রবিবার দামেস্কে ব্যাপক গণহত্যা চালিয়েছে আসাদ বাহিনী। নারী ও শিশুসহ ৮৬ জনের মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখা গেছে। সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস(এসওএইচআর) জানায়, একটি ভ্রাম্যমাণ হাসপাতালে ঢুকে সরকারি বাহিনী অনেককে হত্যা করেছে। এদিকে সিরিয়ার বিদ্রোহীদের জন্য সাহায্য দ্বিগুণ করার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইস্তাম্বুলে ফ্রেন্ডস অব সিরিয়া বৈঠকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি সিরীয় বিদ্রোহীেদের জন্য নতুন করে ১২ কোটি ৩০ লাখ ডলারের মানবিক সাহায্য দেয়া হবে বলে জানান।
রবিবার সিরিয়ান ন্যাশনাল কোয়ালিশনের (এসএনসি) প্রেসিডেন্ট মোয়াজ আল খতিব পদত্যাগ করেছেন। এসএনসি এ ব্যাপারে পরবর্তী সভায় সিদ্ধান্ত নেবে। খতিব গত মাসেও পদত্যাগের চেষ্টা করেছিলেন। সিরিয়ায় সরকার বিরোধীদের বিশ্বসম্প্রদায় প্রয়োজনীয় সাহায্য না দেয়ায় তিনি হতাশা ব্যক্ত করেন। কোয়ালিশন তখন তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেনি। দামেস্কের শহরতলীতে ডজন ডজন লাশ পড়ে থাকতে দেখা যায়। এসওএইচআর জানায়, সেখানে ৮০টি মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। মৃতের সংখ্যা আরো বেশি হতে পারে। সেখানে ৪ দিন ধরে লড়াই চলছিল। রবিবার সকালে সরকারি বাহিনী পুরোপুরি এলাকাটির নিয়ন্ত্রণ নেয়। এ ঘটনাকে একটি “নির্মম হত্যাকাণ্ড” বলে বর্ণনা করেছে আন্দোলনকারীরা। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশু রয়েছে বলেও জানিয়েছে তারা। সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সানা জানিয়েছে, “জেদেইদেত আল ফিদেল এলাকায় সেনাবাহিনীর অভিযানে সন্ত্রাসীদের ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে। তাদের অনেক সদস্য নিহত ও আহত হয়েছে এবং অস্ত্র ও গোলাবারুদ ধ্বংস করা হয়েছে।”
সিরিয়ার বিরোধী দলীয় রেভুল্যুশন লিডারশিপ কাউন্সিল-এর সদস্য জামাল আল গোলানি জেদেইদেত আল ফিদেল এলাকায় নিহতের সংখ্যা ২শ’ ৫০জনের বেশি হবে বলে দাবি করেছেন। এদের অধিকাংশকেই খুব কাছ থেকে গুলি করে মারা হয় বলে জানিয়েছেন তিনি। এই এলাকায় ২শ’ ২০ জনেরও বেশি বিদ্রোহী আশ্রয় নিয়েছিল যাদের সঙ্গে কয়েকদিন ধরেই আসাদ অনুগত বাহিনীর লড়াই চলছিল। ওই কয়দিনেই এসব হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয় বলে দাবি করেন গোলানি। তিনি নিজে রাস্তায় পরে থাকা ৯৮টি মৃতদেহ গুণেছেন বলে দাবি করেন গোলানি। এছাড়া একটি অস্থায়ী ক্লিনিকে আশ্রয় নেয়া আহত আরো ৮৬ জনকে অল্প সময়ের মধ্যে মেরে ফেলা হয় বলেও জানিয়েছেন তিনি।
