রংপুরে আওয়ামী লীগ অফিসে আগুন রাজশাহীতে মিছিলে বাধা

আপডেট : ২১ এপ্রিল ২০১৩, ২২:৩০
দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের মুক্তির দাবিতে গতকাল রবিবার রংপুর ও রাজশাহী বিভাগে বিএনপির ডাকা সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ঢিলেঢালাভাবে পালিত হয়। হরতালের আগের রাতে রংপুরের পীরগঞ্জে উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে কে বা কারা আগুন ধরিয়ে দেয়। হরতাল চলাকালে রংপুর-বদরগঞ্জ সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে এবং টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে পিকেটাররা। রাজশাহীতে পুলিশের বাধায় হরতালের পক্ষে বের হওয়া মিছিল পণ্ড হয়ে যায়। রংপুর প্রতিনিধি জানান, হরতালের শুরুতে জেলা বিএনপি অফিসের সামনে নেতা-কর্মীরা অবস্থান নিলেও কোন প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। দুপুরে বিএনপি কার্যালয় থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। তবে রংপুর-বদরগঞ্জ সড়কে গাছের গুঁড়ি ফেলে এবং টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করে পিকেটাররা। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এছাড়া হরতালের আগের দিন শনিবার রাতে পীরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে কে বা কারা অগ্নিসংযোগ করে। এতে অফিসের চেয়ার ও টেবিলে পুড়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ সদস্যরা আগুন নিভিয়ে ফেলেন। নাশকতার আশংকায় সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এদিকে হরতালের সমর্থনে নগরীতে বিক্ষোভ মিছিল করে জেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। এছাড়া প্রতিহতের ঘোষণা দিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে আওয়ামী লীগসহ ১৪ দলের নেতা-কর্মীরা। রাজশাহী অফিস জানায়, কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া হরতাল ছিল ঢিলেঢালা ও শান্তিপূর্ণ। হরতালে যানবাহন চলাচল ও দোকানপাট বন্ধ থাকলেও বাকি সবকিছুই ছিল প্রায় স্বাভাবিক। সকাল পৌনে ৭টার দিকে সদর হাসপাতাল এলাকা থেকে জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক এমপি নাদিম মোস্তফার নেতৃত্বে একটি মিছিল সাহেব বাজারের দিকে আসতে চাইলে মণিচত্ব্বর এলাকায় পুলিশ মিছিলের গতিরোধ করে। এনিয়ে নাদিম মোস্তফার সঙ্গে পুলিশের সহকারী কমিশনার রোকনুজ্জামানের বাকবিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে পুলিশ বিএনপি নেতা-কর্মীদের ছত্রভঙ্গ করতে ১০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি করে। অন্যদিকে মহানগর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনুর নেতৃত্বে হরতালের সমর্থনের অপর মিছিলটি বের করা হলে সোনাদীঘি মোড়ে পুলিশ বাধা দেয়। সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে সিরাজগঞ্জ-কাজিপুর আঞ্চলিক সড়কে হরতাল সমর্থকরা রাস্তা অবরোধ করে মিছিল ও সমাবেশ করে। এ সময় পুলিশ হরতালকারীদের রাস্তা থেকে সরে যেতে বললে উভয়ের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এ সময় ৩ রাউন্ড শটগানের গুলি নিক্ষেপ করে হরতালকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি জানান, শহরে ছাত্রদল ও মহিলা দলের নেতা-কর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল বের করে এবং বিভিন্ন পয়েন্টে পিকেটিং করে। হরতালের কারণে শহরে সকল দোকানপাট বন্ধ ছিল। অন্যদিনের তুলনায় অফিস-আদালত ও ব্যাংক পাড়ায় লোকজনের তেমন একটা উপস্থিতি ছিল না। দিনাজপুর স্টাফ রিপোর্টার জানান, হরতালে জেলার অধিকাংশ দোকানপাট, ব্যাংক-বীমা, অফিস-আদালত খোলা থাকলেও বাস চলাচল করেনি। তবে ট্রেন চলাচল ছিল স্বাভাবিক। হরতালের আওতার বাইরে থাকায় এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এদিকে দিনাজপুর কোতয়ালী পুলিশ পিকেটিং করার সময় শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে ৪ বিএনপি কর্মীকে আটক করেছে। তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।