পশুর নদী ও সুন্দরবনে কারেন্ট জাল দিয়ে চিংড়ি পোনা আহরণ

আপডেট : ২১ এপ্রিল ২০১৩, ২১:০৮
সরকারি বিধি নিষেধ উপেক্ষা করেই মংলার পশুর নদী ও সুন্দরবনে মাছধরা নিষিদ্ধ খাল (অভয়ারণ্য) গুলোতে কারেন্ট জাল দিয়ে চিংড়ি পোনা ধরার মহোত্সব চলছে। অভিযোগ রয়েছে, জয়মনি পুলিশ ফাঁড়ির সাথে গোপন চুক্তি করে ওই এলাকার বেশ কিছু চিহ্নিত দাদন দাতার তত্ত্বাবধানে দিনের পর দিন এ অবৈধ ব্যবসা চলে আসছে। কারেন্ট জাল দিয়ে পোনা ধরা বন্ধে কোস্টগার্ড মাঝে মধ্যে অভিযান চালালেও পোনা ধরা বন্ধ হচ্ছে না। পোনা ধরার প্রধান উপকরণ এসব কারেন্ট জালসমূহ প্রশাসনের নাকের ডগায় মংলা শহরের আঃ হাই সড়কের বেশ কিছু চিহ্নিত দোকানে অবাধে বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। উল্লেখ্য, নদীতে কারেন্ট জাল দিয়ে সকল প্রকার মাছ ও মাছের পোনা আহরণ সরকার সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। কিন্তু এই নিষেধাজ্ঞায় কাজ হচ্ছে না। দেশে হ্যাচারিগুলোতে উত্পাদিত বাগদা ও গলদা পোনার চেয়ে ন্যাচারাল (স্বাভাবিকভাবে নদীতে প্রজনন) পোনার প্রতি ঘের মালিকদের অধিক আগ্রহ এবং চাহিদা থাকায় মৌসুমের শুরুতেই স্থানীয় দাদন দাতারা নদীতে পোনা ধরার কাজে জেলেদের উত্সাহ যোগায়। সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এসব অবৈধ ব্যবসার সাথে বহু লোক জড়িত। দাদন দাতারা স্থানীয়দের পাশাপাশি মোটা অংকের দাদন দিয়ে দূর-দূরান্ত থেকে বিশেষ করে পশ্চিম সুন্দরবন এলাকার জেলেদের নিয়ে এসে নদীর তীরে বাসা বেঁধে তাদের দিয়ে অবৈধভাবে পোনা ধরাচ্ছে। পোনা আহরণকারী জেলে ও দাদন দাতাদের কাছ থেকে মাসোহারা আদায় করার জন্য চাঁদপাই পুলিশ ফাঁড়ি থেকে ক্যাশিয়ার নিয়োজিত রয়েছে। এসব অবৈধ লেনদেনকে ঘিরে পুলিশ দাদন দাতা ও স্থানীয় প্রভাবশালীদের মধ্যে রয়েছে দারুণ সখ্যতা। এদিকে সুন্দরবনের অভ্যন্তরে পশুর নদী, হারবাড়িয়া, মরা পশুর, নন্দবালা ও ধানসিদ্ধিরচর এলাকায় হাজার হাজার জেলে অবৈধভাবে বাগদা ও গলদার পোনা আহরণের আড়ালে বিভিন্ন প্রজাতির মত্স্য সম্পদ ধংস করে ফেলছে। এর বিনিময়ে ওই সব এলাকার বন বিভাগের কর্মকর্তারা প্রতি পাক্ষিকে নৌকা প্রতি এক হাজার টাকা করে উেকাচ আদায় করছে বলে গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে মংলা থানার ওসি শেখ মুনীর উল গিয়াস জানান, নৌ পুলিশ ফাঁড়ির কোন সদস্য পোনা আহরণকারীদের কাছ থেকে উেকাচ আদায় করছে তেমন তথ্য তার কাছে নেই। তবে অভিযোগ পেলে তিনি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবেন। অপরদিকে সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক খলিলুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বনরক্ষীদের কারেন্ট জাল ব্যবহারের সুযোগ দিয়ে উেকাচ আদায়ের বিষয়টি অস্বীকার করেন।