রুফাইদা হাসান নাফিয়া
মেঘলার বয়স ১০ বছর। দেখতে ছোট হলেও মাথায় তার বেশ বুদ্ধি। স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অন্যান্য খেলায় প্রাইজ না পেলেও স্মৃতিশক্তি পরীক্ষার খেলায় তার প্রথম প্রাইজ পাওয়া থেকে কেউ তাকে আটকাতে পারে না। মেঘলার ভূত বিষয়ে কৌতূহল ছিলো খুব। টিভিতে কোন ভূতের নাটক কিংবা সিনেমা হলে সে তা দেখতে কখনই ভুল করে না। তার খুব ইচ্ছা নিজের চোখে ভূত দেখার। মেঘলার রুমের পাশে একটা পুরনো স্কুল। স্কুলের বারান্দাটা বেশ বড়। মাঝে মধ্যে মেঘলার সেই বড় বারান্দাটা দেখে খুব ভয় লাগে। একদিন গভীর রাতে তার ঘুম ভেঙে গেলো। সে একটা বাচ্চা মেয়ের কান্নার আওয়াজ শুনতে পেল। সে সাহস করে বিছানা থেকে উঠল। সে বুঝতে পারল কান্নার আওয়াজটা ভেসে আসছে সেই পুরনো স্কুলের বারান্দা থেকে।
তার চোখ তো ছানাবড়া। সে দেখলো একটা বাচ্চা মেয়ে সাদা কাপড় পরা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কান্না করছে। মেঘলা জিজ্ঞেস করল মেয়েটিকে তুমি কান্না করছ কেন? মেয়েটি কিছুই বলল না। এরপর মেঘলা একটু বিরক্ত হয়েই মেয়েটিকে জিজ্ঞাসা করল। আমি তোমাকে কিভাবে সাহায্য করতে পারি। তখন বাচ্চা মেয়েটি কান্না থামিয়ে বলল, আমার জন্য কেউ যদি দু’ফোটা চোখের পানি ফেলে, তাহলে এখান থেকে আমি মুক্ত হতে পারব, তখন মেঘলা জিজ্ঞাস করল, তুমি এখানে কী করে এলে? তখন সে বলল আমরা হলাম ভূত। একদিন আমার মা-বাবা বলল, তুমি এখানে থাক, আমরা একটু ঘুরে আসি। কিন্তু তারা আর এল না। মেঘলার মনের অজান্তে দু’চোখ বেয়ে পানি পড়তে লাগল। তখন সেই মেয়েটির মুখে হাসি ফুটে উঠল। সেই বাচ্চা ভূত মেয়েটি মেঘলাকে জিজ্ঞাস করে তোমাকে কীভাবে সাহায্য করতে পারি। মেঘলা বলল গতকাল আমার পরীক্ষার খাতা দিয়েছে। কিন্তু রাস্তায় সে খাতাগুলো পড়ে গেছে। এখন যদি আমি পরীক্ষার খাতা কাল মিস-এর কাছে জমা দিতে না পারি তাহলে আমাকে রেজাল্ট কার্ড দেওয়া হবে না এবং আমাকে ফেল বলে গণ্য করা হবে। তখন বাচ্চা ভূত মেয়েটি মেঘলাকে বলল, তুমি কোন চিন্তা কর না। নিশ্চিন্ত মনে কাল স্কুলে যাবে। পরদিন মেঘলা মন খারাপ করে স্কুলে গেল। গিয়ে তো সে অবাক। তার ডেস্কে পরীক্ষার খাতাগুলো। সে খুব আনন্দিত হল এবং মনে মনে বাচ্চাভূত মেয়েটিকে ধন্যবাদ দিল।
