজয় এক প্রকার নিশ্চিত হয়ে যায়। তবে চা বিরতির পর মাত্র আধাঘন্টা সফরকারীদের ইনিংসের স্থায়ীত্ব হবে তা ভাবেনি কেউই। এগারজন ক্রিকেটারের মধ্যে ছয়জনের (সাকিব ৪, মুশফিক ৩, গাজী ৪, এনামুল ৬, রুবেল ৪, রবিউল ০) ব্যাট থেকে এসেছে এক অংকের স্কোর। আশরাফুল ও নাসির লড়াইটা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন বটে, কিন্তু রানআউট সে স্বপ্নও নষ্ট করে দেয়। আশরাফুলের ১৫৭ মিনিটে ৪০ রানের ইনিংসের সমাপ্তি ঘটে। বাংলাদেশও হেরে যায় বড় ব্যবধানে। লাঞ্চের পর আড়াই ঘন্টার সেশনের পুরোটা সময়জুড়ে দাপট ছিল ক্রেমারের। কাইল জারভিস নিয়েছেন তিন উইকেট, আর ক্রেমারের দাপটে তার অর্জন চার উইকেট।
জিম্বাবুয়ের এটি দশম টেস্ট জয়। ২০১১ সালে এই হারারে মাঠে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে তাদের সর্বশেষ টেস্ট জয় ছিল। এরপর পাঁচ টেস্টে কোন জয় নেই। এই মাঠেই বাংলাদেশ খেলবে তাদের দ্বিতীয় টেস্ট যেটি শুরু হবে আগামী ২৫ এপ্রিল।
