রংপুর বিভাগে জুনের মধ্যে নির্মিত হচ্ছে ২৮ খাদ্যগুদাম

আপডেট : ২২ এপ্রিল ২০১৩, ২০:২৯
খাদ্যশস্যের সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও মজুদ বাড়াতে খাদ্যগুদাম বৃদ্ধির অংশ হিসেবে রংপুর বিভাগের ৭ জেলায় ২৮টি খাদ্যগুদাম নির্মাণের কাজ আগামী জুন মাসে সম্পন্ন হবে। এই কাজ সম্পন্ন হলে বাড়তি আরও ২ লাখ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য মজুদ করা যাবে। খাদ্য অফিস সূত্রে জানা যায়, দেশের ৩৯টি জেলায় ১শ’ ৭০টি খাদ্যগুদাম নির্মাণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে রংপুর বিভাগে এ সকল খাদ্যগুদাম নির্মিত হচ্ছে। বর্তমান সরকার ২০০৯ সালে ৩৯টি জেলায় ১শ’ ৭০টি খাদ্যগুদাম নির্মাণের প্রক্রিয়া শুরু করেন। এতে মোট ব্যয় ধরা হয় ২শ’ ৮৩ কোটি ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। বিগত ৪ বছরে বর্তমান সরকার খাদ্যশস্যের মজুদের পরিমাণ ১৫ লাখ টন থেকে বাড়িয়ে ১৭ লাখ টনে উন্নীত করে। আর বর্তমান নির্মাণাধীন খাদ্যগুদামসমূহ নির্মিত হলে ধারণ ক্ষমতা দাঁড়াবে ২০ লাখ টনে। সূত্রে জানা যায়, রংপুর বিভাগের নির্মাণাধীন খাদ্যগুদামসমূহের মধ্যে ঠাকুরগাঁও জেলার গড়িয়াহাট ১টি, ভুল্লিরহাট ১টি, বালিয়াডাঙ্গী ১টি, জাদুরানীতে ১টি, লাহিড়ীরহাটে ২টি, কুড়িগ্রাম জেলা সদরে ২টি ও চিলমারীতে ১টি, গাইবান্ধা জেলা সদরে ২টি ও কামদিয়ায় ১টি, নীলফামারী জেলার চিলাহাটিতে ২টি, সৈয়দপুরে ৩টি ও সদরে ১টি, লালমনিরহাটের হাতিবান্ধায় ১টি, পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ ১টি ও ফকিরগঞ্জে ১টি এবং দিনাজপুরের মঙ্গলপুর ১টি, পুলহাট ১টি, রানীরবন্দর ১টি, বিরল ১টি, হরিপাড়াহাট ১টি, কাহারোল ১টি ও সেতাবগঞ্জে ১টিসহ মোট ২৮টি খাদ্যগুদাম নির্মাণের কাজ শেষ পর্যায়ে। আগামী জুন মাসে এসকল কাজ শেষ হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। অন্যদিকে রংপুর জেলার ৯টি খাদ্যগুদামসহ মোট ৮৮টি খাদ্যগুদাম ছিল রংপুর বিভাগে। নতুন ২৮টি খাদ্যগুদাম নির্মিত হলে বিভাগের মোট খাদ্যগুদামের সংখ্যা দাঁড়াবে ১শ’ ১৬টিতে। পূর্বে ৮৮টি গুদামে মোট ধারণ ক্ষমতা ছিল ২ লাখ ২৫ হাজার মেট্রিক টন। বর্তমানে নির্মাণাধীন খাদ্যগুদামগুলো চালু হলে ধারণ ক্ষমতা অনেক গুণ বৃদ্ধি পাবে। এছাড়াও বর্তমানে সারাদেশে ৫টি সাইলো, ৯টি কেন্দ্রীয় খাদ্যগুদাম, ৬শ’ ৪টি স্থানীয় সংরক্ষণাগারসহ মোট ২ হাজার ৩শ’টি খাদ্যগুদাম রয়েছে। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্যের মোকাবেলা করার জন্য খাদ্যশস্যের সংরক্ষণ বৃদ্ধি করা প্রয়োজন বলে মনে করেন খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তাগণ। এরই ধারাবাহিকতায় সারাদেশে ১শ’ ৭০টি খাদ্যগুদাম নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়াও বর্তমানে দেশে খাদ্যশস্যের উত্পাদনের পরিমাণ ৩ কোটি ৬৮ লাখ টন। আর মোট খাদ্যগুদামে ধারণ ক্ষমতা ১৭ লাখ টন। এই ক্ষমতা বাড়াতে ২০১৬ সালের মধ্যে ২২ লাখ টন এবং ২০২১ সালের মধ্যে ৩০ লাখ টন খাদ্যশস্য সংরক্ষণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এছাড়াও রংপুর খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, জেলার প্রতিটি উপজেলায় ১টি করে এবং পীরগঞ্জের ভেন্ডাবাড়িতে ১টিসহ মোট খাদ্যগুদাম রয়েছে ৯টি। এ সকল খাদ্যগুদামে ধারণ ক্ষমতা ২০ হাজার মেট্রিক টন এবং দিনাজপুরের ২৬টি গুদামে বর্তমান ধারণ ক্ষমতা ৮২ হাজার মেট্রিক টন।