প্রযুক্তির চরম উত্কর্ষতার এই যুগে মানুষ অতিমাত্রায় প্রযুক্তি নির্ভর হয়ে পড়েছে। উত্তরোত্তর সেই প্রযুক্তি ব্যবহারের সহজলভ্যতা অর্জন এখন সময়ের দাবি। এরই ধারাবাহিকতায় গৃহে কিংবা অফিসে বিদ্যুত্চালিত সকল প্রকার প্রযুক্তির সয়ংক্রিয় ব্যবহার তাই সময়ের সাথে সাথে পাল্লা দেয়ায় পরিণত হয়েছে। এই দাবিকে বাস্তবে রূপদান করতে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র শাহাদাত হোসেন শাহীন। এক্ষেত্রে দীর্ঘ নয় মাস নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছেন শাহীন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত পদার্থ, ইলেকট্রনিক্সস অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক সহকারী অধ্যাপক মোঃ খালিদ হোসেন জুয়েলের তত্ত্বাবধানে একই বিভাগের ছাত্র শাহীন “Intelligent Home Appliances Automation System” নামক বিদ্যুত্ সাশ্রয়ী নতুন একটি স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতির আবিষ্কার করেছেন। আবিষ্কৃৃত এই পদ্ধতির মাধ্যমে নাগরিক জীবনে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনার ইঙ্গিত দিচ্ছেন নির্মাতারা। সম্প্রতি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সরাসরি পদ্ধতিটির ব্যবহার কেমন হবে তা প্রদর্শন করে উক্ত পদ্ধতির গুণাবলী ও ব্যবহার বিধি সম্পর্কে জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বিষ্ময়কর আবিষ্কৃৃত এই পদ্ধতিটির আবিষ্কর্তা শিক্ষক মোঃ খালিদ হোসেন জুয়েল ও ছাত্র শাহাদাত হোসেন শাহীন জানান, এই যন্ত্রের মাধ্যমে বৈদ্যুতিক বাতি, পাখা, টেলিভিশনসহ বিদ্যুত্ চালিত সকল ধরনের যন্ত্রপাতি প্রয়োজনের মুহূর্তে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হবে এবং বন্ধ হবে। এর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো হল কোন কক্ষের ভেতরে মানুষ প্রবেশ করলে বৈদ্যুতিক বাতি, পাখা, টেলিভিশনসহ সকল বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি সংক্রিয়ভাবে সচল হবে আবার কক্ষ ত্যাগ করলে বন্ধ হয়ে যাবে। ফলে এই পদ্ধতি ব্যবহারের মাধ্যমে যেমনিভাবে সহজ হবে নাগরিক জীবন তেমনি অনেকখানি রোধ হবে বিদ্যুত্ অপচয়। তাছাড়া প্রয়োজনে এই পদ্ধতির মাধ্যমে কোন বাড়ি বা কোন অফিস কক্ষের ভেতরে কতজন লোক প্রবেশ করলো, বের হল এবং কতজন ভিতরে অবস্থান করছে তাও বাহিরে থেকে জানা যাবে। এই পদ্ধতি ব্যবহারের মাধ্যমে এক ছাত্র যখনই নিজের পড়ার টেবিলে বসবেন ঠিক তখনই সয়ংক্রিয়ভাবে তার পড়ার টেবিলের বাতিটি জ্বলে ওঠবে। ঠিক একইভাবে কোন ব্যক্তি যখন ঘুমাতে যাবেন তখন তাকে কোন ছুইচ বন্ধ করতে হবে না বরং সয়ংক্রিয়ভাবেই কক্ষের আলো নিভে যাবে। তাছাড়া অন্ধ, শারীরিক প্রতিবন্ধী লোকদের জন্য পদ্ধতিটি বিষ্ময়কর আশার আলো দেখাচ্ছে। পদ্ধতিটি সক্রিয় করতে যা লাগবে তা হলো- পিক মাইক্রোকন্ট্রোলার ১৬F৮৪A, IC-LM358, LM-7805, ট্রান্সফার, রিচার্জেবল ব্যাটারী, IR লেড, রেজিস্টর ও ক্যাপাসিটর। দীর্ঘ নয় মাস যাবত্ গবেষণা করে এটি আবিষ্কার করেছেন সাংবাদিকদের জানান। পদ্ধতিটি যেকোন বাড়ি বা কক্ষে ব্যবহার উপযোগী করতে খরচ হবে মাত্র ৬৬৫ টাকা।
প্রজেক্টের তত্ত্বাবধায়ক খালিদ হাসান জুয়েল জানান, সরকার কিংবা অন্য কোন প্রতিষ্ঠান যদি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয় তাহলে তারা অতিদ্রুত ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়ন করার স্বপ্ন দেখেন। বাংলাদেশের মত দরিদ্র ও উন্নয়নশীল দেশের জন্য এটি একটি দৃঢ় পদক্ষেপ হতে পারে বলে মনে করেন তিনি। তিনি বলেন বাংলাদেশে এই ধরনের প্রজেক্ট এত স্বল্প মূল্যে এবং খুব সাধারণ কিন্তু স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই প্রথম। আমরা আশা করি খুব শীঘ্রই আমরা সফলতার সাথে এই পদ্ধতির ব্যবহার সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে পারব।
