চিটাগং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার গ্যাস সংকটের কারণে বছরে ৩ মাসের বেশি চালু রাখা যাচ্ছে না। গত জানুয়ারি থেকে কারখানাটির পুনরায় উত্পাদন বন্ধ রয়েছে। মাসের পর মাস অচল থাকায় কারখানার যন্ত্রাংশের কার্যক্ষমতা কমে গেছে। গ্যাস সংকটে দেশের ৬টি সার কারখানার মধ্যে বর্তমানে একটি মাত্র কারখানা চালু রয়েছে। সিইউএফএল সূত্র জানায়, কারখানাটি মেরামতের জন্য সরকারিভাবে কোন বরাদ্দ পাওয়া যায় না। এফডিআরের টাকা দিয়ে চলেছে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও মেরামত কাজ।
চট্টগ্রামে চরম গ্যাস সংকটে সরকারি এই সার কারখানাটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বছরে প্রায় ৫ লাখ মেট্রিক টন উত্পাদন ক্ষমতাসম্পন্ন সার কারখানাটিতে দীর্ঘদিন ধরে স্থবিরতা বিরাজ করছে। অলস সময় কাটাচ্ছেন কর্মকর্তা ও শ্রমিক কর্মচারীরা। সংশ্লিষ্টরা জানান, কারখানাটি চালু রাখতে দৈনিক ৪৯ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন। গ্যাস ছাড়া বিকল্প কোন উপকরণ নেই যা দিয়ে সার উত্পাদন করা যায়। ২০০৭ সাল থেকে চট্টগ্রামে গ্যাসের চরম সংকট চলছে। সিইউএফএল সার কারখানাটি চালু করতে হলে চট্টগ্রামে গ্যাস নির্ভর বিদ্যুত্ কেন্দ্রগুলো বন্ধ রাখতে হয়। সূত্র জানায়, চট্টগ্রামে গ্যাস সংকট শুরু হওয়ার পর থেকে গত ৬ বছর ধরে কারখানাটি বছরে ৩ থেকে ৪ মাসের বেশি চালু রাখা যাচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কারখানাটির জন্য সরকারিভাবে কোন বরাদ্দ দেয়া হয় না। রক্ষণাবেক্ষণ ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা নিয়ে প্রতিমাসে প্রায় ২০ কোটি টাকা খরচ হয়। এর মধ্যে ৮০ শতাংশ টাকা ব্যয় হয় কারখানার মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ। কারখানায় উত্পাদিত সার বিক্রি করে প্রাপ্য টাকা ব্যাংকে এফডিআর করে রাখা হয়। বর্তমানে প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ কোটি টাকা এফডিআর রয়েছে। এই টাকা তিন মাস পরপর উত্তোলন করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও রক্ষণাবেক্ষণের ব্যয় যোগান দেয়া হচ্ছে। ১৯৮৭ সালে সিইউএফএলের উত্পাদন শুরু হয়।
বিসিআইসি সূত্র জানায়, ইউরিয়া সারের চাহিদা মেটাতে চড়া দামে আমদানি করতে হচ্ছে। এতে সরকারের কয়েক হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হচ্ছে।
