অসচেতনতাই দাম্পত্য জীবনে দূরত্ব তৈরি করে। এই দূরত্বই এক সময় তৃতীয়পক্ষের আগমনের পথ করে দেয়। যা প্রত্যেক মানুষের জীবনে বিপর্যয় ডেকে আনে, যা কারো কাম্য নয়। পরস্পরের এই দূরত্ব ঘোচাতে করণীয় নিয়ে আমাদের এই প্রতিবেদন। লিখেছেন— রাবেয়া বেবী
বিয়ের কিছুদিন পরে যখন শাওন অফিসে ব্যস্ত হয়ে পড়ে, তখন নিছক একঘেয়েমি কাটাতে চাকরিতে ঢোকে প্রিয়া। আজ তিন বছরে শখের সেই কাজ তাকে এনে দিয়েছে একটি ব্যস্ততাময় আর সম্মানজনক অবস্থান। প্রিয়ার আয় আজ সংসারে একটা ভালো ভূমিকা রাখছে। কাজ আর সংসারের টানাপড়েনে কখন যে নিজেদর দাম্পত্য জীবনে একঘেয়েমি এনে ফেলেছে তা শাওন কিংবা প্রিয়া কেউই টের পায়নি। বাজারের হিসাব, বাড়ি ভাড়া, নানান বিল আর ছেলে-মেয়েদের পড়াশুনা, টিচার, ভর্তি এসব প্রয়োজনীয় কথাবার্তার বাইরে যেন তাদের কোন আলাপ নেই। এই জীবনে প্রিয়ার অফিস কলিগরা যখন কাজের ফাঁকে একটু আনন্দ খুঁজে নেয় পারস্পারিক নির্মল আনন্দ শেয়ার করার মাধ্যমে। তখন প্রিয়া তাতে অংশ নিলেও ভাবে শাওনও যদি এমন আনন্দ খোঁজে তার কোন সহকর্মীর মাঝে। তখন সে অনুভব করে হ্যাঁ, সংসারের ব্যস্ততার মাঝেও আনন্দ দরকার একঘেয়েমি পরিহার করতে।
একটু সচেতনতার অভাবে প্রিয়া আর শাওনের মতো আজ অনেক দম্পতি যান্ত্রিক জীবন যাপন করছেন। এই সচেতনতাটুকু যেমন আপনার জীবনে আনবে ইতিবাচক পরিবর্তন তেমন কাজ আর সংসার জীবনে আপনি আরও সফল হতে পারবেন। কারণ স্বামী কিংবা স্ত্রীর একঘেয়েমি কাটাতে এই অবস্থায় তৃতীয়পক্ষের আগমন ঘটার সম্ভাবনা থেকে যায়। পরকীয়া নামের সেই শত্রু আপনার ও সন্তানের জীবনে আনতে পারে চরম বিপর্যয়।
এই পরিস্থিতিতে কি করবেন — ব্যয়বহুল এই সময়ে একজনের আয়ে সংসার চলে না। তাই চাকরি ছেড়ে জীবনসঙ্গীর পাশে থাকার চেয়ে মানসিকভাবে সবসময় কাছে থাকুন। কাজের ফাঁকে স্বামী-স্ত্রী পরস্পরকে ফোন করুন। খোঁজ-খবর নেয়ার সময় হালকা রসিকতা করুন।
কেউ যদি কোন ভুল করেই ফেলে তার রেশ দীর্ঘ সময় যেমন টেনে নেবেন না, তেমন ভুলটি কি তাও তাকে ধরিয়ে দিন যেন সে পরে আর তা না করে।
ভুল স্বীকার করা সকলের জন্যই কষ্টের। এখানে ইগো কাজ করতে পারে। আর আজকাল ব্যক্তিত্বের সংঘাতে তা আরও বেশি কষ্টকর করে তুলেছে। তাই দোষ যে-ই করুক না কেনো আপনার সঙ্গীর সাথে রাগী মেজাজে না থেকে সমঝোতায় থাকুন, যেন সে ভুল স্বীকার করে এবং ‘সরি’ বলার পরিবেশ থাকে।
বাড়ি কিংবা অফিসে থাকলেও পরস্পর পরস্পরকে খুদে বার্তা পাঠান। এতে মজার কথার পাশাপাশি রোম্যান্টিক কথাও লিখে পাঠান। বিয়ের অনেকদিন পর হয়েছে এমন না ভেবে, প্রতিদিনই নিজেদেরকে নতুন করে আবিষ্কার করুন।
নিজেদের সামাজিক ওয়েবসাইটগুলোর একাউন্টে স্ট্যাটাসগুলো পরস্পরকে দেখান কিংবা কোন মজার কিংবা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলে লিংক পাঠান, কিংবা ওয়ালে পোস্ট করুন।
অফিসের ঘটে যাওয়া ঘটনা যেমন সঙ্গীকে জানাবেন, তেমন অফিসের কলিগদের সমস্যা, আনন্দের কথাগুলো খুলে বলুন এতে নিজেদের অনেক সমস্যাও সমাধান হবে।
প্রতিদিন অফিস শেষে বাসায় না ফিরে একদিন সঙ্গীর অফিসে চলে যান। বাইরে কোথাও চা খেয়ে একসাথে বাড়ি ফিরুন।
সন্তানদের সাথে বেড়াতে যাওয়ার বাইরে নিজেরাও নিজেদের মতো করে ছুটিগুলো উপভোগ করুন। কখনো শহরের বাইরে বেড়াতে যান। কিংবা অফিস ট্যুরে আপনার সঙ্গীকে সঙ্গে নিন।
মাঝে-মধ্যে সঙ্গীকে উপহার দিন। ছোট ছোট উপহার দেয়া-নেয়ার মাঝে আন্তরিকতা বাড়ে।
বিশেষ দিনগুলোকে মনে রাখুন। বিবাহ বার্ষিকী কিংবা সঙ্গীর জন্মদিন সাধ্যমতো সেলিব্রেট করুন।
মাঝে-মধ্যে বন্ধু-বান্ধবের পরিবারের সাথে পিকনিক করুন কিংবা একসাথে বাইরে খান, এতে অন্যদের অবস্থান কেমন জেনে যেমন নিজেদের অবস্থান নির্ণয় করা যায়। তেমন নিজেদের ভালো দিকগুলোও আবিষ্কৃত হয়।
শুধু অফিস আর বাড়ি না করে, কম্পিউটার, স্পোকেন, প্রভৃতি সর্ট কোর্সে ভর্তি হতে পারেন। নতুন পরিবেশ। আপনার জন্য নতুন অনেক অভিজ্ঞতা আনবে। যা আপনার দাম্পত্য জীবনের একঘেয়েমি কাটাতে সাহায্য করবে।
একটা কথা আমাদের সবারই মনে রাখতে হবে নিজেদের কাছের মানুষের সাথে সম্পর্কের উন্নতি করতে আগে নিজেকেই সচেষ্ট হতে হবে। চেষ্টা করতে হবে সম্পর্কের দায়গুলো মেটাতে আপনার কোন ঘাটতি আছে কিনা তা বুঝতে। আপনার জীবনসঙ্গীকে প্রতিপক্ষ কিংবা প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বন্ধু ভাবুন। তাহলেই সমস্যা কম হবে।
