জামায়াতের তিন নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নিয়েছে ট্রাইব্যুনাল

আপডেট : ২১ এপ্রিল ২০১৩, ২২:৩৫
জামায়াতের তিন নেতার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ আমলে নিয়ে আগামী ৯ মে শুনানির দিন ধার্য করেছে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল। গতকাল রবিবার বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ দিন ধার্য করেন। এ বিষয়ে জামায়াত নেতাদের কোনো বক্তব্য থাকলে তা ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপনের জন্যও বলা হয়েছে। অভিযুক্ত তিন নেতা হলেন জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য হামিদুর রহমান আযাদ এমপি ও ঢাকা মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মো. সেলিমউদ্দিন। গত ৭ ফেব্রুয়ারি জামায়াতের এই তিন নেতার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগে কেনো ব্যবস্থা নেয়া হবে না সে বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে নোটিস জারি করে ট্রাইব্যুনাল। তাদের সশরীরে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়। কিন্তু তিন দফা সময় দেয়ার পরও তারা হাজির না হওয়ায় গত ৬ মার্চ তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল। এরপর গত ১০ মার্চ সেলিমউদ্দিনকে র্যাব গ্রেফতার করে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার পর বিচারক তাকে জামিন দেন। ওইদিনই আইনজীবীর মাধ্যমে লিখিত বক্তব্য জমা দেন সেলিম। বাকি দুইজনকে গ্রেফতারে সময় বাড়ালেও পুলিশ গ্রেফতার করতে পারেনি। গতকাল এ সংক্রান্ত আদেশে বলা হয়, সেলিমউদ্দিন যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন তাতে ট্রাইব্যুনাল সন্তুষ্ট নয়। এ কারণে তাকেসহ অপর দুই নেতার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ আনা হলো। উল্লেখ্য, সেলিমউদ্দিন গত ৪ ফেব্রুয়ারি মতিঝিলে এক সমাবেশে বলেন, দেশকে গৃহযুদ্ধ থেকে বাঁচাতে হলে বিতর্কিত ট্রাইব্যুনাল থেকে রায় দেয়ার কোনো সুযোগ নেই। হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, এ ট্রাইব্যুনাল আর এক মুহূর্তও চলতে পারে না। এছাড়া রফিকুল ইসলাম খান গত ৫ ফেব্রুয়ারি প্রেসব্রিফিং করে ট্রাইব্যুনালের বিচারাধীন বিষয়ে বক্তব্য দেন। এদিকে একই ট্রাইব্যুনালে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদের মামলায় তদন্ত কর্মকর্তার জেরা অব্যাহত রয়েছে। জেরা অসমাপ্ত অবস্থায় মামলার কার্যক্রম আজ সোমবার পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে। চট্টগ্রাম মেডিক্যালে চিকিত্সা নিয়েছিলেন সালাউদ্দিন কাদের :রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী এমপির বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের ২৭তম সাক্ষী ডা. এ কে এম সফিউল্লাহ। যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ দেয়া জবানবন্দিতে চট্টগ্রামের কোতয়ালী থানার বাসিন্দা সফিউল্লাহ বলেন, একাত্তর সালের সেপ্টেম্বর মাসের কোনো এক রাতে চট্টগ্রাম মেডিক্যালে আহত সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী আসেন। যতদূর মনে পড়ে তার পায়ে জখম ছিলো। আমরা তাকে প্রয়োজনীয় চিকিত্সা দিই। পরে তাকে উন্নত চিকিত্সার জন্য ঢাকা কিংবা দেশের বাইরে নেয়া হয় বলে শুনেছি। জবানবন্দি শেষে তাকে জেরা করেন সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর আইনজীবী আহসানুল হক হেনা। জেরায় এক প্রশ্নের জবাবে সাক্ষী বলেন, তিনি ছাত্র ইউনিয়ন করতেন। সালাউদ্দিন কাদের আপনার মতাদর্শের না হওয়ায় মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন আইনজীবীর এমন প্রশ্নের জবাবে সাক্ষী বলেন, একথা সত্য নয়। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপক্ষের এক কৌঁসুলি রানা দাশগুপ্ত এবং আমি ছাত্র ইউনিয়ন করতাম এজন্য তার শেখানো মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছি, একথাও সত্য নয়।