সকলেই বিএনপি-জামায়াত সমর্থক

সহিংসতায় জড়িত ৬ উপজেলা চেয়ারম্যানকে অব্যাহতি

আপডেট : ২২ এপ্রিল ২০১৩, ২২:৫৯
সহিংসতায় জড়িত হলে কিংবা ইন্ধন দিলে স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধি তথা উপজেলা চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র, ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের বরখাস্ত করা হচ্ছে। সমপ্রতি দেশজুড়ে সহিংসতায় জড়িত থাকার অভিযোগে ছয়জন উপজেলা চেয়ারম্যান ও একজন ইউপি চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। এরা সকলেই বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত বলে জানা গেছে। এই চেয়ারম্যানরা এখন পলাতক রয়েছেন। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু আলম মো. শহীদ খান ইত্তেফাককে বলেন, জনপ্রতিনিধিরা যে দলের সমর্থক হয়ে থাকুন না কেন, তাদের দায়িত্ব জনসেবা। কিন্তু তাঁরা সে কাজ না করে যদি হিংসাত্বক কাজের মাধ্যমে জাতীয় সম্পদ ক্ষতি করেন এবং ফৌজদারি অপরাধের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েন তবে তাদেরকে আইনানুগভাবে অপসারণ করা ছাড়া উপায় নেই। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সকল জেলা প্রশাসককে চিঠি দিয়ে সহিংসতায় জড়িত স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধিদের তালিকা চাওয়া হয়েছে। যে কটি তালিকা পাওয়া গেছে, তবে ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এখনো অনেক জেলা থেকে তালিকা আসেনি আসা মাত্রই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি বলেন, অনেকে অপরাধে জড়িত থাকায় এখন গা ঢাকা দিয়েছেন। পরিষদের কাজকর্ম সচল রাখতে সেসব জায়গায় ভাইস চেয়ারম্যানদের দায়িত্ব দেয়া হচ্ছে। রামু বৌদ্ধ মন্দিরে হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বান্দরবন জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান তোফাইল আহামদ, কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান এ কে এম শাহাজালাল চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এ ছাড়া সামপ্রতিক রাষ্ট্রবিরোধী সহিংসতায় জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠায় কুষ্টিয়া সদর উপজেলার মোশাররফ হুসাইন, কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার আব্দুল গফুর, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাটের মোহাম্মদ বাবর আলী এবং শিবগঞ্জ উপজেলার কেরামত আলীকে দায়িত্ব খেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। এসব জায়গায় ভাইস চেয়ারম্যানদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। অপরদিকে সিলেট সদর উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি জালাল আহমেদকে গতকাল সোমবার দায়িত্ব থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সহিংসতায় জড়িত থাকাসহ তার বিরুদ্ধে সমপ্রতি ফৌজদারি অপরাধের ২০টি মামলা দায়ের হয়। তিনিও পলাতক। এ ছাড়া পঞ্চগড় জেলা জামায়াতের আমীর ও উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আব্দুল খালেকের সরকারি জিপ জব্দ করা হয়েছে। সরকারি জিপটি দলীয় কাজে ব্যবহার সংক্রান্ত গোয়েন্দা প্রতিবেদনের কারণে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে জানা যায়, সামপ্রতিক সহিংসতায় দেশের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান, সম্পদসহ স্থানীয় সরকার বিভাগের অনেকগুলো প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাংচুর ও সম্পদের ক্ষতি করা হয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে স্থানীয় সরকার বিভাগ সিদ্ধান্ত নেয় যে, যেসব জায়গায় স্থানীয় সরকার বিভাগের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সহিংসতায় জড়িত থাকবেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। সে আলোকে এ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ আইনে সরকার সুনির্দিষ্ট ফৌজদারি অপরাধে জনপ্রতিনিধিকে সাময়িক বরখাস্ত করতে পারে।