ভৈরবে অগ্রণী কমার্স এন্ড ফাইন্যান্স এমসিএস লিমিটেড নামে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান গ্রাহকদের প্রায় ৬ কোটি টাকা নিয়ে উধাও হয়ে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। উচ্চ হারে সুদ পাওয়ার আশায় বিভিন্ন সঞ্চয় হিসাবে গ্রাহকরা এই টাকা জমা রেখেছিলেন।
গত কয়েকদিন ধরে গ্রাহকরা সঞ্চয় জমা দিতে গিয়ে দেখেন প্রতিষ্ঠানটি তালাবদ্ধ। এতে তাদের সন্দেহ হয়। খবরটি ছড়িয়ে পড়লে গতকাল রবিবার সকালে ভৈরব বাজার বটতলায় প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয়ে ছুটে যান শত শত গ্রাহক। তারা কার্যালয়টি ঘেরাও করেন, কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার মো. সামসুল আলম সুমনসহ কোন কর্মকর্তাকেই পাওয়া যায়নি।
সকালে শহরের বটতলা রোডে গিয়ে জানা যায়, প্রায় ৬ বছর আগে মো. সামসুল আলম সুমন নামে এক ব্যক্তি ‘অগ্রণী কমার্স এন্ড ফাইন্যান্স এমসিএস লিমিটেড নামের এই প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম শুরু করেন। প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ডে লেখা রয়েছে ‘সমবায় মন্ত্রণালয়ের আওতায় পরিচালিত’। শুরু থেকেই প্রতি লাখের বিপরীতে মাসে ১৬০০ টাকা করে সুদ দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটির উচ্চ সুদের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন মেয়াদের সঞ্চয় নিতে থাকে। কিছু দিন প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী গ্রাহকদের মুনাফা দিয়ে তারা বেশ আস্থা অর্জন করে। আর মোটা অঙ্কের মুনাফার খবরটি ছড়িয়ে পড়লে এলাকার ব্যবসায়ী, অবসরপ্রাপ্ত কর্মকতা-কর্মচারী থেকে শুরু করে শ্রমজীবী নারীরাও টাকা জমা দিতে থাকেন। অনেকেই তাদের পেনশন আর জীবনের সমস্ত সঞ্চয় জমা দিয়ে এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
গ্রাহকরা জানান, ঢাকার ১৭, পুরানা পল্টনে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয় বলে তারা জানেন। কিন্তু ব্যবস্থাপনা পরিচালক এরশাদের মোবাইল ফোনটি বন্ধ। প্রধান কার্যালয়ের টিএন্ডটি নাম্বারে ফোন করলে রিসিভ করা হচ্ছে, কিন্তু কেউ কথা বলছে না। প্রধান কার্যালয়সহ প্রতিষ্ঠানটির সকল শাখাই বন্ধ হয়ে গেছে বলে তারা খবর পেয়েছেন। গ্রাহকরা অভিযোগ করেছেন কারো সঞ্চয়ের মেয়াদ পূরণ হতে ৪ মাস, কারো ৬ মাস বাকি ছিল। এ রকম মুহূর্তেই সুযোগ বুঝে প্রতারক চক্র পালিয়ে গেছে।
ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মো. আলমগীর হোসেন জানান, আমরা এ খবর পেয়ে গতকাল রাতেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছি। কিশোরগঞ্জ শহরে এ সংস্থার ৩ জন কর্মকর্তাকে আটক করেছে জেলা পুলিশ। দেখা হচ্ছে তাদের মধ্যে কেউ ভৈরবের ছিল কি না।
