লন্ডনে বাংলা মিডিয়া ১৮ দলের সংবাদ বর্জন করবে

আপডেট : ২২ এপ্রিল ২০১৩, ২২:৩০
লন্ডনে ১৮ দলীয় জোটের সব সংবাদ বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ব্রিটেনের বাংলা মিডিয়ার সংবাদকর্মীরা। চ্যানেল আই ইউকের নারী সাংবাদিক শাহ এমি হোসেনের উপর আক্রমণ এবং তাকে লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদে আয়োজিত এক সাংবাদিক সমাবেশে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সাংবাদিকের উপর আক্রমণের এ ঘটনার কোন সম্মানজনক সমাধান না হওয়া পর্যন্ত সংবাদ বর্জনের এ সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে। গত রবিবার পূর্ব লন্ডনের মাইক্রোবিজনেস সেন্টারে এ প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ ঘটনায় আক্রমণকারী এক জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে লাঞ্ছনা ও অপপ্রচারের মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্য ১৮ দলীয় জোট যুদ্ধাপরাধের বিচার বন্ধসহ সকল রাজনৈতিক নেতার মুক্তি দাবি করে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের সামনে এক প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধনের আয়োজন করে। এ কর্মসূচির সংবাদ সংগ্রহের জন্য গিয়েছিলেন চ্যানেল আই ইউকের প্রতিবেদক এমি হোসেন। এ সময় জোটের কয়েকজন নেতা এমিকে তাদের চাহিদামত সংবাদ প্রচারের অনুরোধ জানান। তারপর সংবাদ ধারণ করার সময় সাংবাদিক এমির প্রতিবেদনের বক্তব্যকে পক্ষপাতদুষ্ট অভিযোগ তুলে তার উপরে চড়াও হন কয়েকজন। তাকে মারধর করে ক্যামেরা কেড়ে নিয়ে ভেঙ্গে ফেলে আক্রমণকারীরা। ঘটনার পর তিনদিন পার হয়ে গেলেও জোটের পক্ষ থেকে ঘটনার সমাধানে কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। কোন প্রকারের দুঃখ প্রকাশও তারা করেননি। উল্টো ফেইসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে এমি হোসেনকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ প্রচারণা চালায় ১৮ দলের কর্মী সমর্থকরা। সর্বশেষ কোন সুষ্ঠু সমাধান না পেয়ে স্থানীয় বাংলা মিডিয়ার সাংবাদিকরা এ প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করেন। চ্যানেল আই ইউকের এমডি রেজা আহমদ ফয়সল চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সাংবাদিক সমাবেশে প্রধান বক্তা ছিলেন চ্যানেল এস এর চেয়ারম্যান আহমদ উস সামাদ চৌধুরী। বাংলা মিডিয়ার বিপুলসংখ্যক সাংবাদকর্মী এ সময় উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশে সাংবাদিক এমি ঐ দিনের ঘটনার বর্ণনা দেন। তিনি জানান, সমঝোতার আশ্বাস দিয়ে তাকে মামলা করা থেকে বিরত রাখা হয়েছিল। কিন্তু ১৮ দলের পক্ষ থেকে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। এ জন্য বাধ্য হয়ে তিনি আক্রমণকারী আক্তার কাওসার নামে এক জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে শারীরিক আঘাত এবং অপপ্রচারের অভিযোগ এনে মামলা করেছেন। আহমদ উস সামাদ চৌধুরী বলেন, সাংবাদিক এমির হামলাকারীদের অবশ্যই প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে।