পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

অন্যরকম শিক্ষা সফর

আপডেট : ২৩ এপ্রিল ২০১৩, ২০:০৯
বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস জীবন। ক্লাস, পরীক্ষা, অ্যাসাইনমেন্ট ও সেমিনার উপস্থাপনার এক ব্যস্তময় মুহূর্ত। এগুলো শেষ করে আবার ব্যাগ কাঁধে ঝুলিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে চড়ে বাসায়, আবাসিক হলে অথবা মেসে যাওয়া। যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে যুক্ত তাদের বিকেলে থাকে বিভিন্ন প্রোগ্রাম। একঘেয়েমি জীবনে কর্মচাঞ্চল্য ফিরিয়ে আনতে এবারের গরমের প্রথম দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও সাংস্কৃতিক সংগঠন আয়োজন করে ব্যতিক্রমি সব শিক্ষাসফর। আর তাই নিজেদের চলতি জীবনে গরমের একটুখানি দখিনা হাওয়ার হিমেল পরশ ছড়িয়ে দিতে সম্প্রতি দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী ধানসিঁড়ি ছাত্র কল্যাণ সমিতি আয়োজন করে এক বন্ধুত্বপূর্ণ হাসি, গান আর আনন্দের শিক্ষাসফর। শিক্ষা সফরের গন্তব্যের তালিকায় ছিল বাবুগঞ্জের কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, বহিস্থ ক্যাম্পাস, এনিম্যাল হাজবেন্ড্রী এন্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদ, ঐতিহাসিক দুর্গাসাগর, দৃষ্টিনন্দন গুঠিয়া বায়তুল আমান জামে মসজিদ, চাখারে শের-ই বাংলা এ কে ফজলুল হকের বাড়ি ও স্মৃতি জাদুঘর, রহমতপুর বিমান বন্দর ও নারিকেল বাড়িয়া। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের কেন্দ্রীয় গ্যারেজের সামনে বকুলতলায় সকাল ৭টায় জড়ো হওয়ার কথা থাকলেও সবাই নিজেকে সাজিয়ে-গুছিয়ে আসতে সকাল ৮টা বেজে যায়। পরে হুড়মুড় করে ক্যাম্পাস থেকে বাসে উঠার সাথে সাথেই শুরু হয় আনন্দ ভ্রমণ। আওয়াজ দেয় কৃষি অনুষদের মৌসুমি, তামান্না, মারিয়া, বিকাশ, কলি, উর্মি, স্মরণিকা রায় ও লুচি, সিএসই অনুষদের হুমায়ুন ও শোয়েব, বিবিএ অনুষদের শিক্ষার্থী সারা, সনন এবং ওয়াদুদ। পুরো ৩ ঘন্টা বাসে হৈ-হুল্লোড় শেষে সকাল সাড়ে ১০টায় বাস থামে। আবারো চিরাচরিত আওয়াজ দিয়েই সবাই নেমে যায়। দুপুরে সবাই খাওয়া-দাওয়া সেরে আবার সমুদ্র সৈকতে। দীর্ঘদিন ক্যাম্পাসের এক ঘেয়েমি জীবনের গ্লানি থেকে মুক্ত হতে এখানের নারকেল গাছের নিচে সবাই বুক ভরে নিঃশ্বাস নেয়। দীর্ঘদিন খাঁচায় ভর্তি বিষণ্নমনা পাখিরা আজ মুক্তি পেয়েছে। দুপুর ২ টায় এখান থেকে চললাম দুর্গা সাগরের দিকে। সাগরের সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে পানি ছিটাছিটি শিক্ষার্থীদের নিয়ে যায় ছোট বেলার হারিয়ে যাওয়ার সেই স্মৃতিতে। এবার যাত্রা শুরু হয় চাখার শের-ই বাংলার বাড়িতে। সেখানে স্মৃতি জাদুঘর ও চাখার সরকারি কলেজ দেখে খানিক বিশ্রাম নিয়ে বিকাল সাড়ে ৪টায় রওয়ানা হলাম গুঠিয়া মসজিদ কমপ্লেক্সে। এবারে যেন আগের চেয়ে আরো বেশি আনন্দ উপভোগ করা। এবার ফিরে আসার গল্প। ক্যাম্পাস ছেড়ে যাওয়ার সময় ধানসিঁড়ি সমিতির উপদেষ্টামন্ডলি ও শিক্ষার্থীদেরকে যেমনটা দেখাচ্ছিল তার উল্টোটা ঘটে ঠিক ফিরে আসার সময়। সবার চোখে-মুখে কেমন যেন একরাশ বিরক্তি/ বিষণ্নতা ও মনমরা ভাব! চলে আসতে চাইলে কি এই মজার মজার জায়গা থেকে আসা যায়! বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস জীবন মানেই অন্যরকম এক জীবন। আর এ ক্যাম্পাসের একেকটি শিক্ষা সফর যেন একেকটি আনন্দময় ইতিহাস। যার মাধ্যমে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যকার দূরত্বটা সাময়িকের জন্য হলেও কাছে চলে আসে, যা সত্যি আনন্দদায়ক। অবশেষে এই আনন্দঘন ভ্রমণ রাত ১০টায় ক্যাম্পাসে ফিরে আসার মাধ্যমে শেষ হয়।