কক্সবাজার শহরের সাগরপাড়ে চারদলীয় জোট সরকারের আমলে বরাদ্দকৃত এবং বর্তমান মহাজোট সরকারের আমলে বাতিল হয়ে যাওয়া প্লটসমূহে নতুন করে স্থাপনা নির্মাণের হিড়িক পড়েছে। এসব প্লটে স্থাপনা নির্মাণে উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা অমান্য করে এবং প্রশাসনের একশ্রেণীর দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন জানান, খোঁজ নিয়ে তিনি ঘটনার বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় আসার ২ বছর পর কক্সবাজার শহরের সাগরপাড়স্থ হোটেল-মোটেল জোনের ১৩০ একর জমির মধ্যে এক একর বিশিষ্ট ৮৭টি প্লটের (একটি প্লট ছাড়া) বিপরীতে ৮৬.৩১ একর জমি বরাদ্দ দেয়া হয়। বরাদ্দ পান জোট সরকারের মন্ত্রী, এমপিসহ দলের বিভিন্ন স্তরের প্রভাবশালী নেতাকর্মীরা। পরে সাগর তীরবর্তী রাস্তাসহ ৮টি প্লটের ৮ একর জমি পুরোপুরি সাগরগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এছাড়া আরও ৩টি প্লটের জমি আংশিক বিলীন হয়। বাকীপ্লটগুলোর মধ্যে ৫৯টি প্লটের বরাদ্দ বিভিন্ন অনিয়ম ও শর্ত লংঘনের অভিযোগে মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০১০ সালে বাতিল করা হয়। এ ঘটনায় ৪৬ জন প্লট মালিক সরকারের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে মামলা করে। আদালত মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত উভয় পক্ষকে স্থিতাবস্থা বজার রাখার নির্দেশ দেন। এখনও কোন মামলা নিষ্পত্তি হয়নি। কিন্তু সাম্প্রতিককালে দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগে বাতিল প্লটে নতুন করে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের হিড়িক পড়েছে। গড়ে উঠছে মার্কেটসহ অসংখ্য দোকানপাট। এছাড়া রাস্তার দু’পাশের জমিও দখল করে নেয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে এসব বাতিল প্লটে এবং রাস্তার আশেপাশ দখল করে শতাধিক স্থাপনা নির্মিত হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের ‘ম্যানেজ’ করে এ ধরনের বেআইনী কর্মকাণ্ড চালানো হচ্ছে।
