যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন ম্যারাথনে বোমা হামলায় জড়িত থাকায় গ্রেফতারকৃত জোখার সারনায়েভকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ তদন্তকারী দল। হামলার ‘মোটিভ’ উদঘাটনের জন্য তাকে হাসপাতালেই তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হতে পারে। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অভিযোগ গঠন বা আদালতে হাজির করার বিধান থাকায় একজন বিচারক হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করবেন। শুক্রবার আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযানে গুরুতর আহত অবস্থায় আটক করা হয় সারনায়েভকে। তিনি এখন সশস্ত্র বাহিনীর অধীনে বোস্টন হাসপাতালে চিকিত্সাধীন আছেন। তার অবস্থা এখনও শংকামুক্ত নয়। তার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ আনা হবে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। তবে বিচার বিভাগের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সারনায়েভের বিরুদ্ধে সন্ত্রাস ও হত্যার অভিযোগ আনা হতে পারে। খবর সিএনএন ও বিবিসির।
ম্যাসাচুসেটসের গভর্নর ডেভ্যাল প্যাট্রিক বলেন, সারনায়েভের অবস্থা স্থিতিশীল হলেও কথা বলার মতো অবস্থা হয়নি। আমাদের সবার আশা ছিল তাকে জীবিত ধরার। কারণ আমাদের লাখো প্রশ্ন রয়েছে, এগুলোর উত্তর পেতে হবে। শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা তার নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন এবং হামলার কারণ কি থাকতে পারে তা জানতে চেয়েছেন। কেবল বারাক ওবামাই নন, পুরো যুক্তরাষ্ট্রবাসী অপেক্ষায় রয়েছেন জারনেভকে জিজ্ঞাসাবাদে কি তথ্য পাওয়া যায়।
সোমবার বোস্টন ম্যারাথনে পরপর দুটি বোমা হামলায় তিন জন নিহত ও দেড় শতাধিক আহত হয়। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে দুইজনকে আটকের জন্য গত বৃহস্পতিবারের অভিযানে সারনায়েভের ভাই নিহত হয়। শুক্রবার দিনভর অভিযানের পর সারনায়েভ ধরা পড়ে।
এদিকে ব্রিটেনের লন্ডন ম্যারাথনে অংশগ্রহণকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন ম্যারাথনে বোমা হামলায় নিহতদের স্মরণ করেছেন। ম্যারাথনে অংশগ্রহণকারী সবাই ৩০ সেকেন্ড নীরবতা পালন করেন। গতকাল রবিবার অনুষ্ঠিত লন্ডন ম্যারাথনে প্রিন্স হ্যারি উপস্থিত ছিলেন। দক্ষিণ-পূর্ব লন্ডনের ব্লাকহিথ থেকে শুরু হয়ে কিছু শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থান প্রদক্ষিণ করে বাকিংহাম প্যালেসের কাছে গিয়ে শেষ হয় লন্ডন ম্যারাথন। ম্যারাথনে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে প্রায় দশ হাজার অ্যাথলেটস বোস্টনের নিহতদের স্মরণে কালো কাপড়ের অন্তর্বাস পরেন। অনুষ্ঠানে লন্ডন ম্যারাথন চ্যারিটেবল ট্রাস্টের পৃষ্ঠপোষক প্রিন্স হ্যারি বলেন, বোস্টনে হামলার ভয়ে অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা যাবে না এটা কখনো হতে পারেন। ম্যারাথনের সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে যে, এখানে মানুষের রং, ধর্ম এবং জাতির পরিচয় প্রাধান্য পায় না।
