নিম্ন আদালতের বিচারকদের বেতন-ভাতা বাড়াতে সংসদে আইন পাসের কোন প্রয়োজন নেই বলে মত দিয়েছেন দেশের তিন শীর্ষ আইনজীবী। তারা বলেছেন, আদালতের আদেশ সংসদে যেতে পারে না। সর্বোচ্চ আদালতের আদেশের পর সংসদের অনুমোদনের কোন প্রয়োজন নেই। এমিকাস কিউরি হিসাবে শুনানিতে অংশ নিয়ে ড. কামাল হোসেন, ব্যারিস্টার রফিক-উল হক, সিনিয়র এডভোকেট এএফ হাসান আরিফ রবিবার আপিল বিভাগে এ অভিমত দেন। প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের ১০ বিচারপতির বেঞ্চে এ শুনানি হয়। আজও আবার শুনানি হবে।
শুনানির শুরুতে এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম একটি আবেদন উত্থাপন করলে আদালত শুনানির অনুমতি দিয়ে আইনগত যুক্তি উপস্থাপনের নির্দেশ দেন। আদালত বলেন, ইতিহাস শুনানোরও দরকার নেই। জবাবে এটর্নি জেনারেল বলেন, সংবিধানের ১৩৩ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, এই সংবিধানের বিধানাবলী সাপেক্ষে সংসদ আইনের দ্বারা প্রজাতন্ত্রের কর্মে কর্মচারীদের নিয়োগ ও কর্মে শর্তাবলী নির্ধারণ করতে পারেন। তাই বিচারকদের বেতন ভাতা নিয়ে সংসদে আইন প্রণয়ন করতে হবে। এ পর্যায়ে আদালত বলেন, আপনি কি মাসদার হোসেন মামলার রায় পড়েছেন? পড়ে আসা উচিত ছিলো? সংবিধানের ১৩৩ অনুচ্ছেদ তো বিচার বিভাগের জন্য প্রযোজ্য নয়। মাসদার হোসেন মামলার রায়ে এটা নির্ধারণ করা হয়ে গেছে। আপনারা কেন বারবার নির্বাহী বিভাগের সঙ্গে বিচার বিভাগের তুলনা করছেন? তারাতো পদ না থাকলেও পোস্টিং পান। বছরে ৬ বার বিদেশ সফরে যেতে পারেন। বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী বলেন, সংবিধানই বিচার কর্ম বিভাগে নিযুক্তদের অন্যদের থেকে আলাদা করেছে। তাই ১৩৩ অনুচ্ছেদ বিচারিক কর্মকর্তাদের জন্য প্রযোজ্য হবে না। বিচারিক কর্মকর্তারাতো সরকারকে সাহায্য করছে। তাদের বেতন ভাতা বাড়াতে আপনাদের এত সমস্যা কেন? এ সময় প্রধান বিচারপতি বলেন, “আপনি দেশের এটর্নি জেনারেল। দেশের এটর্নি জেনারেল হিসাবে সরকারকে যথাযথভাবে পরামর্শ দেন। সংবিধানের মূল কাঠামো নিয়েতো বড় বড় কথা বলেন। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ মৌল কাঠামো।
ড. কামাল হোসেন বলেন, ১৯২৬ সালে শেরে বাংলা একে ফজলুল হক বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য যে যাত্রা শুরু করেছিলেন সে যাত্রা আজও শেষ হয়নি। কাগজে কলমে হয়তো অনেক কিছু হয়েছে। কিন্তু চূড়ান্তভাবে বাস্তবায়ন না হলেতো হবে না। ড. কামাল বলেন, সিভিল সার্ভিস আর বিচার বিভাগ এক নয়। এটা নিয়ে ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের একাধিক রায় রয়েছে। আদালতের এক প্রশ্নের জবাবে ড. কামাল বলেন, আদালত আদেশ দেয়ার পর তা সংসদে যেতে পারে না। একই মত ব্যক্ত করেন ব্যারিস্টার-রফিক-উল হকও। তিনি বলেন, আদালতের আদেশ সংসদে যাওয়ার কোন সুযোগ নেই। তাহলেতো যে কোন রায়ই বাস্তবায়নের আগে সংসদে পাঠাতে হবে। তৃতীয় এমিকাস কিউরি হিসাবে দেয়া বক্তব্যে আদালতের আদেশ সংসদে যেতে পারে না বলে মত দেন সাবেক আইন উপদেষ্টা এএফ হাসান আরিফ। আদালতে আবেদনকারীদের পক্ষে ব্যারিস্টার আমীর উল ইসলাম শুনানি করেন।
