গল্প নয় সত্যি

অবিশ্বাস্য!

আপডেট : ২৩ এপ্রিল ২০১৩, ১৯:৫১
অ্যাকশন সিনেমার যারা ভক্ত তাদের কাছে অনেক উঁচু থেকে নায়কের লাফিয়ে পড়ে বেঁচে যাওয়ার দৃশ্য হয়তো নতুন কিছু নয়। তবে বাস্তব জীবনে বহুতল ভবন থেকে লাফ দিয়ে অক্ষত থাকার উদাহরণ যেমন দেখা যায় না তেমনি অমনতর দুঃসাহসও কেউ কোনোদিন করে দেখান না। তাছাড়া মাঝে মাঝে বেশ উঁচু থেকে পড়েও বেঁচে গিয়ে যারা সংবাদ হন তাদেরকেও মোকাবেলা করতে হয় ছোট-বড় আঘাতের। তবে কথায় বলে, সৃষ্টিকর্তা যাকে বাঁচাতে চান কোনো দুর্ঘটনাই নাকি তার গায়ে আঁচড় লাগাতে পারে না। আর এই কথার প্রমাণই যেন আরও একবার হাতেকলমে দেখিয়ে দিল জার্মানির ছোট্ট শিশু মারিয়া কোহলার। সম্প্রতি দুর্ঘটনাক্রমে চারতলা উঁচু ভবনের বারান্দা থেকে নিচে পড়ে গেলেও সামান্যতম আঁচড়ও লাগেনি মারিয়ার শরীরে। এমনকি এ ঘটনায় শরীরের কোথাও ফুলে যাওয়া বা চামড়া ছিলে যাওয়ার মতো মামুলি আঘাতও লাগেনি মারিয়ার। আর এ সবই সম্ভব হয় চারতলার ব্যালকনি থেকে একটি মোটা কাপড়ের ক্যানভাসের উপর পড়ার কারণে। মারিয়াদের বাসার ঠিক নিচেই কে বা কারা রোদ-বৃষ্টি থেকে বাঁচার জন্য এই চাঁদোয়াটি টাঙিয়েছিল তা জানা না গেলেও মারিয়ার বাবা-মা যে তার কাছে চিরকৃতজ্ঞ থাকবেন সেটি বলাই বাহুল্য। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, সেদিন মারিয়ার বাবা রে কোহলারের কাছে দুই বছর বয়সী মেয়ে মারিয়াকে রেখে কর্মস্থলে গিয়েছিলেন মা মেলেইন কোহলার। এরই মাঝে বাড়ির সামনে দিয়ে ট্রেন যাবার শব্দ শুনে ছুটে ব্যালকনিতে যায় মারিয়া। আর ট্রেন দেখতে গিয়েই একসময় অসাবধানতাবশত ব্যালকনি থেকে পিছলে নিচে পড়ে যায় মারিয়া। তবে ক্যানভাসের চাঁদোয়ার উপর পড়ার কারণে সরাসরি মাটিতে আঘাত করার পরিবর্তে খুব আস্তে করে পাশের ঘাসে নেমে আসে মারিয়া। এদিকে মারিয়ার দুর্ঘটনার খবর পেয়ে তার মা কর্মস্থল থেকে ছুটে এলেও মেয়েকে একেবারে অক্ষত অবস্থাতেই পান তিনি। তিনি বলেন, ‘এর আগে একদিন আমার হাত থেকে একটা আপেল মাটিতে পড়েও থেঁতলে গিয়েছিল। সেখানে আমার মেয়েটা যে কোনো ধরনের আঘাতই পায়নি সেটাকে অবিশ্বাস্য ও কাকতালীয় ঘটনাই বলতে হবে। তবে মারিয়া আমাকে কথা দিয়েছে যে সে আর কখনোই এভাবে ব্যালকনি থেকে ঝুঁকে পড়ে কোনোকিছু দেখবে না!’