রোমাঞ্জকতা কার না ভাল লাগে, আর সেই রোমাঞ্জের যায়গাটিকেই যদি নিজের প্রিয় কর্মস্থল এবং নেসা ও পেশা হিসেবে কাজে লাগানোর মাধ্যমে খ্যাতি অর্জন করা যায় তবে তো বলারই অপেক্ষা রাখে না। এমনই কতিপয় দূরদর্শী নারী যারা তাদের অসামান্য কৌতূহল ও দূরদর্শীতাকে কাজে লাগিয়ে প্রভাবশালী ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানে স্থান করে নিয়েছেন। লিখেছেন— মরিয়ম চম্পা
মিরিয়াম ওরেলি
১৯৫০ সালে ইংল্যান্ডে জন্ম নেওয়া এক আইরিশ কৃষক কন্যা ওরেলি, ২০০৯ সালে বিবিসির বিরুদ্ধে বয়স বৈষম্যর দাবিতে জয়ী প্রথম টেলিভিশন উপস্থাপিকা। ওরিলির বয়স যখন ১৭ তখন থেকেই তিনি সাংবাদিক হওয়ার স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন। শিশুদের টিভি অনুষ্ঠান টিছওয়াছ অনুষ্ঠানে কাজ করার সময় তিনি সংবাদপত্রে শিক্ষানবিস সাংবাদিক হওয়ার জন্য আবেদন করেন। পরে ওরেলি দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত ‘কি আলেকজান্ডার এবং সান বেয়ার্ডসমোর’র পাশাপাশি মিডল্যান্ডস নেভিগেশনের সহকারি উপস্থাপনার মাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করেন। ক্যান্ট্রিফাইল থেকে বাদ পড়ে তিনি অত্যন্ত সাফল্যর সাথে বিবিসি’র বিরুদ্ধে বয়স বৈষম্যের মামলা পরিচালনা করে জয় লাভ করেন, যা ছিল তার জন্য অত্যন্ত আবেগের ও বেদনাদায়ক। ২০১১ সালে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের কভারেজ এর অংশ হিসেবে বিশ্বের শীর্ষ ১০০ জন সর্বাধিক অনুপ্রেরণীয় নারীদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হন। বয়স বৈষম্য নিয়ে ওরেলি বলেন, আমরা টেলিভিশনে বয়স্ক মহিলাদের প্রদর্শিত না করলে সমাজে তাদের অস্তিত্ব না থাকার নমান্তর। টেলিভিশনে বয়স্ক মহিলাদের সুযোগ করে দিয়ে ব্যাপকভাবে আলোচিত হন তিনি।
র্যাসেল ম্যড্ডো
বহুগুণে গুণান্বীত র্যাসেল ম্যড্ডোর জন্ম ১৯৭৩ সালের পহেলা এপ্রিল। তিনি একই সাথে টেলিভিশন হোস্ট, রাজনৈতিক সুবক্তা এবং প্রখ্যাত লেখক। ম্যড্ডো মূলত কাজ করেন একটি রাত্রিকালীন টেলিভিশন শো ম্যড্ডোর (এমএসএনবিসি) উপর। পাশাপাশি আমেরিকান রেডিও এয়ার্ড নামক একটি রেডিও প্রোগ্রাম পরিচালনা করেন। এছাড়া সম্প্রতি তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রধান সংবাদ অনুষ্ঠানে প্রথম মুক্ত সমকামী নোঙ্গর পরিচালনা করে ব্যাপক সাড়া পেয়েছিলেন। ভ্যালি অ্যাডভোকেট তার রাজনৈতিক মতামত জানতে চাইলে তিনি এক কথায় বলেন, আমি নিঃসন্দেহে বলব যে আইজেনহাওয়ার যুগের রিপাবলিকান দলের প্লাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত থেকে নিজেকে অনেকটা উদার রাখতে সক্ষম হয়েছি। যেটা এই দলের অন্যতম গুণ বলা যায়। ক্যাথলিক ও রক্ষণশীল পরিবারে বেড়ে ওঠা ম্যড্ডো প্রাইমটাইম খবর শো পরিচালনার করার জন্য শুধুমাত্র মুক্ত সমকামী আমেরিকান ম্যড্ডোর (এমএসএনবিসি) প্রোগ্রামের দর্শকের সংখ্যা ছিল লক্ষাধীক, তবে এদের অনেকেই তার প্রধান প্রতিদ্বন্দীও ছিলেন।
মারিসা ম্যায়ার
৩৮ বছর বয়সী মারিসা ম্যায়ার হচ্ছেন ইয়াহুর সবচেয়ে কম বয়সী সিইও। তিনি স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিল্প ও বিজ্ঞানের উপর ব্যাচেলর ডিগ্রী অর্জন করেন। পূর্বে ম্যায়ার গুগুল কোম্পানিতে দীর্ঘদিন ধরে নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করেন। যা তাকে প্রায় ৫০০ কোম্পানির সিইওর মধ্যে সবচাইতে তরুণী সিইও হিসেবে ঘোষণা করেন। ২০১২ সালে ম্যায়ার সর্বপ্রথম আমেরিকান ব্যবসায়ী নারীদের তালিকায় ১৪তম স্থান লাভ করেন ফরচুন ম্যাগাজিনের মাধ্যমে। ১৯৯৯ সালে তিনি সর্বপ্রথম গুগুলে যোগদান করেন, যখন গুগুলের কর্মী সংখ্যা ছিল মাত্র ২০ জন। যার মধ্যে ম্যায়ারই ছিলেন প্রথম মহিলা ইঞ্জিনিয়ার। গুগুল কোম্পানিতে তিনি একাধারে প্রায় ১৩ বছর পর্যন্ত একই সাথে ইঞ্জিনিয়ার, ডিজাইনার ও নির্বাহী পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন। মাত্র ২০ জন কর্মচারি নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু হলেও বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি সমগ্র বিশ্বব্যাপী স্থান করে নিয়েছে। যেখান থেকে ম্যায়ার পরবর্তী ইয়াহুর সিইও নির্বাচিত হন, যা তার জন্য অত্যন্ত গৌরবের। ম্যায়ার বলেন, গুগুলে তিনি একটি আশ্চর্যজনক সময় পার করেছে যা পরে তাকে ইয়াহুর উপর কাজ করতে যুক্তিসংগত ও সহজ সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করেছে।
