আকাশ দম্পতি

মেজর মঞ্জুরুল হক ও মেজর নুসরাত

আপডেট : ২১ এপ্রিল ২০১৩, ১৯:৪৯
রেকর্ড সৃষ্টি করলেন এ দেশের ছত্রীসেনার ইতিহাসে যুগলভাবে। সেই গর্বিতরা হচ্ছেন মেজর নুসরাত নূর আল চৌধুরী ও মেজর মোহাম্মদ মঞ্জুরুল হক দমপতি কোন সাজানো গল্প নয়। কিংবা কোন সিনেমার দৃশ্যপটও নয়। এক অসাধারণ বাস্তব চিত্র। যা নারীর অগ্রযাত্রায়ও আরো এক ধাপ সংযোজন হলো বাংলাদেশের ইতিহাসে। ৩ হাজার ফুট উপর থেকে জ্যাম্প করে ভাসতে ভাসতে প্যারাস্যুট দিয়ে যুগলভাবে আকাশ থেকে নেমে আসলেন এক সেনা দমপতি। আর আরেক রেকর্ড সৃষ্টি করলেন এ দেশের ছত্রীসেনার ইতিহাসে যুগলভাবে। সেই গর্বিতরা হচ্ছেন মেজর নুসরাত নূর আল চৌধুরী ও মেজর মোহাম্মদ মঞ্জুরুল হক দমপতি। এই দম্পতি জালালাবাদ সেনানিবাসের সেনা কমান্ডো নীল আকাশে ডানা মেলে ভাসতে ভাসতে উপভোগ করলেন এক ব্যতিক্রমী ও রোমাঞ্চকর দৃশ্য। এ সুযোগটি তাদের জীবনে এনে দিয়েছে চ্যালেঞ্জিং সৈনিক জীবন। আর সৈনিক পেশাই তাদের কি ‘আকাশ দম্পতি’ নাম করে দিল বাংলাদেশের ভবিষ্যত্ সেনা ইতিহাসে। সম্প্রতি সিলেটের পানিছড়া ড্রপজোনে যুদ্ধবিমান থেকে যুগলভাবে লাফ দিয়ে মাটিতে একইসঙ্গে অবতরণ করে রেকর্ড গড়লেন এই দম্পতি। এ বছরেরই ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রথম নারী ছত্রীসেনা হওয়ার গৌরব অর্জন করেন ক্যাপ্টেন জান্নাতুল ফেরদৌস। ‘আকাশে ওড়ার অনুভূতির কথা বলে বোঝানো যাবে না। এ অনুভূতিটাই আলাদা’ মন্তব্য করে মেজর নুসরাত বলেন ‘চ্যালেঞ্জ ও স্বপ্ন যেন বাস্তবায়িত হলো ৭ম জ্যাম্পের মাধ্যমে।’ নুসরাত জানালেন, এর আগের জ্যাম্পটি ছিল আড়াই হাজার ফুট থেকে। এই অর্জনে পরিবার, বিশেষ করে প্যারাস্যুট জাম্পের ক্ষেত্রে যারপর নাই সহযোগিতা ছিল স্বামী মেজর মঞ্জুরুল হকের। তাদের সহযোগিতাই মেজর নুসরাতকে সফলতায় পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছে। মেজর নুসরাত জানান, স্বামী মেজর মঞ্জুরুল একজন ছত্রীসেনা। তার ইচ্ছা রয়েছে একশ’ জ্যাম্প দেয়ার। স্বামী বিদেশে প্রশিক্ষণের সময় ভিডিওতে দেখতে পান নুসরাত সেখানে নারীরাও ছত্রীসেনা হওয়ার প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। আর সেখান থেকেই ছত্রীসেনা হওয়ার স্বপ্ন। ‘প্রতিজ্ঞা করলাম তারা পারলে আমি পারবো না কেন’। নুসরাত বলেন, ‘সব ক্ষেত্রেই মেয়েদের কর্মক্ষেত্র রয়েছে। আর এজন্য মেয়েদেরই এগিয়ে আসতে হবে।’ দ্বিতীয় নারী ছত্রীসেনা মেজর নুসরাত ২০০৩ সালের ২ জুলাই এবং মেজর মোহাম্মদ মঞ্জুরুল ২০০২ সালের ২৬ জুন সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। তার বাড়ি বরিশালের ঝালকাঠি জেলার নবগ্রামে। ঢাকার মোহাম্মদপুর গভর্নমেন্ট হাইস্কুল থেকে এসএসসি ও ইউনিভার্সিটি ল্যাবরেটরি হাইস্কুল থেকে ১৯৯৮ সালে এইচএসসি উত্তীর্ণ হয়ে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। স্ত্রী নুসরাত সম্পর্কে স্বামী মঞ্জুরুল হক বলেন, সেনা প্রশিক্ষণ বেশ কঠিন। প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে নুসরাত নিজেকে জাম্পের জন্য তৈরি করেছে। ব্যক্তিগত জীবনে সুখী দম্পতি মেজর মঞ্জুরুল ও নুসরাত। ১২ বছর আগে মিলিটারি একাডেমিতে ক্যাডেট থাকাকালে তারা একজন আরেকজনের সঙ্গে পরিচিত হন। ২০০৮ সালে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় তাদের।