শিমলা। এ দেশের অন্যতম জনপ্রিয় একজন চিত্রনায়িকা। সেরা অভিনেত্রী হিসেবে একাধিকবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেছেন তিনি। আগামী মাসে মুক্তি পেতে যাচ্ছে তার নতুন ছবি ‘রূপগাওয়াল’। নিজের বর্তমান ব্যস্ততা ও মিডিয়ার সাম্প্রতিক কিছু বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন বিনোদন প্রতিদিন-এর সাথে। সাক্ষাত্কার নিয়েছেন রবি হাসান
আপনার বর্তমান ব্যস্ততা প্রসঙ্গে বলুন—
এখন আসলে তেমন একটা ব্যস্ত নেই। যে কয়টা ছবিতে কাজ করেছিলাম তা প্রায় রেডি হয়ে আছে। যেমন নির্মলেন্দু গুণের ‘নেকাব্বরের মহাপ্রয়াণ’-এর ডাবিংও শেষ হয়েছে। ‘না মানুষ’ ছবিটি স্টপ হয়ে গেছে। অন্যদিকে মানবিক গল্পের সিনেমা অ্যাখ্যা দিয়ে ‘রূপগাওয়াল’ চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছেন হাবিবুর রহমান হাবিব। ডিজিটাল প্রজেক্টরের মাধ্যমে আগামী ৩১ মে দেশজুড়ে মুক্তি পাচ্ছে চলচ্চিত্রটি। মুক্তির আগেই কিছুটা আলোচনা সৃষ্টি করছে চলচ্চিত্রটি। গত ২৮ মার্চ সেন্সর বোর্ড থেকে প্রশংসাসহ আনকাট ছাড়পত্র পাওয়ার পর থেকেই চলচ্চিত্রাঙ্গনে আলোচনা ছড়ায় চলচ্চিত্রটি। এতে আমিসহ আরও অভিনয় করেছেন—সুপার হিরো নিলয়, চম্পা, মাসুম আজিজ, দেবাশীষ রায়, আনোয়ার শাহী। আলী আকবর রূপু ও নূর পলাশের সংগীত পরিচালনায় ছবিটিতে গান গেয়েছেন সাবিনা ইয়াসমিন, মমতাজ, রিংকু, সালমা ও পারভেজ। এই ফিল্মটি নিয়ে আমি অনেক বেশি আশাবাদী। কারণ এ ধরনের গল্পে এখনকার সময়ে খুব একটা কাজ হয় না। দর্শক ভালোভাবে নিতে পারবে বলে মনে হয়, যদি না পারে তাহলে তো আমাদেরই ব্যর্থতা।
আপনি তো একাধিবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেছেন, এই পর্যায়ে এসে অনেকটা অফ হয়ে গিয়েছেন বলে মনে হচ্ছে, এর কারণ কী?
সবাই তো অন হতে চায়, অফ তো কেউ হতে চায় না। আমিও অন থাকতে চাই। ভাগ্যটা অনেক বড় জিনিস, তাকে মেনে নিতে হবে। আমি চাইলেই যে সব পাব তা নয়। ফ্ল্যাশব্যাকে যদি দেখা যায় তাহলে দেখবেন যে, ইয়ারলি যে খুব বেশি কাজ করেছি তা নয়। আমি অনেকটা এ রকমই কাজ করেছি। তার উপরে পরিস্থিতির শিকার ছিলাম আমরা। ২০০২ থেকে সাত-আট বছর অশ্লীলতায় ভরা ছিল, তখন নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রেখেই কাজ করতে হয়েছে। তবে হ্যাঁ, এখন আরও বেশি কাজ করতে পারলে ভালো হতো। এখন এটাকে টেস্ট বলেন, ওয়ানডে বলেন আর টি-টুয়েন্টিই বলেন না কেন, আমি হ্যাপি।
চলচ্চিত্রের পাশাপাশি তো এখন আপনি মাঝেমধ্যেই ছোটপর্দায় কাজ করছেন। এর উদ্দেশ্যটা কী জানতে পারি?
ফিল্ম হচ্ছে বিশাল মাধ্যম, এতেই নিয়মিত কাজ করতে চাই। আমার কোনো অতৃপ্তি নেই। আমি যখন ক্লাস টু কিংবা থ্রিতে পড়তাম তখন থেকেই স্বপ্ন ছিল যে অভিনেত্রী হব, হয়েছিও। আর নাটকে অভিনয় করাটা একটু ভিন্ন কারণ। অশ্লীলতার কারণে আমাদের অনেক দর্শক হলবিমুখ হয়ে পড়েছে। তারা সিনেমা দেখাটাও বন্ধ করে দিয়েছে। সেসব দর্শকদের জন্য মাঝে মধ্যে নাটক বা বিজ্ঞাপনের কাজটা করে থাকি।
শাবনূর-মৌসুমীর পর এ পর্যন্ত অনেক চিত্রনায়িকাই আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে এসেছেন। কিন্তু তারা কেউ শাবনূর-মৌসুমী বা শাবানা-ববিতার মতো জনপ্রিয় হতে পারেননি। এর কারণটা কী বলে মনে হয়?
যাদের নাম বললেন, তারা আমার খুবই প্রিয় অভিনেত্রী। আমি যখন ছোট ছিলাম, শাবানা ম্যাডাম, ববিতা ম্যডাম, তারপর মৌসুমী আপু, শাবনূর আপু—তাদের কাজ দেখে আমি আসলে অনুপ্রাণিত হয়েছি। আসলে কারও জায়গা কেউ নিতে পারে। সবাই তো এক রকম জনপ্রিয় হতেও পারেন না। একেক জনের জনপ্রিয়তা একেক রকম। আমাদের মাতৃভূমিতে ষোল কোটি মানুষ আছেন, তারা সবাই কি ফিল্মে কাজ করতে পেরেছেন, যে যতটুকু পায় সেটা তার জন্য উপযুক্ত, এটাই তার ভাগ্য। আমি মনে করি যে, আমি যা পেয়েছি, যতটুকু হয়েছি তাতে অনেক অনেক সন্তুষ্ট।
আমাদের দেশের চিত্রনায়িকারা ফিটনেসের ব্যাপারে অতটা মনোযোগী না, তাদের চেয়ে মনোযোগী নাটকের তারকারা। এই অমনোযোগী হওয়ার কারণটা কী বা কেন? যেখানে আমাদের আশপাশের দেশে লক্ষ করলে দেখা যায় অনেক তারকারা নিয়মিত ফিটনেস টিপস নিয়ে বিভিন্ন ডিভিডিও বাজারে ছাড়ছে।
এটা একটা তারকার জন্য খুবই জরুরি। যদি কোনো প্রতিষ্ঠানে জব করত তাহলে মানা যেত না যে, তার এই বিষয়ে সচেতনতার প্রয়োজন অতটা নেই। আমি শিমলা একা ইন্ডাস্ট্রি নই, তারপরও আমি নিজেকে অনেকটাই সামলে নিয়েছি। আশপাশে যারা আছেন, তারা কেন সচেতন হন না তা বুঝছি না, কারণও জানি না। তাদের কাছে জিজ্ঞেস করলে বলে যে, এই তো শুকিয়ে যাব, কমে যাব। এইভাবেই বলে। তারা অভিনয়ে অনেক বেশি গুণী, কিন্তু এই বিষয়টা নিয়ে কেন অসচেতন বুঝছি না। আর টিভিতে যারা কাজ করে তাদের ফিল্মে কাজ করার একটা বড় স্বপ্ন থাকে, এই টার্গেট থেকেই হয়তো তারা এই বিষয়ে বেশি সচেতন।
