মাহমুদুর রহমানের অবস্থার অবনতি

আপডেট : ২০ এপ্রিল ২০১৩, ২৩:১৩
আমার দেশের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের অবস্থা গুরুতর। শরীরের বিভিন্নস্থানে ক্ষত এবং ব্যথা নিয়ে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ গতকাল শনিবার ৯ সদস্য বিশিষ্ট মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের হূদরোগ বিভাগের প্রধান আবু সিদ্দিকীকে এ বোর্ডের প্রধান করা হয়েছে। অন্য সদস্যদের মধ্যে হূদরোগ বিভাগের অধ্যাপক নুসরাত আহমেদ চৌধুরী, অধ্যাপক সদর ব্যানার্জী, সহযোগী অধ্যাপক মঞ্জুরুল মাহমুদ এবং এ বিভাগের আরেক চিকিত্সক। এছাড়া, অন্য বিভাগের ৪ জন চিকিত্সক রয়েছেন। তারা হলেন- অধ্যাপক এবিএম আবদুল্ল¬াহ, অধ্যাপক রফিকুল আলম, সহযোগী অধ্যাপক হারিস চৌধুরী এবং সহযোগী অধ্যাপক আকতার হামিদ। সূত্র জানায়, তিন দফা দাবীতে টানা ৬ দিন ধরে অনশনে থাকা মাহমুদুর রহমান খাদ্য গ্রহণ না করায় তাকে স্যালাইন দিয়ে রাখা হয়েছে। তার শরীরের বিভিন্নস্থানে আঘাতের ক্ষত রয়েছে। এ অবস্থায় অনশন এবং ব্যথায় মাহমুদুর রহমানের অবস্থা ক্রমাগত অবনতির দিকে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। চিকিত্সকরা তার নাকে পাইপ দিয়ে তরল খাদ্য দেয়ার চেষ্টা করলে তাতে বাধা দেন মাহমুদুর রহমান। সূত্র জানায়, গতকাল সকালে পরীক্ষায় দেখা গেছে মাহমুদুর রহমানের হূদপিণ্ডের পালস্ অর্ধেকে নেমে এসেছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের ডি-ব্লকের দ্বিতীয় তলায় হূদরোগ বিভাগের সিসিইউতে রয়েছেন তিনি। ৪ জন কারারক্ষী এবং ৮ জন পুলিশ প্রহরা দিচ্ছেন। শুক্রবারের পর মাহমুদুর রহমানের কোনো স্বজন-শুভাকাঙ্ক্ষীকে ভেতরে ঢুকতে দেয়া হয়নি। দৈনিক আমার দেশ পত্রিকা চালু, মা মাহমুদা বেগমের নামে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার এবং প্রেসের ১৯ জন কর্মচারীর মুক্তির দাবিতে গত সোমবার থেকে কারাগারে অনশন করছেন মাহমুদুর রহমান। এদিকে মাহমুদুর রহমানের তিন দফা দাবি মেনে নিয়ে তার জীবন বাঁচাতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন এ্যাসোসিয়শন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (এ্যাব) এর প্রকৌশলী নেতারা। গতকাল বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মাহমুদুর রহমানের মুক্তি ও আমার দেশ’র প্রেস খুলে দেয়ার দাবিতে আয়োজিত সমাবেশে তারা এ দাবি জানান। একই দাবিতে আজ রবিবার সকাল ১০টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের সমাবেশ এবং কাল সোমবার বিএফইউজে ও ডিইউজের উদ্যোগে সাংবাদিকদের মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। রবিবারের মধ্যে মাহমুদুর রহমানের মুক্তি ও প্রেস খুলে দেয়া না হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় ঘেরাওসহ কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেয়া হয় সমাবেশ থেকে। এদিকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে গতকাল অনলাইন একটিভিস্ট এবং কয়েকজন তরুণ সাংবাদিক মাহমুদুর রহমানের জন্য অনশনে বসেন। পূর্বাহ্নে সরকার সমর্থক কিছু তরুণ এসে তাদেরকে মারধর করে সেখান থেকে উঠিয়ে দেয়। একজন নারী সাংবাদিকও ছিলেন। যাকে তারা টানাহেচড়া করে প্রেসক্লাবের সম্মুখ চত্বরে সরিয়ে দেয়।