রাষ্ট্রপতিকে বিএনপি সমর্থন দেবে না বিরোধিতাও করবে না

আপডেট : ২১ এপ্রিল ২০১৩, ২২:২৯
আওয়ামী লীগ মনোনীত রাষ্ট্রপতি প্রার্থী আবদুল হামিদ এডভোকেট এর ব্যাপারে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি সতর্ক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে। তাকে বিএনপি মেনে নিচ্ছে, না প্রত্যাখ্যান করছে-সে ব্যাপারে দলটির কোন নেতাই স্পষ্ট করে মন্তব্য করছেন না। সিনিয়র নেতারা বলছেন, এনিয়ে দলীয় ফোরামে আলোচনা হবে। দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দিবেন। তবে দলের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, নয়া রাষ্ট্রপতিকে বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে সমর্থন দেবে না আবার বিরোধিতাও করবে না। তাকে পর্যবেক্ষণে রাখবে। বর্তমান অনিশ্চিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি হিসাবে আবদুল হামিদ এডভোকেট কি ভূমিকা নেন তার ওপর নির্ভর করছে বিএনপির মতামত। চলমান সংকট দূর করতে তিনি কি করেন তা দেখবে দলটি। তবে বিএনপির নেতারা প্রত্যাশা করেছেন যে, রাষ্ট্রপতি দলীয় মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করবেন। দেশের মানুষের স্বার্থ বিবেচনা করে নিজের দায়িত্বে সত্, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য থাকবেন, বিরোধী দলের অধিকার ও মর্যাদার বিষয়টিতে গুরুত্ব দেবেন। এ প্রসঙ্গে ইত্তেফাক প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং দলের মুখপাত্র হিসাবে দায়িত্বরত ড.খন্দকার মোশাররফ হোসেন, লে. জেনারেল অব. মাহবুবুর রহমান ও এমকে আনোয়ার। খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, আমরা রাষ্ট্রপতি হিসাবে বারবার দাবি করে এসেছি দল নিরপেক্ষ কাউকে। যিনি দলের ঊর্ধ্বে উঠে দেশ ও জনগণের কল্যাণের স্বার্থে কাজ করতে পারবেন। নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তিই এদেশে রয়েছেন। তাদের মধ্য থেকে বুঝে শুনে কাউকে নির্বাচিত করা হলে তা আরো গ্রহণযোগ্যতা পেত। তিনি বলেন, আবদুল হামিদের মতো দলীয় ব্যক্তির পক্ষে চলমান সংকট সমাধান করা সম্ভব নয়। এ নিয়ে আমাদের যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। কারণ স্পিকার হিসেবে তার আচরণ বিরোধী দলের প্রতি সহিষ্ণুতার পরিচয় দেয়নি। তিনি নিরপেক্ষতার পরিচয়ও সেভাবে দিতে পারেননি। লে. জেনারেল অব. মাহবুবুর রহমান বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে তার প্রতি শ্রদ্ধাশীল। কারণ অ্যাডভোকেট আবদুল হামিদ একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ। বিচক্ষণ ব্যক্তি। সেই প্রজ্ঞা ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তিনি নিরপেক্ষভাবে রাষ্ট্রের গুরুদায়িত্ব পালন করবেন-আমরা এটাই চাই। যদিও তিনি স্পিকার থাকাবস্থায় বিরোধী দলকে সংসদে নিতে ব্যর্থ হয়েছেন। এমকে আনোয়ার বলেন, আমরা চেয়েছিলাম একজন নির্দলীয় ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি করা হবে। দেশের প্রতিটি মানুষ প্রত্যাশা করে-রাষ্ট্রপতি দলীয় মতাদর্শের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করবেন । আগামীতে রাজনৈতিক সংকট উত্তরণে তার ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু স্পিকার হিসাবে তিনি বিরোধী দলের সঙ্গে যে আচরণ করেছেন তা ন্যক্কারজনক।